ইরানে মার্কিন হামলায় সেতু-রেলস্টেশন-বিমানবন্দর ধ্বংস, নিহত ৭, পাল্টা ক্ষেপণাস্ত্র তেহরানের

America Attack Tehran Photo-SNS

যুদ্ধবিরতির চুক্তি ভেঙে যাওয়ার পর টানা ষষ্ঠ দিন একে অপরের উপর হামলা চালাল আমেরিকা ও ইরান। বৃহস্পতিবার গভীর রাতে ইরানের একাধিক অসামরিক ও সামরিক পরিকাঠামো লক্ষ্য করে বিমান হামলা চালায় মার্কিন সেনা। হামলায় ৩টি সেতু, ১টি রেলস্টেশন, ১টি বিমানবন্দর-সহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ পরিকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ইরানের সরকারি টেলিভিশনের দাবি, হরমোজগান প্রদেশে সড়ক ও রেলপথে হামলায় অন্ততপক্ষে ৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। পাশাপাশি বিভিন্ন হামলায় মোট ৪০ জনের বেশি নিহত এবং ৩০০-রও বেশি আহত হওয়ার খবর দিয়েছে তেহরান।

এই হামলার পরই পাল্টা জবাব দিতে শুরু করেছে ইরান। জর্ডনে অবস্থিত মার্কিন বিমানঘাঁটিকে লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালানো হয়। হামলার আশঙ্কায় কাতারে জারি হয় বিশেষ সতর্কতা। প্রশাসনের তরফে জরুরি প্রয়োজন ছাড়া নাগরিকদের বাড়ি থেকে বাইরে না বেরোনোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এর আগে মার্কিন হামলার জবাবে বাহরিন ও কুয়েতেও আঘাত হেনেছিল তেহরান।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আগেই হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন, হরমুজ প্রণালী নিয়ে ইরান তার অবস্থান না বদলালে দেশের গুরুত্বপূর্ণ পরিকাঠামো ধ্বংস করে দেওয়া হবে। সেই হুঁশিয়ারির পরই সেতু, রেলপথ, বিমানবন্দর এবং উপকূলবর্তী সামরিক ও নজরদারি কেন্দ্রগুলিকে লক্ষ্য করে ব্যাপক হামলা শুরু করে মার্কিন বাহিনী। মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের দাবি, যুদ্ধবিমান, ড্রোন ও যুদ্ধজাহাজ থেকে নির্ভুল অস্ত্র ব্যবহার করে ইরানের বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, সামরিক রসদ কেন্দ্র এবং উপকূল অঞ্চলের সামরিক ঘাঁটিতে আঘাত হানা হয়েছে। তাদের আরও দাবি, পশ্চিম এশিয়ায় মোতায়েন থাকা ৫০ হাজারেরও বেশি মার্কিন সেনা যে কোনও পরিস্থিতি মোকাবিলার জন্য প্রস্তুত।


সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ইরানের দক্ষিণ উপকূল। আহভাজ, কেশম, বুশেহর, দাশতি, বোস্তান, সিরিক, বন্দর-এ-লেঙ্গেহ, বন্দর-এ-খামির এবং বন্দর আব্বাসে একের পর এক বিস্ফোরণের খবর মিলেছে। বন্দর-এ-খামিরের কাছে ৩টি সেতু ধ্বংস হয়েছে। ইরান শহরের বিমানবন্দরও হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে একাধিক এলাকায়। এক সংবাদ মাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, কিশ দ্বীপেও বিমান হামলার জেরে সাময়িকভাবে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়।

অন্যদিকে, ইরানের সামরিক বাহিনীর খাতাম আল-আনবিয়া সদর দপ্তরের মুখপাত্র কর্নেল ইব্রাহিম যুলফাগারি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, আমেরিকা যদি ইরানের সেতু ও বিদ্যুৎকেন্দ্রে হামলা চালানো অব্যাহত রাখে, তবে গোটা অঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ পরিকাঠামো লক্ষ্য করে আরও বড় আঘাত হানবে তেহরান। তাঁর স্পষ্ট বার্তা, ‘হরমুজ প্রণালী ইরানের অলঙ্ঘনীয় রেড লাইন। কোনও পরিস্থিতিতেই সেখানে আমেরিকার হস্তক্ষেপ মেনে নেওয়া হবে না।’

এদিকে, মার্কিন নাগরিকদের উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে ট্রাম্প দাবি করেছেন, ‘যুদ্ধ আমাদের পরিকল্পনামাফিক এগোচ্ছে। খুব শীঘ্রই এই অভিযানের ফল বিশ্ব দেখতে পাবে।’ হরমুজ প্রণালী ঘিরে এই সংঘাত আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও জ্বালানি বাজারে নতুন করে উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে। বিশ্বের সমুদ্রপথে তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাস পরিবহণের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই প্রণালী দিয়েই হয়। ইতিমধ্যেই কমে গিয়েছে জাহাজ চলাচল। ঊর্ধ্বমুখী তেলের দাম। বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা, সংঘাত আরও বাড়লে ভারত-সহ তেল আমদানিনির্ভর দেশগুলিতে জ্বালানি, পরিবহণ এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম আরও বাড়বে।