শ্রীলঙ্কার নেগোম্বো জেলে বন্দিদের মধ্যে ভয়াবহ সংঘর্ষের দেরে কমপক্ষে ২৫ জনের মৃত্যু হয়েছে। নিহতদের মধ্যে ২০ জন বন্দি এবং ৫ জন কারাকর্তা বলে স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের দাবি। এই ঘটনায় আহত হয়েছেন শতাধিক মানুষ। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের রাখতে জেলে প্রচুর পরিমাণে পুলিশ ও সেনা মোতায়েন করা হয়েছে। স্থানীয় সংবাদমাধ্যমে খবর, রবিবার প্রথমে বিচারাধীন ও সাজাপ্রাপ্ত – বন্দিদের এই দুই গোষ্ঠাীর মধ্যে সংঘর্ষ শুরু হয়। প্রথম দফায় ২ জন বন্দির মৃত্যু হয়, আহত হন ৩৮ জন। এরপর সোমবার পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। বন্দিদের একাংশের সঙ্গে কারারক্ষীদের সংঘর্ষ শুরু হয়। একসময় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেলে পুলিশ ও কারারক্ষীরা গুলি চালায়।
পুলিশের দাবি, জেলের ভিতর মাদক পাচার এবং অপরাধ চক্র চালানোর নিয়ন্ত্রণকে কেন্দ্র করে এই সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়। স্থানীয় সূত্রের দাবি, জেলের ভিতরেও অস্ত্র ব্যবহার করা হয়েছে। তবে এই বিষয়ে প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত সরকারি স্তরে প্রশাসন কিছু জানায়নি।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গিয়েছে, শতাধিক আহতকে নেগোম্বো-সহ আশেপাশের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। নেগোম্বো হাসপাতাল সূত্রে জানানো হয়েছে, হাসপাতালে একের পর এক মৃতদেহ আনা হয়। আহতদের চিকিৎসা চলছে।
শ্রীলঙ্কার কারা দপ্তর জানিয়েছে, কী কারণে এত বড় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটল, তা খতিয়ে দেখতে একটি উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। ২ হাজার ৪১৭ জনের ধারণ ক্ষমতা রয়েছে নেগোম্বো জেলের। কিন্তু বর্তমানে অতিরিক্ত বন্দি থাকায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।
এই ঘটনার পর জেল সংলগ্ন এলাকা ও তার আশেপাশে কড়া নিরাপত্তা জারি করা হয়েছে। অতিরিক্ত পুলিশ ও সেনা মোতায়েনের পাশাপাশি নজরদারির জন্য ড্রোন ও হেলিকপ্টার ব্যবহার করা হচ্ছে। কয়েকজন বন্দিকে অন্য কারাগারেও স্থানান্তর করা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।