কেবল মাত্র সাধারণ মানুষই নয়, এবার বিধানসভা নির্বাচনে দৃষ্টিহীন ভোটদের দিকে নির্বাচন কমিশনের বিশেষ নজর। ইতিমধ্যেই রাজ্যের যে ইভিএম গুলোতে ভোট নেওয়া হবে সেই সব ইভিএম-এ প্রার্থীর ছবির পাশে ব্রেইল ভাষায় দৃষ্টিহীনদের জন্য কাগজ লাগানো হয়ে গিয়েছে। যেখানে স্পর্শ করলেই দৃষ্টিহীন ভোটাররা সাঙ্কেতিক চিহ্ন-র মাধ্যমে বুঝতে পারবেন কোন কোন রাজনৈতিক দল রয়েছে, আর সেই মোতাবেক তাঁরা তাঁদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারবেন। কিন্তু যারা দৃষ্টিহীন অথচ ব্রেইল ভাষা জানেন না তাঁরা কি তাহলে নিজেদের ভোটাধিকার প্রযোগ করতে পারবেন না?
১৯৫০ সালের জনপ্রতিনিত্ব আইন অনুযায়ী ১৪এমএ ধারা প্রযোগ করে নির্বাচন কমিশন তাঁদের ভোটাধিকারের ব্যবস্থা করেছে। সেই ধারায় বলা আছে, কোন দৃষ্টিহীন ভোটার যিনি ব্রেইল ভাষা জানেন না তিনি তাঁর সঙ্গে একজন সহকারীকে নিয়ে বুথের ভিতর প্রবেশ করতে পারবেন। এরপর প্রিসাইডিং অফিসারকে আবেদন করবেন ১৪এমএ ধারা অনুযায়ী তাঁর এই সহকারী তাঁর হয়ে ভোট দেবেন এবং তাতে তাঁর কোন আপত্তি থাকবে না।
এরপর প্রিসাইডিং অফিসার সংশ্লিষ্ট ফর্মটিকে পূরণ করবেন যাতে উক্ত সেই দৃষ্টিহীন ভোটারের এবং তাঁর সহকারীর বিস্তারিত তথ্য থাকবে। এরপর প্রথমে তাতে সক্ষর করবেন দৃষ্টিহীন সেই ব্যক্তির সহকারী, প্রিসাইডিং অফিসার, বুথে থাকা তিন জন ভোট কর্মী এবং বুথে থাকা সব রাজনৈতিক দলের পোলিং এজেন্টরা। এরপর সেই নথিপত্র কাগজটিকে প্রিসাইডিং অফিসার নির্বাচন কমিশনের দেওয়া লাল ডাইরিতে নথিভুক্ত করবেন তারপর দৃষ্টিহীন সেই ব্যক্তি তাঁর সহকারীকে নিয়ে ভোট দান কক্ষে প্রবেশ করে তাঁর সহকারীকে নির্দেশ দেবেন তাঁর পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দেওয়ার জন্য।
আর এইভাবেই নির্বাচন কমিশন ১৯৫০ সালের জনপ্রতিনিত্ব আইনকে অত্যন্ত কড়াকড়ির সঙ্গে পালন করার নির্দেশ দিয়েছে সিইও থেকে শুরু করে নির্বাচনের সঙ্গে যুক্ত সব প্রিসাইডিং অফিসার, রাজনৈতিক দল এবং ভোটকর্মীদের। যেহেতু এবার রাজ্যে ২৩ বছর পর এসআইআর হয়ে গিয়েছে, সেখান থেকে নির্বাচন কমিশনের ধারণা অনেকটাই বাড়বে দৃষ্টিহীন ভোটারদের উপস্থিতির শতাংশের হার এমনটাই খবর কমিশন সূত্রে।