কিয়েভে রাশিয়ার ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলায় নিহত ১৩

Photo: X/@ZelenskyyUa

ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভে ফের ব্যাপক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালাল রাশিয়া। বুধবার গভীর রাত থেকে বৃহস্পতিবার ভোর পর্যন্ত এই হামলা চলে। ইউক্রেন প্রশাসনের দাবি, এখনও পর্যন্ত অন্তত ১৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। আহত হয়েছেন ৩০ জনেরও বেশি। মৃত ও আহতদের মধ্যে শিশুও রয়েছে। ধ্বংসস্তূপের নিচে আরও বহু মানুষ আটকে থাকতে পারেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। ফলে এখনও উদ্ধারকাজ চলছে।
 
ইউক্রেনের বিমানবাহিনী জানিয়েছে, রাতভর রাশিয়া ৭৪টি ক্ষেপণাস্ত্র এবং ৪৯৬টি ড্রোন ছোঁড়ে। রাজধানী কিয়েভই ছিল হামলার মূল লক্ষ্য। যদিও ইউক্রেনের বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা অধিকাংশ ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র ধ্বংস করতে সক্ষম হয় বলে দাবি। তবে ২৫টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র এবং ১২টি ড্রোন শহরের ৩৩ জায়গায় আঘাত হানে। 
 
হামলায় কিয়েভের একাধিক ভবন, বহুতল, একটি হোটেল, অ্যাম্বুলেন্স স্টেশন এবং অন্যান্য অসামরিক পরিকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। একটি ৯ তলা আবাসনের একাংশ ভেঙে পড়ে। সেন্ট্রাল শেভচেনকিভস্কি এলাকায় একটি হোটেলের ছাদে আগুন লাগে। শহরের বিভিন্ন প্রান্তে একের পর এক বিস্ফোরণে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। অনেক বাসিন্দা প্রাণ বাঁচাতে মেট্রো স্টেশনে আশ্রয় নেন। 
 
কিয়েভের সামরিক প্রশাসনের প্রধান তিমুর তাকাচেঙ্কো অভিযোগ করেছেন, রুশ বাহিনী ইচ্ছাকৃতভাবে আবাসিক এলাকাকে লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে। অন্যদিকে রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রক দাবি করেছে, ইউক্রেনের সাম্প্রতিক হামলার জবাবে তারা জ্বালানি ও সামরিক পরিকাঠামো লক্ষ্য করেই অভিযান চালিয়েছে।  
 
এই হামলার কয়েক ঘণ্টা আগেই ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির জেলেনস্কি সতর্ক করেছিলেন, রাশিয়া বড় ধরনের হামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে। সেই কারণেই তিনি ডাবলিন সফর সংক্ষিপ্ত করে দেশে ফিরে আসেন। দেশবাসীকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান। এদিকে ইউক্রেনের বিদেশমন্ত্রী আন্দ্রি সিবিহা আন্তর্জাতিক মহলের কাছে আরও উন্নত বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা পাঠানোর আবেদন জানিয়েছেন। তাঁর কথায়, শুধু নিন্দা জানিয়ে নয়, রাশিয়ার বিরুদ্ধে আরও কঠোর পদক্ষেপ করার সময় এসেছে।