টানা কয়েক সপ্তাহের নজরদারি ও ধাওয়া করার পর উত্তর আটলান্টিক মহাসাগরে রুশ পতাকা লাগানো একটি তেলবাহী জাহাজ আটক করেছে আমেরিকার নৌ ও উপকূলরক্ষী বাহিনী। আন্তর্জাতিক জলসীমায় এই অভিযানের খবর সামনে আসতেই নতুন করে ওয়াশিংটন ও মস্কোর টানাপোড়েন শুরু হয়েছে।
আমেরিকার প্রশাসনিক সূত্রের দাবি, সংশ্লিষ্ট ট্যাঙ্কারটি দীর্ঘদিন ধরে নিষেধাজ্ঞা এড়িয়ে তেল পরিবহণে যুক্ত ছিল। জাহাজটির গতিবিধি সন্দেহজনক হওয়ায় স্যাটেলাইট নজরদারি, নৌ টহল এবং গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে ধাপে ধাপে অভিযান চালানো হয়। শেষ পর্যন্ত উত্তর আটলান্টিকের এক বিস্তীর্ণ এলাকায় জাহাজটিকে থামাতে সক্ষম হয় আমেরিকার নৌ বাহিনী।
আমেরিকার পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক আইন মেনে জাহাজে তল্লাশি চালানো হয়েছে। প্রয়োজনীয় নথিপত্র যাচাই করা হচ্ছে। জাহাজের মালিকানা, পণ্য পরিবহণের রুট এবং অর্থনৈতিক লেনদেন— সব কিছুই এখন তদন্তের আওতায়। প্রাথমিকভাবে কোনও সংঘর্ষের খবর না মিললেও, পুরো অভিযানে উচ্চ সতর্কতা বজায় রাখা হয়েছিল বলে দাবি করা হয়েছে।
অন্যদিকে, এই ঘটনার কড়া প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে রাশিয়া। মস্কোর বক্তব্য, আন্তর্জাতিক জলসীমায় রুশ পতাকাবাহী জাহাজ আটক করা ‘উসকানিমূলক’ এবং ‘আন্তর্জাতিক আইনের পরিপন্থী’। কূটনৈতিক মহলের মতে, ইউক্রেন যুদ্ধকে কেন্দ্র করে আরোপিত পশ্চিমি নিষেধাজ্ঞার প্রেক্ষাপটে তেল পরিবহণ নিয়ে যে টানাপড়েন চলছে, এই ঘটনা তারই নতুন অধ্যায়।
বিশেষজ্ঞদের একাংশ মনে করছেন, এই ধরনের অভিযান বিশ্ব জ্বালানি বাজারেও প্রভাব ফেলতে পারে। নিষেধাজ্ঞা, জাহাজ আটক এবং বীমা সংক্রান্ত অনিশ্চয়তার কারণে আন্তর্জাতিক তেল পরিবহণ ব্যয় বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে। পাশাপাশি, সমুদ্রপথে শক্তি প্রদর্শনের ফলে রাজনৈতিক সংঘাত আরও সামনে চলে আসছে বলেও মত তাঁদের।
ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত জাহাজ ও নাবিকদের ভবিষ্যৎ কী হবে, তা স্পষ্ট নয়। তবে কূটনৈতিক স্তরে এই ইস্যু যে আরও উত্তাপ ছড়াবে, তা নিয়ে সন্দেহ নেই।