ভেনেজুয়েলায় ভূমিকম্পে মৃত ৯২০, নিখোঁজ হাজারেরও বেশি, চলছে উদ্ধারকাজ

জোড়া শক্তিশালী ভূমিকম্পে বিপর্যস্ত ভেনেজুয়েলায় লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে মৃতের সংখ্যা। ভূমিকম্পে এখনও পর্যন্ত ৯২০ জনের মৃত্যু হয়েছে। উদ্ধারকারী দল এখনও পর্যন্ত উদ্ধারকাজ চালাচ্ছে। উদ্ধারকারী দলের তরফে জানানো হয়েছে, ধ্বংসস্তূপের নীচে এখনও পর্যন্ত হাজার হাজার মানুষ আটকে থাকতে পারেন। সেক্ষেত্রে মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে তারা আশঙ্কা প্রকাশ করেছে।

শুক্রবার ভেনেজুয়েলার অন্তবর্তীকালীন প্রেসিডেন্ট ডেলসি রড্রিগেজ জানিয়েছেন, এখনও পর্যন্ত দু’হাজার ৯৮০ জন মানুষ জখম হয়েছেন। হাজার হাজার মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন। নিখোঁজ ব্যক্তিদের যাতে দ্রুত উদ্ধার করা যায়, সেই জন্য একটি ওয়েবসাইট খোলা হয়েছিল। দেখা গিয়েছে, সেই ওয়েবসাইটে ৫০ হাজার ব্যক্তিকে নিখোঁজ হিসেবে তালিকাভুক্ত করা হয়েছে।

ভূমিকম্পে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে উপকূলীয় রাজ্য লা গুয়াইরা। কর্তৃপক্ষের তরফে জানানো হয়েছে, ভূমিকম্পের পরে ওই এলাকাকে দুযোর্গপূর্ণ এলাকা বলে ঘোষণা করা হয়েছে। আটটি হাসপাতাল ও ভেনেজুয়েলার রেড ক্রসের সদর দপ্তর-সহ ৩৪৬টি বাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সাইমন বলিভার আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরটিও ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তাই আপাতত সেটা বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।


আমেরিকা, মেক্সিকো, এল সালভাদর, স্পেন-সহ বেশ কয়েকটি দেশের উদ্ধারকারী দল সেখানে তল্লাশি অভিযান চালাচ্ছে। কারাকাসে অবস্থিত মার্কিন দূতাবাস জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের দুটি উদ্ধারকারী দলকে সাহায্য করতে ভেনেজুয়েলায় বিশেষ সরঞ্জাম পাঠানো হয়েছে। প্রতিটি উদ্ধারকারী দলে প্রায় ৮০ জন বিশেষজ্ঞ রয়েছে। তাদের মধ্যে রয়েছে দমকলকর্মী, ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার ও ১২টি স্নিফার ডগ।

ডেলসি রড্রিগেজের সঙ্গে কথা বলেছেন মেক্সিকোর প্রেসিডেন্ট ক্লডিয়া শেইনবাউম পার্দো। এক্স হ্যান্ডলের একটি পোস্টে শেইনবাউম জানিয়েছেন, মেক্সিকো প্রয়োজনে অতিরিক্ত সাহায্য করতে প্রস্তুত। উল্লেখ্য, বুধবার সন্ধ্যায় ভেনেজুয়েলা প্রথমে ৭.২ মাত্রার ভূমিকম্প কেঁপে ওঠে। এরপরে মাত্র ৩৯ সেকেন্ড পরে দ্বিতীয়বার শক্তিশালী ভূমিকম্পে কেঁপে ওঠে ভেনেজুয়েলা। সে সময়ে কম্পনের মাত্রা ছিল ৭.৫। পরপর দু’বার কম্পনের পরেও থামেনি। জোড়া ভূমিকম্পের পরে অন্তত ২০ বার কেঁপেছে রাজধানী কারাকাস ও আশেপাশের এলাকা।

ভূমিকম্পে ভেনেজুয়েলার রাজধানী কারাকাসের একাধিক বাড়িও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। প্রাথমিকভাবে জানা গিয়েছে, ভূমিকম্পের উৎসস্থল ছিল ক্যারিবিয়ান সাগর উপকূলবর্তী মরন অঞ্চল। যা কারাকাস থেকে প্রায় ১৬৮ কিলোমিটার দূরে। দ্বিতীয় ভূমিকম্পটির কেন্দ্রস্থল ছিল ওই এলাকার দক্ষিণ-পশ্চিমে। প্রথম কম্পনের উৎপত্তি হয়েছিল ভূগর্ভের ২২ কিলোমিটার গভীরে এবং দ্বিতীয়টির ১০ কিলোমিটার গভীরে।

এদিকে, আল জাজিরার মতে, শুক্রবার ভেনেজুয়েলার উত্তর উপকূলে ৪.৯ মাত্রার ভূমিকম্প অনুভূত হয়। কারাকাস ও আশেপাশের অঞ্চলে বুধবার ভূমিকম্প আঘাত আনার দুদিন পরে ফের ভূমিকম্পে কেঁপে উঠল ভেনেজুয়েলার উত্তর উপকূল।