আফগানিস্তানে বন্দি সাংবাদিকদের অবিলম্বে ও নিঃশর্ত মুক্তির দাবি জানালেন রাষ্ট্রসঙ্ঘের মানবাধিকার বিশেষ প্রতিনিধি রিচার্ড বেনেট। বিশ্ব সংবাদমাধ্যম স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে দেওয়া এক বিবৃতিতে তিনি এই আহ্বান জানান।
রিচার্ড বেনেট বলেন, সাংবাদিকদের যেন কোনও ভয়, হুমকি বা হেনস্থার আশঙ্কা ছাড়াই কাজ করার সুযোগ দেওয়া হয়। তিনি স্পষ্ট করে জানান, আফগানিস্তানে তালিবান ক্ষমতায় আসার পর সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।তাঁর দাবি, বর্তমানে অন্তত চারজন সাংবাদিক ও সংবাদমাধ্যম কর্মী এখনও আটক রয়েছেন। তাঁদের দ্রুত মুক্তি দেওয়ার পাশাপাশি, যাঁদের অন্যায়ভাবে আটক করা হয়েছে, তাঁদের সকলের মুক্তির দাবিও জানান তিনি।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, বর্তমানে আফগানিস্তানে সাংবাদিকরা চরম চাপের মধ্যে কাজ করছেন। সাধারণ সংবাদ পরিবেশন করলেও প্রতিশোধমূলক ব্যবস্থার মুখে পড়তে হচ্ছে, বিশেষ করে নারীর অধিকার বা শাসনব্যবস্থা নিয়ে প্রতিবেদন করলে ঝুঁকি আরও বাড়ছে।
এছাড়া সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলা সাধারণ মানুষও নজরদারি, ভয় দেখানো এবং গ্রেপ্তারের মুখে পড়ছেন বলে অভিযোগ। এর ফলে নির্ভরযোগ্য তথ্যের প্রবাহ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। নারী সাংবাদিকদের পরিস্থিতি আরও কঠিন হয়ে উঠেছে। চলাফেরায় বিধিনিষেধ, পোশাক সংক্রান্ত নিয়ম এবং কাজের সুযোগ কমে যাওয়ায় অনেকেই পেশা ছাড়তে বাধ্য হচ্ছেন।
সংবাদমাধ্যম স্বাধীনতার সূচকে আফগানিস্তানের অবস্থানও উদ্বেগজনক। রিপোর্টার্স উইদাউট বর্ডারস-এর তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালে ১৮০টি দেশের মধ্যে আফগানিস্তানের স্থান ১৭৫তম। যদিও সামান্য উন্নতি হয়েছে, তবুও দেশটি এখনও বিশ্বের অন্যতম খারাপ পরিস্থিতির মধ্যে রয়েছে।
এই সংস্থার মূল্যায়নে দেখা গিয়েছে, রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক, আইনগত, সামাজিক এবং নিরাপত্তা— এই পাঁচটি সূচকেই সংবাদমাধ্যমের ওপর কঠোর নিয়ন্ত্রণ রয়েছে। বিশেষ করে আইনগত ও নিরাপত্তা সূচকে পরিস্থিতি অত্যন্ত খারাপ।
২০২১ সালের ১৫ আগস্ট তালিবান ক্ষমতায় ফেরার পর থেকেই আফগানিস্তানের সংবাদমাধ্যমের পরিবেশ বদলে গেছে। বহু সংবাদমাধ্যম বন্ধ হয়ে গিয়েছে এবং হাজার হাজার সাংবাদিক পেশা ছেড়ে দিতে বাধ্য হয়েছেন। সব মিলিয়ে, আফগানিস্তানে সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে উদ্বেগ ক্রমশ বাড়ছে।