শৈতপ্রবাহের সতর্কতা দুই জেলায়, দক্ষিণবঙ্গের আট জেলায় ‘শীতল’ দিনের পূর্বাভাস

এখনই রেহাই নেই শীতের প্রকোপ থেকে। আরও শীত পড়ার পূর্বাভাস দক্ষিণের বিভিন্ন জেলায়। হতে পারে শৈতপ্রবাহও। দক্ষিণবঙ্গের দুই জেলায় শৈতপ্রবাহের কমলা সতর্কতা জারি করেছে হাওয়া অফিস।  দক্ষিণবঙ্গের বিভিন্ন জেলায় থাকতে পারে শীতল দিনও। উত্তরবঙ্গের জেলাগুলিতেও ঘন কুয়াশার পূর্বাভাস রয়েছে। দৃশ্যমানতা তলানিতে ঠেকতে পারে কোথাও কোথাও।

মঙ্গলবার থেকে পূর্ব বর্ধমান এবং বীরভূমে শৈত্যপ্রবাহের পূর্বাভাস দিয়েছে আলিপুর আবহাওয়া দপ্তর। পূর্ব বর্ধমানের ক্ষেত্রে বৃহস্পতিবার সকাল পর্যন্ত এবং বীরভূমের ক্ষেত্রে শুক্রবার সকাল পর্যন্ত শৈত্যপ্রবাহের পূর্বাভাস রয়েছে। যদিও উত্তরবঙ্গে কোথাও এখনই শৈত্যপ্রবাহের সম্ভাবনা নেই।

দক্ষিণবঙ্গের আট জেলায় ‘শীতল দিন’ থাকতে পারে বলেও জানানো হয়েছে। কোনও এলাকার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ১০ ডিগ্রি বা তার কম থাকলে ‘শীতল দিন’ ধরা হয়।  শৈত্যপ্রবাহের ক্ষেত্রে যেমন সর্বনিম্ন তাপমাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে কতটা কমল তা মাপা হয়, শীতল দিনের ক্ষেত্রে তেমন হয় না। এ ক্ষেত্রে দিনের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে ৪.৫ ডিগ্রি বা তার বেশি কমছে কি না, তা দেখা হয়। তবেই সেই জায়গায় ‘শীতল দিন’ তৈরি হয়েছে বলা যায়।


‘শীতল দিন’ চলবে হুগলি, উত্তর ২৪ পরগনা, দক্ষিণ ২৪ পরগনা, পূর্ব বর্ধমান, পশ্চিম বর্ধমান, বীরভূম, মুর্শিদাবাদ এবং নদিয়ায়। দুই ২৪ পরগনা এবং হুগলিতে চলবে আগামী বৃহস্পতিবার পর্যন্ত। বাকি পাঁচ জেলায় শুক্রবার পর্যন্ত ‘শীতল দিন’ চলবে।

দক্ষিণবঙ্গে গোটা সপ্তাহ আবহাওয়া মোটের উপর শুষ্কই থাকবে। হালকা থেকে মাঝারি কুয়াশা থাকতে পারে প্রায় সব জেলাতেই। উত্তরবঙ্গে আগামী কয়েক দিন প্রায় সব জেলাতেই ঘন কুয়াশা থাকার সম্ভাবনা। দৃশ্যমানতা কোথাও কোথাও ৫০ মিটার পর্যন্তও নেমে যেতে পারে। জলপাইগুড়ি, আলিপুরদুয়ার এবং কোচবিহারেরও শুক্রবার সকাল পর্যন্ত ‘শীতল দিন’ থাকতে পারে।

মঙ্গলবার কলকাতার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ১০.২ ডিগ্রি সেলসিয়াস। স্বাভাবিকের তুলনায় এ দিন কলকাতায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ৩.৭ ডিগ্রি কম। সকাল থেকেই রোদেরও দেখা মেলেনি শহরে। ভোরের দিকে হালকা কুয়াশার চাদরে ঢেকে ছিল তিলোত্তমা। বেলা বাড়লেও ঠান্ডার অনুভূতি কমেনি। সকাল থেকেই হিমেল হাওয়ায় আরও জাঁকিয়ে বসেছে শীত।

শহরতলি এবং সংলগ্ন জেলাগুলিতে কোথাও কোথাও ভোরের দিকে পারদ ১০ ডিগ্রিরও নীচে নেমে যায়। কলকাতা সংলগ্ন জেলাগুলি সোমবার বেশি রাতের দিক থেকেই ঘন কুয়াশার চাদরে ঢাকতে শুরু করে। মঙ্গলবার ভোরের দিকেও কুয়াশা ছিল। নির্ধারিত সময়ের চেয়ে বেশ কিছুটা দেরিতে চলে শিয়ালদহ এবং হাওড়া ডিভিশনের ভোরের লোকাল ট্রেনগুলি।

সোমবার কলকাতার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ১২.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস, স্বাভাবিকের চেয়ে ১.৭ ডিগ্রি কম। এর আগে রবিবারই আবার শহরের তাপমাত্রা ১৫ ডিগ্রির কাছাকাছি ছিল। সর্বনিম্ন তাপমাত্রা হয়েছিল ১৪.৯, স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি। সেখান থেকে সোমবার এক ধাক্কায় দুই ডিগ্রি নেমে যায় পারদ। মঙ্গলবার আরও দুই ডিগ্রি কমল। এমন শীত অবশ্য কলকাতায় আগেও পড়েছে। এর আগে ২০১৩ সালের জানুয়ারিতে শহরের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা নেমে গিয়েছিল ৯ ডিগ্রিতে। ১৮৯৯ সালের জানুয়ারিতে ৬.৭ ডিগ্রিতেও নেমেছিল কলকাতার পারদ।