পশ্চিম আফ্রিকার দেশ মালিতে ক্রমশ ভয়াবহ আকার নিচ্ছে জঙ্গি সন্ত্রাস। গত কয়েকদিনে দেশের একাধিক জায়গায় ধারাবাহিক হামলায় কমপক্ষে ৮০ জনের মৃত্যু হয়েছে বলে জানিয়েছে স্থানীয় প্রশাসন। যদিও বেসরকারি মতে, মৃতের সংখ্যা শতাধিক। মালির এই নৃশংস হামলার দায় স্বীকার করেছে আল-কায়দা ঘনিষ্ঠ জঙ্গিগোষ্ঠী জামাত নুসরত অল-ইসলাম ওয়াল মুসলিমিন (জেএনআইএম)।
স্থানীয় সংবাদমাধ্যম সূত্রে খবর, এপ্রিল মাস থেকেই অশান্ত হয়ে উঠেছে মালি। দফায় দফায় বিভিন্ন গ্রামে হামলা চালাচ্ছে জঙ্গিরা। গত বুধবার একাধিক গ্রামে হামলায় অন্তত ৪০ জন গ্রামবাসীর মৃত্যু হয়। এরপর শুক্রবার আরও কয়েকটি গ্রামে ব্যাপক হত্যালীলা চালায় জঙ্গিরা। মালির নিরাপত্তা বিভাগের দাবি, যে সব গ্রাম জেএনআইএম-এর সঙ্গে সমঝোতা চুক্তিতে সই করতে অস্বীকার করেছে, সেগুলিকেই নিশানা করা হয়েছে।
এই ঘটনায় ক্ষোভে ফেটে পড়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। এক যুবকের অভিযোগ, জঙ্গি হামলার সময় কাছেই সেনা শিবির থাকা সত্ত্বেও কোনও সাহায্য মেলেনি। বারবার আবেদন জানানো হলেও সেনাবাহিনীর তরফে কেউ এগিয়ে আসেনি বলে অভিযোগ।
পরিস্থিতি আরও উদ্বেগজনক হয়ে উঠেছে রাজধানী বামাকো–র কাছেও। রাজধানী থেকে মাত্র ৬০ কিলোমিটার দূরের একটি কারাগারে হামলা চালায় সশস্ত্র জঙ্গিরা। ওই কারাগারে প্রায় ২৫০০ বন্দি রয়েছে। যার মধ্যে ৭২ জনকে ‘অত্যন্ত বিপজ্জনক’ বলে চিহ্নিত করেছে মালি সরকার।
এদিকে গত সপ্তাহে জেএনআইএম হুঁশিয়ারি দিয়ে জানিয়েছে, বামাকোর দিকে যাওয়ার সমস্ত রাস্তায় তারা চেকপয়েন্ট বসাবে। অর্থাৎ রাজধানীকেই কার্যত ঘিরে ফেলার হুমকি দিয়েছে জঙ্গিরা। এপ্রিল মাসে এক বড় হামলায় মালির প্রতিরক্ষামন্ত্রী সাদিও কামারার মৃত্যু হয়েছে। অন্যদিকে দেশের উত্তরাঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ শহর কিদাল থেকে রাশিয়া-সমর্থিত বাহিনীর সরে যাওয়া পরিস্থিতি আরও জটিল হয়েছে।