বিধানসভা নির্বাচনের প্রাক্কালে রাজ্যের রাজনৈতিক পরিস্থিতি ক্রমশ উত্তপ্ত হয়ে উঠছে। এই আবহে সোমবার বীরভূম ও পশ্চিম বর্ধমান জেলায় একাধিক জনসভা ও রোড শো করে জোরকদমে প্রচার চালালেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত ধারাবাহিক কর্মসূচির মাধ্যমে তিনি বিজেপির পক্ষে জনমত গঠনের পাশাপাশি শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেসকে একাধিক ইস্যুতে তীব্র আক্রমণ করেছেন।
দিনের শুরুতে বোলপুরের পল্লীমঙ্গল ক্লাবের মাঠে সভা করেন শাহ। এরপর খয়রাশোল হয়ে ময়ূরেশ্বরে পৌঁছে বিজেপি প্রার্থী দুধকুমার মণ্ডলের সমর্থনে জনসভায় অংশ নেন। উল্লেখযোগ্যভাবে, একই দিনে বীরভূমের সিউড়িতে সভা ছিল মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের। মাত্র কয়েক কিলোমিটারের ব্যবধানে দুই শিবিরের জমসভা ঘিরে রাজনৈতিক উত্তেজনা চরমে ওঠে।
ময়ূরেশ্বরের সভা থেকে অমিত শাহ সরাসরি তৃণমূলের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসের অভিযোগ তুলেছেন। তাঁর দাবি, রাজ্যে ‘গুন্ডারাজ’ চলছে এবং সাধারণ মানুষ আতঙ্কে রয়েছে। তবে তিনি আশ্বাস দিয়েছেন, নির্বাচন কমিশনের উদ্যোগে পর্যাপ্ত কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে, ফলে ২৩ এপ্রিল ভোটাররা নির্ভয়ে ভোট দিতে পারবেন। তাঁর কথায়, ‘কেউ আপনাদের ভয় দেখাতে পারবে না, গণতন্ত্রের অধিকার প্রয়োগ করুন।’
শুধু আইনশৃঙ্খলা নয়, অনুপ্রবেশ ইস্যুতেও আক্রমণ শানিয়েছেন তিনি। শাহের অভিযোগ, রাজ্য সরকার ইচ্ছাকৃতভাবে সীমান্তে কাঁটাতার দেওয়ার কাজে বাধা দিচ্ছে এবং অনুপ্রবেশকারীদের রক্ষা করছে। বিজেপি ক্ষমতায় এলে ৪৫ দিনের মধ্যে সীমান্তে কাঁটাতারের জন্য জমি দেওয়া হবে বলে তিনি প্রতিশ্রুতি দেন।
পাশাপাশি দাবি করেন, অনুপ্রবেশকারীদের বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপ নেওয়া হবে এবং বাংলাকে সুরক্ষিত করা হবে। অমিত শাহর কথায়, ‘মমতা দিদি অনুপ্রবেশকারীদের রক্ষা করছেন, বিজেপির সরকার তৈরি হওয়ার পর বাংলা থেকে এদের বার করা হবে। তার পরেই তাঁর ঘোষণা, ৫ মে বিজেপি সরকার গড়ার পর সারা দেশ থেকেই অনুপ্রবেশকারীদের বার করা হবে।’
এরপর পশ্চিম বর্ধমানের রানিগঞ্জে সভা করে তিনি তৃণমূলের বিরুদ্ধে সিন্ডিকেট রাযের অভিযোগ তুলেছেন। তাঁর বক্তব্য, এই ব্যবস্থায় সাধারণ মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে এবং পরিবর্তনের জন্য মুখিয়ে রয়েছে। তিনি আরও বলেছেন, নির্বাচনের ফল প্রকাশের পরই রাজ্যে সরকার পরিবর্তন হবে এবং বিজেপি ক্ষমতায় এলে দুর্নীতির সঙ্গে যুক্তদের বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সভা থেকে বিজেপি প্রার্থী জিতেন্দ্র তিওয়ারিকে জেতানোর আবেদন জানিয়েছেন শাহ এবং ভবিষ্যতে তাঁকে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব দেওয়ার আশ্বাস দেন। কর্মী-সমর্থকদের উদ্দেশে তিনি আরও বলেছেন, শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত সংগঠিতভাবে কাজ করতে হবে। সব মিলিয়ে, একাধিক সভা থেকে তীব্র আক্রমণাত্মক ভাষণে জনসাধারণকে নির্বাচনী বার্তা দিয়েছেন অমিত শাহ। তাঁর এই ধারণে জনসাভা ভোটবাক্সে কতটা প্রভাব ফেলবে, তা নিয়ে জোর চর্চা রাজনৈতিক মহলে।