প্রায় ৪৫০০ কিলোমিটার দূর থেকেই ভারতের বর্ষার মেঘ ছিনতাই করে নিতে চাইছে ডলফিন

ডলফিন কেড়ে নেবে ভারতের মেঘ? (AI Imagined)

চিনের পূর্ব উপকূলে তাণ্ডব চালানো টাইফুন ডলফিনের (Typhoon Dolphin) প্রভাব সরাসরি পড়তে চলেছে ভারতের বর্ষার উপরেও। প্রশান্ত মহাসাগরের বুকে জন্ম নেওয়া এই ঘূর্ণিঝড় সরাসরি ভারতের দিকে না এগোলেও, প্রায় চার হাজার কিলোমিটার দূর থেকেই বঙ্গোপসাগরের বর্ষার নিম্নচাপ ব্যবস্থাকে (monsoon low pressure system) প্রভাবিত করছে বলে জানাচ্ছেন আবহবিদরা। ফলে পশ্চিমবঙ্গ-সহ পূর্ব ভারতের বর্ষার ছন্দে বড়সড় পরিবর্তন আসার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

কী ঘটছে

জাপানের ওকিনাওয়ায় তাণ্ডব চালানোর পর রবিবার চিনের জেজিয়াং ও ফুজিয়ান প্রদেশের মাঝামাঝি এলাকায় আছড়ে পড়েছে টাইফুন ডলফিন। চিনের জাতীয় আবহাওয়া কেন্দ্র (National Meteorological Centre) ইতিমধ্যেই সর্বোচ্চ স্তরের লাল সতর্কতা জারি করেছে। জেজিয়াং, ফুজিয়ান, সাংহাই, জিয়াংসু-সহ একাধিক প্রদেশে ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। ঝড়ের গতিবেগ ঘণ্টায় ২০০ কিলোমিটারেরও বেশি বলে জানা গিয়েছে। জাপানে ইতিমধ্যেই পাঁচজনের মৃত্যু হয়েছে এবং চোদ্দ হাজারের বেশি বাড়ি বিদ্যুৎহীন হয়ে পড়েছে।


ভারতের বর্ষার সম্পর্ক

সরাসরি ভারতে আছড়ে না পড়লেও টাইফুন ডলফিনের মতো শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড় বায়ুমণ্ডলের বৃহত্তর সঞ্চালন ব্যবস্থাকে (atmospheric circulation) নাড়িয়ে দিতে পারে। এবং তা হয়েছেও। আবহবিদদের মতে, পশ্চিম প্রশান্ত মহাসাগরের এমন শক্তিশালী ঝড় বিপুল পরিমাণ তাপ ও আর্দ্রতা টেনে নেয় নিজের দিকে। এর ফলে বঙ্গোপসাগরের (Bay of Bengal) বৃষ্টিবাহী ব্যবস্থার জন্য প্রয়োজনীয় আর্দ্রতার জোগানে টান পড়বে। অর্থাৎ, বহু দূরে ঘটে চলা একটি ঝড় চুপিসারে বাংলার আকাশের বৃষ্টি কেড়ে নিতে উদ্যত।

জিওফিজিক্যাল রিসার্চ লেটার্স (Geophysical Research Letters) পত্রিকায় প্রকাশিত ২০২২ সালের একটি গবেষণায় দেখা গিয়েছে, পশ্চিম উত্তর প্রশান্ত মহাসাগরে তৈরি হওয়া ঘূর্ণিঝড় বঙ্গোপসাগরের নিম্নচাপ তৈরির প্রক্রিয়াকে প্রভাবিত করতে পারে। এই গবেষণা অনুযায়ী, প্রশান্ত মহাসাগরের ঝড়জনিত অস্থিরতা রসবি তরঙ্গ (Rossby waves) হিসাবে পশ্চিমমুখী হয়ে এগিয়ে যায় এবং বঙ্গোপসাগরের বৃষ্টিবাহী ব্যবস্থা সৃষ্টিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। ২০২৪ সালের আরেকটি গবেষণাতেও পশ্চিম প্রশান্ত মহাসাগরের কার্যকলাপ এবং ভারতের গ্রীষ্মকালীন বর্ষার স্বল্পমেয়াদি ওঠাপড়ার মধ্যে যোগসূত্র মিলেছে। তবে বিজ্ঞানীরা স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, ডলফিন সরাসরি ভারতে বৃষ্টি নামাবে অথবা বৃষ্টি আটকে দেবে, এমন নয়। এর প্রভাব ঘটতে পারে পরোক্ষভাবেই, বায়ুমণ্ডলের বৃহত্তর সঞ্চালন ব্যবস্থার পরিবর্তনের মধ্যে দিয়ে।

পশ্চিমবঙ্গের জন্য কেন গুরুত্বের

বর্ষার শেষ পর্বে বঙ্গোপসাগরের নিম্নচাপ ব্যবস্থার উপরেই মূলত নির্ভর করে থাকে পশ্চিমবঙ্গ-সহ পূর্ব ও উত্তর-পূর্ব ভারতের বৃষ্টিপাত। এই মুহূর্তে প্রশান্ত মহাসাগরে ঘটে চলা অস্থিরতা যদি বঙ্গোপসাগরের আর্দ্রতা জোগানে টান ধরায়, তা হলে রাজ্যে বৃষ্টির পরিমাণে হেরফের হতে পারে আগামী কয়েক সপ্তাহে। কৃষিনির্ভর জেলাগুলিতে এর প্রভাব বিশেষভাবে অনুভূত হতে পারে বলেই মনে করছেন আবহাওয়াবিদদের একাংশ। যদিও নির্দিষ্ট পূর্বাভাসের জন্য দেশের আবহাওয়া দপ্তরের নিয়মিত বুলেটিনের উপরেই নজর রাখার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।