বেজিঙে চিনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিঙের সঙ্গে ৩ ঘণ্টা বৈঠক করেছেন ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রী কিয়ের স্টার্মার। এই বৈঠককে ‘খুবই বিপজ্জনক’ বলে মন্তব্য করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ট্রাম্পের এই মন্তব্যে স্পষ্ট, চিনের সঙ্গে ব্রিটেনের এই বৈঠক সহজভাবে দেখছেন না তিনি। অসন্তুষ্ট ট্রাম্প ইতিমধ্যেই সতর্ক করে দিয়েছেন ব্রিটেনকে।
বৃহস্পতিবার জিনপিঙের সঙ্গে বৈঠক সেরে বেরিয়ে স্টার্মার জানান, চিনের সঙ্গে ব্রিটেনের আরও পরিশীলিত, ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক তৈরি হতে চলেছে। তারা পরস্পরের বাজারে আরও বেশি করে প্রবেশাধিকার পাবে। বাণিজ্যে শুল্ক কমবে উভয় তরফেই। তা ছাড়া, উভয় দেশে বিনিয়োগের বিষয়েও স্টার্মারের সঙ্গে জিনপিঙের আলোচনা হয়। এই বৈঠকের ফলে চিন-ব্রিটেন বাণিজ্যিক সম্পর্ক আরও মজবুত হবে বলে মনে করা হচ্ছে। ব্রিটেন–চিন বিজনেস ফোরামে বক্তব্য রাখতে গিয়ে স্টার্মার জানান, তাদের কাছে চিনকে দেওয়ার মতো অনেক কিছু রয়েছে।
কিছু দিন আগে বেজিঙে গিয়েছিলেন আমেরিকার প্রতিবেশী দেশ কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নে। তার পরেই কানাডার উপর অতিরিক্ত শুল্ক আরোপের হুঁশিয়ারি দেন ট্রাম্প। ব্রিটেনের বিরুদ্ধে তেমন কোনও পদক্ষেপ করা হতে পারে কি না, তা নিয়েও জল্পনা শুরু হয়েছে।
চিনের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা বৃদ্ধি করলে আমেরিকার সঙ্গে ব্রিটেনের সম্পর্ক ক্ষতিগ্রস্ত হবে তা মানতে চাননি স্টার্মার। তিনি বলেছেন, ‘আমেরিকার সঙ্গে প্রতিরক্ষা, নিরাপত্তা, বাণিজ্য -সব ক্ষেত্রেই আমাদের ঘনিষ্ঠতম সম্পর্ক রয়েছে।’ আমেরিকা বা চিনের মধ্যে যে কোনও একটি দেশকে বেছে নিতে হবে বলে এমন মনে করেন না তিনি। আমেরিকার সতর্কবার্তার পর তিনি কী পদক্ষেপ করেন, তা অবশ্য সময়ই বলবে।
এদিকে এই বৈঠককে ঘিরে ব্রিটেনের অন্দরেও সমালোচনা শুরু হয়েছে। বিরোধী কনজারভেটিভ দলের শ্যাডো হোম সেক্রেটারি ক্রিস ফিলিপ বলেছেন, ‘স্টার্মার জাতীয় নিরাপত্তার প্রশ্নে আপস করে চিনের টেবল থেকে অর্থনৈতিক টুকরো কুড়োচ্ছেন।’
প্রসঙ্গত, ২০২৫ সালে ব্রিটেনের সবচেয়ে বড় বাণিজ্যিক অংশীদার ছিল আমেরিকা। ওই তালিকায় চিন ছিল চতুর্থ স্থানে। এরই মধ্যে ব্রিটেন-চিন সম্পর্কের এই নতুন অধ্যায় কী প্রভাব ফেলবে সেদিকে নজর রাখছে আন্তর্জাতিক মহল।