নতুন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীকে নবান্নে ‘গার্ড অফ অনার’ দেওয়া হল। ‘সোনার বাংলা’ গড়ার স্বপ্ন বাস্তবায়নের লক্ষ্যে সোমবারই প্রথম ক্যাবিনেট বৈঠক করবেন তিনি। এদিন মোট তিনটি বৈঠক করবেন শুভেন্দু।
সোমবার সকালে চিনার পার্কের বাসভবন থেকে বেরিয়ে প্রায় সাড়ে ন’টার সময় রাজ্য বিজেপি সভাপতি শমীক ভট্টাচার্যের বাড়িতে পৌঁছন শুভেন্দু অধিকারী। সেখানে স্থানীয় কর্মী-সমর্থকেরা ফুলের মালা দিয়ে তাঁকে অভ্যর্থনা জানান। পরে শমীককে সঙ্গে নিয়েই একই গাড়িতে সল্টলেকের রাজ্য বিজেপি দপ্তরের উদ্দেশে রওনা দেন তিনি। দলীয় কার্যালয়ও বিশেষভাবে সাজানো হয়েছিল তাঁকে স্বাগত জানানোর জন্য। ফুল, বরণডালা এবং ২০৭টি পদ্মফুলের মালা দিয়ে শুভেচ্ছা জানানো হয় শুভেন্দুকে। কুলো হাতে মহিলারাও তাঁকে বরণ করে নেন। এরপর সেখানে একটি গুরুত্বপূর্ণ সাংগঠনিক বৈঠক করেন তিনি।
দলীয় বৈঠক শেষ করে নবান্নে পৌঁছন নতুন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। সেখানে তাঁকে ‘গার্ড অব অনার’ দেওয়া হয়। তারপর নবান্নের ১৪ তলায় নিজের দপ্তরে যান তিনি। ইতিমধ্যেই সেখানে উপস্থিত ছিলেন নবনির্বাচিত পাঁচ মন্ত্রী— দিলীপ ঘোষ, অগ্নিমিত্রা পাল, ক্ষুদিরাম টুডু, অশোক কীর্তনীয়া এবং নিশীথ প্রামাণিক। এদিনই অনুষ্ঠিত হতে চলেছে নতুন বিজেপি সরকারের প্রথম মন্ত্রীসভার বৈঠক।
সূত্রের খবর, দিনভর একাধিক প্রশাসনিক বৈঠক করার পরিকল্পনা রয়েছে মুখ্যমন্ত্রীর। প্রথমে সচিবদের সঙ্গে, তারপর জেলাশাসকদের সঙ্গে এবং বিকেলে পুলিশ আধিকারিকদের নিয়ে বৈঠকে বসবেন তিনি। ওই বৈঠকে রাজ্য পুলিশের ডিজি, অজয় নন্দ-সহ কলকাতা পুলিশের শীর্ষ কর্তারা এবং বিভিন্ন জোনের উচ্চপদস্থ পুলিশ আধিকারিকদের উপস্থিত থাকার কথা।
এর আগে রবিবার নবান্নের নিরাপত্তা ব্যবস্থা খতিয়ে দেখে কলকাতা পুলিশ ও হাওড়া পুলিশ। নবান্নে পৌঁছন কলকাতার পুলিশ কমিশনার অজয় নন্দ এবং হাওড়া পুলিশ কমিশনার অখিলেশ চতুর্বেদী। তাঁদের সঙ্গে ছিলেন পুলিশের আরও কয়েকজন শীর্ষ আধিকারিক। মুখ্যমন্ত্রীর নিরাপত্তা ব্যবস্থা, বৈঠকের সভাঘর এবং নবান্ন চত্বরের সামগ্রিক সুরক্ষা খুঁটিয়ে পর্যালোচনা করা হয়। পরে নিরাপত্তা সংক্রান্ত একটি জরুরি বৈঠকও করেন পুলিশ আধিকারিকরা।