ভেনেজুয়েলার তেলের বাজার নিয়ন্ত্রণ করবে যুক্তরাষ্ট্র, দাবি ট্রাম্প প্রশাসনের

ভেনেজুয়েলার তেলের বাজারের দখল নিতে চলেছে আমেরিকা। প্রকাশ্যে বিবৃতি দিয়ে ট্রাম্প প্রশাসনের আধিকারিকরা জানিয়েছেন, আগামী দিনে আমেরিকাই ভেনেজুয়েলার তেল বাজারে বিক্রি করবে। শুধু তাই নয়, ট্রাম্প প্রশাসনই সিদ্ধান্ত নেবে ভেনেজুয়েলার তেল কাকে বিক্রি করা হবে। তেল বিক্রির পর প্রাপ্ত মুনাফাও যাবে আমেরিকার কোষাগারে। বিবৃতিতে আরও জানানো হয়েছে, মুনাফার অঙ্ক ভেনেজুয়েলার নামে থাকলেও তাতে নিয়ন্ত্রণ থাকবে আমেরিকার। ট্রাম্প প্রশানের দাবি, ভেনেজুয়েলাকে শুধুমাত্র আমেরিকার সঙ্গেই তেলের ব্যবসা করতে হবে। ভেনেজুয়েলা চিন কিংবা রাশিয়াকে তেল বিক্রি করুক তা একেবারেই চায় না ট্রাম্প প্রশাসন। আমেরিকার জ্বালানি দপ্তরের সচিব ক্রিস রাইট জানিয়েছেন, ‘ভেনেজুয়েলার অপরিশোধিত তেল আমরা বাজারে নিয়ে গিয়ে বিক্রি করতে চাই। ওদের যে তেল মজুত রয়েছে, আগে তা বিক্রি করা হবে। তার পর আরও তেল উত্তোলন করে তা বিক্রি করবে আমেরিকা।’

অন্যদিকে, বহুজাতিক মার্কিন সংস্থা জেপি মর্গান এক রিপোর্টে দাবি করেছে, আগামী দিনে ভেনেজুয়েলা বিশ্বব্যাপী অপরিশোধিত তেলের বাজারে অন্যতম প্রধান উৎস হয়ে উঠতে পারে। ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে দীর্ঘ সময়ের জন্য অপরিশোধিত তেলের দামও কমে যাওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে। রিপোর্টে দাবি করা হচ্ছে, ভেনেজুয়েলায় কোনওরকম রাজনৈতিক পটপরিবর্তন হলে আগামী দশকে দক্ষিণ আমেরিকার এই দেশ বিশ্বে তেল সরবরাহের অন্যতম বড় উৎস হয়ে উঠবে।

এক্ষেত্রে আগামী এক দশকের মধ্যে প্রতিদিন ২৫ লক্ষ ব্যারেল তৈল উত্তোলন করতে পারবে ভেনেজুয়েলা, অনুমান জেপি মর্গান-এর। জেপি মর্গানের রিপোর্টে দাবি, ভেনেজুয়েলা রাজনৈতিক ভাবে স্থিতিশীল হলে এবং সুনির্দিষ্ট চুক্তি হলে শেভরন, এক্সনমোবিল এবং কনোকোফিলিপসের মতো মার্কিন সংস্থাগুলি আবার ভেনেজুয়েলায় প্রবেশের সম্ভাবনা সৃষ্টি হবে।পাশাপাশি স্পেনের রেপসল এবং ইটালির এনআই-এর মতো ইউরোপীয় তৈল সংস্থাগুলিও বিনিয়োগে আগ্রহী হতে পারে। বিনিয়োগ বাড়লে তেল উত্তোলনের হারও বাড়বে এবং বিশ্বের বাজারে দামও কমতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।