বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রাম ও রাষ্ট্রগঠনের ইতিহাসের সঙ্গে ওতোপ্রতোভাবে জড়িত আওয়ামী লীগ। তবে বদলে যাওয়া রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে গত দুই বছর ধরে দেশের মাটিতে নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ। এই পরিস্থিতিতে আগামী ২৩ জুন আওয়ামী লীগের ৭৭ তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী ঘিরে দলটির সমর্থকেরা সক্রিয়া হতে পারেন বলে আশঙ্কা করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশ। সেই কারণেই দেশজুড়ে সতর্কতা জারি করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।
বাংলাদেশের সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আওয়ামী লীগের সমর্থকেরা পতাকা উত্তোলন, মিছিল বা অন্যান্য কর্মসূচি নিতে পারে বলে মনে করছে পুলিশ। সম্ভাব্য সংঘর্ষ এড়াতে ঢাকা-সহ দেশের সব মহানগর, রেঞ্জ ও জেলা পর্যায়ের পুলিশ কর্মকর্তাদেরর বিশেষ সতর্ক থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
‘আগামী ২৩ জুন কার্যক্রম নিষিদ্ধ সংগঠন আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে সম্ভাব্য কর্মকাণ্ড প্রসঙ্গে মূল্যায়ন প্রতিবেদন’ শীর্ষক এক চিঠিতে আওয়ামী লীগ সমর্থকদের সঙ্গে এনসিপি ও বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের কর্মীদের সংঘর্ষের আশঙ্কার কথা উল্লেখ করা হয়েছে।
শেখ হাসিনার সরকার পতনের পর মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ করে। পরে নতুন সরকার ক্ষমতায় আসার পর দলটির পুনরুজ্জীবনের চেষ্টা করতে দেখা যায়। বিভিন্ন জেলায় মিছিল, সমাবেশ এবং কিছু বন্ধ দলীয় কার্যালয় সাময়িকভাবে খুলে দেওয়ার ঘটনাও দেখা যায়।
এই পরিস্থিতিতে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীকে কেন্দ্র করে আওয়ামী লীগের কোনও প্রকাশ্য রাজনৈতিক তৎপরতা যাতে না ঘটে, সে বিষয়ে কঠোর নজরদারির নির্দেশ দিয়েছে পুলিশ সদর দপ্তর। ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশও জানিয়েছে, নগরবাসীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে চেকপোস্ট, টহল ও বিশেষ অভিযান অব্যাহত থাকবে।
উল্লেখ্য, ১৯৪৯ সালের ২৩-২৪ জুন পুরান ঢাকার রোজ গার্ডেনে ‘পূর্ব পাকিস্তান আওয়ামী মুসলিম লীগ’ প্রতিষ্ঠিত হয়। দলের প্রথম সভাপতি ছিলেন মওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানী এবং সাধারণ সম্পাদক ছিলেন শামসুল হক। শেখ মুজিবুর রহমান প্রথম কমিটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। ১৯৫৫ সালে দলের নাম থেকে ‘মুসলিম’ শব্দটি বাদ দিয়ে বর্তমান আওয়ামী লীগ নাম গ্রহণ করা হয়।