আমেরিকায় প্রথম মুসলিম সেনেটর, আবদুল এল-সায়েদের জয়ে উচ্ছ্বাস কর্নাটকের দুই শহরে

আমেরিকার মধ্যবর্তী নির্বাচনে মিশিগান থেকে ঐতিহাসিক জয় পেয়েছেন ডেমোক্র্যাট নেতা আবদুল এল-সায়েদ। দেশের প্রথম মুসলিম সেনেটর হিসেবে তাঁর এই জয় ঘিরে উচ্ছ্বাস আমেরিকায়। তবে সেই সাফল্যের রেশ এসে পৌঁছেছে ভারতের কর্নাটকেও। কারণ, এল-সায়েদের স্ত্রী সারা জুকাকুর পারিবারিক শিকড় জড়িয়ে রয়েছে কর্নাটকের উপকূলীয় শহর ভাটকল এবং বাগালকোটের সঙ্গে।

পেশায় মনোরোগ বিশেষজ্ঞ সারা জুকাকুর সঙ্গে আবদুল এল-সায়েদের পরিচয় মিশিগান বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনার সময়। ২০০৬ সালে বিয়ে করেন তাঁরা। স্বামীর রাজনৈতিক জীবনের শুরু থেকেই নির্বাচনী প্রচারে সক্রিয় ভূমিকা নিয়েছেন সারা। এক নির্বাচনী সভায় রসিকতা করে তিনি বলেছিলেন, “আমার কথা ছাড়া আর কারও কথা ও শোনে না।” সেনেট নির্বাচনে স্বামীর জয়ের পর সারার কর্নাটক-যোগ নিয়ে উচ্ছ্বসিত সেখানকার বাসিন্দারাও।

সারার বাবা পেশায় কিডনি বিশেষজ্ঞ। ভাটকলে বেড়ে ওঠার পর চিকিৎসাশাস্ত্রে স্নাতক হয়ে তিনি আমেরিকায় পাড়ি দেন। অন্যদিকে, সারার দাদু জুকাকু সামসুদ্দিন ছিলেন অবিভক্ত কর্নাটকের বিশিষ্ট আইনজীবী ও শিক্ষাবিদ। তৎকালীন জামখান্ডি রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী বি ডি জাত্তির সরকারের অর্থ উপমন্ত্রী হিসেবেও দায়িত্ব সামলেছিলেন তিনি।


আমেরিকাতেই বেড়ে ওঠা সারা ২০১৫ সালে কলাম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ভেগেলোস কলেজ থেকে চিকিৎসাশাস্ত্রে ডিগ্রি অর্জন করেন। বর্তমানে মনোরোগ বিশেষজ্ঞ হিসেবে কর্মরত তিনি।

দক্ষিণ ভারতীয় পরিবারের সঙ্গে আত্মীয়তার সূত্রে ভারতীয় সংস্কৃতির প্রতিও বিশেষ টান রয়েছে এল-সায়েদের। এক সাক্ষাৎকারে নিজের ভারত-যোগ নিয়ে মজার ছলেই বলেছিলেন, “গত ২০ বছর ধরে আমি একটি দক্ষিণ ভারতীয় পরিবারের সঙ্গে যুক্ত। এখন মনে হয়, আরবের তুলনায় আমি অনেক বেশি ভারতীয়। আমার স্ত্রী ভারতীয়, আমার দুই মেয়েও ভারতীয়।”

আমেরিকার নির্বাচনে তাঁর ঐতিহাসিক জয়ের পর তাই নতুন করে আলোচনায় উঠে এসেছে কর্নাটকের ভাটকল ও বাগালকোট। হাজার হাজার কিলোমিটার দূরে থেকেও এক মার্কিন রাজনৈতিক সাফল্যের সঙ্গে জুড়ে গিয়েছে ভারতের এই দুই শহরের নাম।