ফার্স্ট বয় গুরুগ্রাম, পারদ নেমেছে শূন্যের ঘরে

সোমবার শ্রীনিকেতনকে হারিয়ে দিয়েছিল কল্যাণী। ঠান্ডার নিরিখে দক্ষিণবঙ্গে ৭.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা নিয়ে প্রথম হয়ে গিয়েছিল নদিয়ার কল্যাণী। এবার সেই উলটপুরাণ ঘটল উত্তর ভারতেও। শিমলা এবং মসুরীকে পিছনে ফেলে দিল দিল্লি এবং গুরুগ্রাম। ‘ফার্স্ট বয়’ হিসেবে উঠে এল রাজধানী ও হরিয়ানার গুরুগ্রাম। রাজধানীতে মঙ্গলবার দিনের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস। কিন্তু  হরিয়ানার গুরুগ্রামে সেই তাপমাত্রা প্রায় শূন্যে পৌঁছে গিয়েছে। শিমলায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ৮.৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস এবং মসুরীর তাপমাত্রা ৭.৭।

জানুয়ারির শুরু থেকেই উত্তর ভারত জুড়ে ঠান্ডার দাপট বেড়েছে। পশ্চিম হিমালয় অঞ্চলের হাড়কাঁপানো কনকনে হাওয়া কোনও বাধা ছাড়াই ঢুকে পড়ছে উত্তর এবং উত্তর-পশ্চিম ভারতে। তার জেরে তাপমাত্রা হু হু করে নেমে যাচ্ছে। সেই সঙ্গে চলছে শৈত্যপ্রবাহও। রাজধানীতে গত চার দিন ধরেই তাপমাত্রা ৪ ডিগ্রিতে ঘোরাফেরা করছিল। কিন্তু রবিবারই রাজধানীর আয়ানগরে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ৩ ডিগ্রির নীচে নেমে যায়। মঙ্গলবার তাপমাত্রা আরও নেমেছে। ফলে এটিই এখনও পর্যন্ত রাজধানীতে এই মরসুমের শীতলতম দিন।

দিল্লির মতো হরিয়ানাতেও শৈত্যপ্রবাহ চলছে। মঙ্গলবার গুরুগ্রামে তাপমাত্রা প্রায় শূন্যে নেমে গিয়েছে। সোমবার গুরুগ্রামের দিনের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ০.৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস। গত ৫০ বছরে গুরুগ্রামে এই পর্যায়ে তাপমাত্রা নামেনি বলেই মত আবহবিদদের। এর আগে তিন বার শূন্যে নেমেছিল এই শহরের তাপমাত্রা। ১৯৬৬ সালের ৫ ডিসেম্বর সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ০.৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস, ১৯৭০ সালের ১১ জানুয়ারিতে শূন্য, ১৯৭৯ সালের ২২ জানুয়ারি ০.৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস।


সোমবার হিমাচলের কাংড়া এবং পালমপুরের তাপমাত্রাও ছিল নিম্নমুখী। সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস। জম্মুতে ৩.৪, উত্তরাখণ্ডের মুক্তেশ্বর, জলিগ্রান্ট এবং টিহরীতে ৪.১ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা ছিল। উত্তর ভারতজুড়ে আরও ঠান্ডা এবং ঘন কুয়াশা পড়বে বলে জানিয়েছে মৌসম ভবন।

উত্তর ভারতজুড়ে হাড়কাঁপানো ঠান্ডার কারণ হিসেবে আবহবিদরা পশ্চিমি ঝঞ্ঝাকে দায়ী করেছেন। এ ছাড়াও উত্তর-পশ্চিম দিকে থেকে ঠান্ডা হাওয়া সমতলে ঢুকে পড়ছে। আর তার জেরেই জানুয়ারির শুরুতেই পাহাড়ি অঞ্চলে শুরু হয়েছে তুষারপাত। তার সঙ্গে রয়েছে উত্তুরে হাওয়ার দাপট। বিনা বাধায় উত্তর ভারতের সমতল শহরগুলিতে প্রবেশ করছে। যার জেরে গুরুগ্রামের মতো শহরগুলিতে কনকনে ঠান্ডার দাপট বেডে় চলেছে। তবে শৈলশহরগুলিতে মেঘলা থাকায় সে ভাবে ঠান্ডা পড়ছে না। যার জেরে সমতলের সঙ্গে শৈলশহরগুলির তাপমাত্রায় বিরাট তফাৎ হচ্ছে। সমতলে হু হু করে নামছে তাপমাত্রার পারদ।