ভয়াবহ বাস দুর্ঘটনায় শোকের ছায়া নেমে এল বাংলাদেশে। পদ্মা নদীতে একটি যাত্রীবাহী বাস পড়ে যাওয়ার ঘটনায় এখনও পর্যন্ত ২৪ জনের দেহ উদ্ধার হয়েছে। মৃতদের মধ্যে নারী ও শিশুও রয়েছে। মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, বুধবার বিকেল প্রায় ৫টা ১৫ মিনিট নাগাদ রাজবাড়ি জেলার একটি টার্মিনালে পন্টুন থেকে ঢাকাগামী বাসটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে নদীতে পড়ে যায়। মুহূর্তের মধ্যে বাসটি উল্টে গিয়ে প্রায় ৮০ ফুট গভীরে তলিয়ে যায়। জেলার প্রশাসনিক আধিকারিক সুলতানা আখতার জানিয়েছেন, বাসটিতে প্রায় ৪০ জন যাত্রী ছিলেন। উদ্ধারকারী দল প্রথমে দুই জনের দেহ উদ্ধার করে। পরে রাতে বিশেষ উদ্ধারকারী জাহাজ ‘হামজা’ ডুবন্ত বাসটিকে তুলে আনলে আরও ১৬টি দেহ উদ্ধার হয়। পরে উদ্ধার হয় আরও ছয় জনের দেহ।
বর্তমানে দমকল, উপকূলরক্ষী বাহিনী, পুলিশ ও সেনার যৌথ তৎপরতায় নিখোঁজদের খোঁজে তল্লাশি চলছে। নদীর গভীরে আরও দেহ থাকতে পারে বলে প্রশাসনের পক্ষ থেকে আশঙ্কা করা হচ্ছে। প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্য, বাসে থাকা অনেক যাত্রী একই পরিবারের সদস্য ছিলেন। দুর্ঘটনার সময় কয়েকজন বাইরে থাকায় তাঁরা প্রাণে বেঁচে গেলেও তাঁদের আত্মীয়রা বাসের ভিতরেই আটকে পড়েন।
জানা গিয়েছে, ঈদের ছুটি কাটিয়ে অনেকেই ঢাকায় ফিরছিলেন। ফলে বাসে নারী ও শিশুসহ বহু পরিবার ছিল। এই ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারিক রহমান। তিনি দ্রুত উদ্ধারকাজ চালানোর নির্দেশ দিয়েছেন। আহতদের যথাযথ চিকিৎসার ব্যবস্থা করতে বলেছেন।
এদিকে স্থানীয় স্বাস্থ্যকেন্দ্র সূত্রে জানা গিয়েছে, দু’জন নারীকে মৃত অবস্থায় আনা হয়েছে। আরও এক মহিলা চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় গোটা এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। উদ্ধারকাজ শেষ না হওয়া পর্যন্ত প্রকৃত হতাহতের সংখ্যা স্পষ্ট হবে না বলেই মনে করছেন প্রশাসনিক আধিকারিকরা।