প্রায় দু’বছর ধরে চলা লাগাতার ছাত্র আন্দোলন এবং দুর্নীতির অভিযোগ ঘিরে বাড়তে থাকা জন-অসন্তোষ এই দুইয়ের জেরে প্রেসিডেন্ট পদ ছাড়লেন সার্বিয়ার আলেকজান্ডার ভুচিচ। তবে রাজনীতি থেকে বিদায় নিচ্ছেন না তিনি। আগামী ২৫ অক্টোবরের আগাম সংসদীয় নির্বাচনে তাঁর দল সার্বিয়ান প্রগ্রেসিভ পার্টি বা এসএনএস জিতলে প্রধানমন্ত্রী হওয়ার লক্ষ্যে এবার নির্বাচনে লড়বেন ভুচিচ।
রবিবার বেলগ্রেডে প্রেসিডেন্টের বাসভবনের বাইরে সমর্থকদের সামনে পদত্যাগের কথা ঘোষণা করেন ভুচিচ। এরপরেই পদত্যাগপত্রে সই করেন তিনি। জাতীয় সংসদের স্পিকার আনা ব্রনাবিচ তাঁর জায়গায় ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব নেবেন। নতুন প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত না হওয়া পর্যন্ত তিনি এই দায়িত্ব পালন করবেন। সংবিধান অনুযায়ী, ৩ মাসের মধ্যে প্রেসিডেন্ট নির্বাচন করতে হবে।
পদত্যাগের কয়েক ঘণ্টা আগেই ভুচিচ ৪৯ জনকে ক্ষমা করার সিদ্ধান্তের কথা জানান। তাঁদের মধ্যে ২৩ জনের বিরুদ্ধে গত দেড় বছর ধরে চলা আন্দোলনের কারণে মামলা হয়েছিল। পদত্যাগের আগে ৪৯ জনকে ক্ষমা করার সিদ্ধান্ত নিয়েও ভুচিচকে ঘিরে তৈরি হয় বিতর্ক।
ভুচিচের বিরুদ্ধে ছাত্র আন্দোলন শুরু হয়েছিল ২০২৪ সালের ১ নভেম্বর নোভি সাদ রেলস্টেশনের একটি কংক্রিটের ছাউনি ভেঙে পড়ে ১৬ জনের মৃত্যুর পর। সেই ঘটনার পর দুর্নীতি, সরকারি কাজে স্বচ্ছতার অভাব এবং রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানে রাজনৈতিক হস্তক্ষেপের অভিযোগ তুলে পথে নামেন বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়ুয়ারা। পরে আন্দোলনে সমাজের বিভিন্ন অংশের মানুষও যোগ দেন। ভুচিচ ও তাঁর সহযোগীরা অবশ্য সরকারের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।
চলতি মাসের শুরুতেই ভুচিচ ২৫ অক্টোবর সংসদীয় নির্বাচনের দিন ঘোষণা করেন। সেই নির্বাচনে ‘স্টুডেন্টস উইন’ নামে আন্দোলনে নেতৃত্ব দেওয়া ছাত্রদের সমর্থনে তৈরি একটি প্রার্থী তালিকাও নির্বাচনে অংশ নিচ্ছে। তাদের কর্মসূচিতে দুর্নীতির তদন্ত, সরকারি প্রতিষ্ঠানে রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ বন্ধ এবং সরকারি অর্থ ব্যবহারে স্বচ্ছতার দাবি রয়েছে।
২০১৪ সালে প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পর ২০১৭ সালে প্রেসিডেন্ট হন ভুচিচ। তারপর থেকেই সার্বিয়ার রাজনীতিতে তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছেন। ২০২২ সালে দ্বিতীয়বার প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হওয়ার পর তাঁর দ্বিতীয় পাঁচ বছরের মেয়াদ চলছে। তৃতীয়বার প্রেসিডেন্ট হওয়ার সুযোগ না থাকায় এবার সংসদীয় নির্বাচনে প্রধানমন্ত্রী পদে লড়ার পথ বেছে নিয়েছেন তিনি।
ভুচিচের পদত্যাগে সার্বিয়ায় একই সঙ্গে সংসদীয় ও প্রেসিডেন্ট নির্বাচন ঘিরে নতুন রাজনৈতিক পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। ২৫ অক্টোবর সংসদীয় ভোটের পর প্রেসিডেন্ট নির্বাচনও আয়োজন করতে হবে। ভুচিচ জানিয়েছেন, বিরোধীরা নির্বাচনে জিতলে তিনি ফল মেনে নেবেন এবং তাঁদের অভিনন্দন জানাবেন।