হিমালয়ের বুকে থাকা হিমবাহ-হ্রদগুলির (Himalayan lakes) বিপদ ফের সামনে এসেছে নেপালের সাম্প্রতিক প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের (Nepal Flash Flood) পর। ২০২০ সালে আন্তর্জাতিক পর্বত উন্নয়ন কেন্দ্র এবং রাষ্ট্রসঙ্ঘের উন্নয়ন প্রকল্পের যৌথ সমীক্ষায় হিমালয়ের মোট ৪৭টি হ্রদকে (Himalayan lakes) বিপজ্জনক হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছিল। সেই তালিকায় নেপালের ২১টি, তিব্বতের ২৫টি এবং ভারতের একটি হ্রদ রয়েছে। বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা, এসব হ্রদের জলস্তর দ্রুত বেড়ে গেলে বাঁধ ভেঙে ভয়াবহ হড়পা বান নামতে পারে।
ভারতের যে হ্রদটি ওই তালিকায় রয়েছে, সেটি উত্তরাখণ্ডের কালী বা মহাকালী নদীর অববাহিকায় অবস্থিত। সেটিকে সর্বোচ্চ ঝুঁকির হ্রদ (Himalayan lakes) হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছিল। বিশেষজ্ঞদের মতে, হ্রদটির আয়তন দ্রুত বাড়তে পারে। তার বাইরে রয়েছে খাড়া পাহাড়ি ঢাল। জল উপচে পড়লে কিংবা হ্রদের বাঁধ ভেঙে গেলে বড়সড় ধস (Nepal Flash Flood) নামতে পারে। সেই জল কালী নদীতে নেমে হড়পা বান তৈরি করলে উত্তরাখণ্ডের পাশাপাশি উত্তরপ্রদেশের বিস্তীর্ণ এলাকাও ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
আরও পড়ুন: ৩৮ হাজার ৬০০ কোটি টাকার হিসাব জানিয়ে রাষ্ট্রসঙ্ঘে চিঠি নেপালের
২০২০ সালের রিপোর্ট হাতে পাওয়ার পর নেপাল চিহ্নিত ২১টি হ্রদের মধ্যে চারটির জলস্তর কমানোর কাজ শুরু করেছে। কোশী ও গণ্ডকী অববাহিকায় থাকা সোলুখুম্বুর লুমডিং শো ও হোঙ্গু-দুই, সংখুয়াসাবার লোয়ার বরুণ এবং মানাঙের থুলাগি হ্রদে চলছে সেই উদ্যোগ। প্রকল্পে প্রায় পাঁচ কোটি ডলার বরাদ্দ হয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ৩.৬১ কোটি ডলার দিয়েছে রাষ্ট্রপুঞ্জের সবুজ জলবায়ু তহবিল। নেপালের জলবিজ্ঞান ও আবহাওয়া বিভাগের দাবি, এই প্রকল্পে প্রায় ২৩ লক্ষ মানুষ উপকৃত হবেন।
নেপালে দু’হাজারেরও বেশি হিমবাহ-হ্রদ রয়েছে। গত ২৬ আগস্ট ভোটেকোশী নদীতে ভয়াবহ বান (Nepal Flash Flood) এসেছিল এমনই একটি অস্থায়ী হ্রদ ভেঙে। বিশেষজ্ঞদের সতর্কতা, অর্থের অভাবে অনেক হ্রদের জলস্তর প্রয়োজনমতো কমানো যাচ্ছে না। কোথাও ১০ থেকে ২০ মিটার জল কমানো দরকার হলেও কাজ থেমে রয়েছে তিন-চার মিটারে। ফলে ভবিষ্যতে আরও বড় বিপর্যয়ের আশঙ্কা থেকেই যাচ্ছে।
দেখুন: <iframe width=”560″ height=”315″ src=”https://www.youtube.com/embed/XnH4aiIEsgg?si=uQ6p7v7dXQD1_OCT” title=”YouTube video player” frameborder=”0″ allow=”accelerometer; autoplay; clipboard-write; encrypted-media; gyroscope; picture-in-picture; web-share” referrerpolicy=”strict-origin-when-cross-origin” allowfullscreen></iframe>