ইরানের বিরুদ্ধে ক্ষেপণাস্ত্র হামলার অভিযোগ আবুধাবির, দাবি ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে দিল তেহরান

Photo: Statesman

পশ্চিম এশিয়ায় সংঘাত অব্যাহত। এবার সেই সংঘাতের মধ্যেই নতুন করে উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছে ইরান ও সংযুক্ত আরব আমিরশাহির (UAE) মধ্যে। ইরানের বিরুদ্ধে দুটি ব্যালিস্টিক মিসাইল ছোঁড়ার অভিযোগ তুলেছে আবুধাবি। সেই অভিযোগ তুলে ইরানের সঙ্গে সমস্ত বাণিজ্যিক ও আর্থিক লেনদেন বন্ধ করে দিয়েছে আবুধাবি। তবে আবুধাবির তোলা সমস্ত অভিযোগকে ভিত্তিহীন বলে প্রত্যাখান করল তেহরান।

ইরানের বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই জানিয়েছেন, আবুধাবি-র এই অভিযোগ আঞ্চলিক দেশগুলির মধ্যে আস্থা তৈরির প্রচেষ্টাকে ব্যাহত করছে। তাঁর কথায়, এ ধরনের ভিত্তিহীন অভিযোগ করা ভালো সম্পর্কের নীতির পরিপন্থী। এর ফলে আঞ্চলিক নিরাপত্তাহীনতা আরও বাড়তে পারে। বিদেশ মন্ত্রকের টেলিগ্রাম চ্যানেলে প্রকাশিত বিবৃতিতে বাঘাই বলেন, ‘বর্তমান পরিস্থিতিতে আঞ্চলিক দেশগুলির উচিত তেহরানের বিরুদ্ধে ভিত্তিহীন অভিযোগ থেকে বিরত থাকা।’

বাঘাইয়ের দাবি, যুক্তরাষ্ট্র ও আঞ্চলিক দেশগুলির উচিত তেহরানের বিরুদ্ধে তোলা ভিত্তিহীন অভিযোগ থেকে দূরে থাকা। তাঁর দাবি, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের কর্মকাণ্ডের কারণে পশ্চিম এশিয়ার পরিস্থিতি ইতিমধ্যেই অত্যন্ত জটিল হয়ে উঠেছে। মঙ্গলবার আবুধাবি-র তরফে জানানো হয়, ইরান থেকে দুটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র তাদের দিকে ছোঁড়া হয়েছিল। আবুধাবির দাবি, মিসাইল দুটি তাদের দিকে ধেয়ে আসছিল। সেই মিসাইল সম্ভবত উপসাগরে চলাচলকারী বাণিজ্যিক জাহাজগুলিকে লক্ষ্য করে ছোঁড়া হয়েছিল।


ইউএই-র দাবি, একটি মিসাইল ইউএই-র জলসীমার বাইরে সমুদ্রে পড়ে। অন্যটি জলসীমার মধ্যে পড়ে। তবে কোনও হতাহত বা ক্ষয়ক্ষতির খবর মেলেনি। যদিও এই অভিযোগ অস্বীকার করেছে ইরান। এদিকে এই হামলার পর ইরানের সঙ্গে সমস্ত বাণিজ্যিক ও আর্থিক লেনদেন বন্ধ করে দিয়েছে আবুধাবি। পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত এই নির্দেশ বহাল থাকবে বলে জানিয়েছে ইউএই।

আবুধাবির বিদেশ মন্ত্রকের তরফে জানানো হয়েছে, আঞ্চলিক পরিস্থিতির ক্রমাগত অবনতি হওয়া এবং আন্তর্জাতিক শান্তি ও নিরাপত্তার জন্য হুমকির পরিপ্রেক্ষিতে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালী বন্ধ রাখার সিদ্ধান্তে অনড় রয়েছে ইরান। তেহরান জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে শান্তি চুক্তি না হওয়া পর্যন্ত এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথ বন্ধ থাকবে।

আরও পড়ুন: সোনা খনিতে হঠাৎই ভয়ঙ্কর ধস, মৃত্যু অন্তত ৩০ শ্রমিকের

উল্লেখ্য ২৮ ফেব্রুয়ারি মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর ইউএই ইরানের হামলার অন্যতম প্রধান লক্ষ্য হয়ে ওঠে। প্রায় ৩ হাজার ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন ইউএই-র দিকে নিক্ষেপ করা হয়েছিল বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। জুনে দুই পক্ষের মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক কার্যকর হলেও পরে তা ভেঙে যায়। এরপর বেশ কিছুদিন আবুধাবিতে ইরানের হামলার খবর পাওয়া যায়নি। এখন নতুন ক্ষেপণাস্ত্র হামলার অভিযোগ দুই দেশের সম্পর্ককে ফের উত্তপ্ত করে তুলল।