ফের দক্ষিণ লেবাননে ভয়াবহ হামলার ঘটনা ঘটেছে। স্থানীয় সময় মঙ্গলবার ইজরায়েলের ড্রোন হামলায় অন্তত ৪ জন নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে লেবাননের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম। ঘটনাটি ঘটেছে দক্ষিণ লেবাননের নাবাতিয়েহ অঞ্চলে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রথমে একটি গাড়িকে লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়। এরপর ঘটনাস্থলে লোকজন জড়ো হলে সেখানে আবার দ্বিতীয় দফায় হামলা চালানো হয়। এই ধরনের কৌশলকে অনেক সময় ‘ডাবল ট্যাপ’ স্ট্রাইক বলা হয়, যেখানে উদ্ধারকাজ চলার সময়ও আবার আঘাত আসে। এই ঘটনার ফলে এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। সেখানে স্থানীয় বাসিন্দারা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। অনেকেই ঘরবাড়ি ছেড়ে নিরাপদ স্থানে সরে যেতে শুরু করেছেন বলে খবর মিলছে। ঘটনার সময় আশেপাশে আরও কিছু গাড়িও ক্ষতিগ্রস্ত হয়। আহতদের সংখ্যা নিয়েও বিভ্রান্তি রয়েছে, তবে বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন বলে জানা গিয়েছে।
অন্যদিকে আন্তর্জাতিক মহলেও এই ঘটনার পর নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আগেই ইজরায়েলকে লেবাননে হামলা কমানোর বিষয়ে সতর্ক করেছিলেন। তবে সেই সতর্কতা সত্ত্বেও হামলা থামেনি বলে অভিযোগ উঠছে। এদিকে লেবানন এবং ইজরায়েলের মধ্যে উত্তেজনা নতুন করে বেড়েছে। সীমান্ত অঞ্চলে পরিস্থিতি এখনো অস্থির। আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক মহল চাইছে দ্রুত যুদ্ধবিরতি ও আলোচনার মাধ্যমে সমাধান খুঁজে বের করতে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ধরনের ধারাবাহিক হামলা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে। সাধারণ মানুষ সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
ইজরায়েলে পর পর হামলার ঘটনায় ইরানের সঙ্গে আমেরিকার শান্তিচুক্তির ভবিষ্যৎ নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। জি-৭ সম্মেলনে যোগ দিতে ফ্রান্সে রয়েছেন ট্রাম্প। তবে সম্মেলনে যোগ দেওয়ার আগেই ইরানের সঙ্গে শান্তিচুক্তির কথা ঘোষণা করেছিলেন তিনি। সূত্রের খবর, আগামী শুক্রবার সুইৎজারল্যান্ডে চুক্তি স্বাক্ষর হওয়ার কথা। কিন্তু এরই মধ্যে লেবাননে ইজরায়েলের হামলা আবার শান্তিচুক্তির ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রশ্ন তুলে দিয়েছে।
এদিকে ইরানও হুঁশিয়ারি দিয়ে রেখেছে যে লেবানন থেকে ইজরায়েল সেনা প্রত্যাহার না করলে চুক্তির অগ্রগতি আটকে যেতে পারে। কিন্তু সেখানে বাদ সেধেছেন ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু। তিনি জানিয়ে দেন, যুদ্ধ এখনও শেষ হয়নি। ফলে লেবানন থেকে সেনা প্রত্যাহার করবেন না । ফলে লেবাননে ইজরায়েলের হামলা বন্ধ না হলে ইরান কী করবে তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। দক্ষিণ লেবাননের এই হামলা শুধু একটি স্থানীয় ঘটনা নয়, এটি এখন বড় আকারের ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনার অংশ হয়ে উঠছে, যার প্রভাব পড়ছে গোটা পশ্চিম এশিয়ায়।