গুয়াহাটি যেন বার বার তাঁর জন্যই ইতিহাসের মঞ্চ হয়ে ওঠে। ২০১৮ সালে এই মাঠেই ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিরুদ্ধে অপরাজিত ১৫২ করেছিলেন। এ বার সেই ক্যারিবিয়ানদের বিরুদ্ধেই আরও একটি বড় মাইলফলক ছুঁয়ে ফেললেন রোহিত শর্মা। ৩৯ বছর বয়সে এক দিনের ক্রিকেটে ১২ হাজার রানের গণ্ডি পেরিয়ে গেলেন রোহিত। আর সেই পথেই পিছনে ফেললেন ভারতীয় ক্রিকেটের আর এক কিংবদন্তি শচীন তেন্ডুলকরকে।
বুধবার গুয়াহাটিতে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিরুদ্ধে দ্বিতীয় ওয়ানডেতে ৭৩ রানের ইনিংস খেলেই ১২ হাজার ওয়ানডে রানে পৌঁছে যান রোহিত। ২৮২ ইনিংসে এই কীর্তি গড়লেন তিনি। তাঁর আগে মাত্র এক জন এই মাইলফলক আরও দ্রুত ছুঁয়েছেন — বিরাট কোহলি, ২৪২ ইনিংসে। সচিনের লেগেছিল ৩০০ ইনিংস। অর্থাৎ শচীনের থেকে ১৮ ইনিংস কমেই ১২ হাজারে পৌঁছে গেলেন রোহিত।
বিশ্বের সপ্তম ব্যাটার হিসাবে ১২ হাজার ওয়ানডে রানের ক্লাবে ঢুকে পড়লেন রোহিত। ভারতীয়দের মধ্যে শচীন এবং বিরাটের পর তৃতীয়। এই তালিকায় রয়েছেন রিকি পন্টিং, কুমার সঙ্গাকারা, সনৎ জয়সূর্য এবং মাহেলা জয়বর্ধনও।
এ দিন গুয়াহাটির পুরো ম্যাচটাই ছিল মাইলফলকে ভরা এক ম্যাচ। ওয়েস্ট ইন্ডিজের তিন ব্যাটারের সেঞ্চুরিতে ভর করে ৪০৫ রান তোলে ক্যারিবিয়ানরা। জন ক্যাম্পবেল, শাই হোপ এবং আমির জঙ্গুর সেঞ্চুরি সিরিজের দ্বিতীয় ওয়ানডে-তে ক্যারিবিয়ান দলকে ৫০ ওভারে ৭ উইকেটে এই ব্শাল রান তুলে দেয়, যা ওয়েস্ট ইন্ডিজের ক্রিকেটে সবচেয়ে বড় ওয়ান ডে ইনিংস।
ভারতের সামনে লক্ষ্য দাঁড়ায় ৪০৬। সেই পাহাড় টপকাতে নেমে শুরু থেকেই আগ্রাসী হয়ে ওঠেন রোহিত। মাত্র ৩২ বলে হাফ সেঞ্চুরি করেন তিনি। শুভমান গিলের সঙ্গে প্রথম উইকেটে দ্রুত রান তুলতে থাকেন ‘হিটম্যান’। ১২ হাজার রানের জন্য দরকার ছিল আর ৭৩। রস্টন চেজের বলে সিঙ্গল নিয়ে সেই মাইলফলক ছুঁয়ে ফেলেন রোহিত।
শেষ পর্যন্ত ১০১ রানে থামেন রোহিত। তবে তাঁর ইনিংসের তাৎপর্য শুধুই সংখ্যায় নয়। ওয়েস্ট ইন্ডিজের ৪০৫ রানের জবাবে ভারতের ইনিংসকে গতি দেওয়ার পাশাপাশি নিজের নামও তুলে ফেললেন কিংবদন্তিদের তালিকায়।
Bro, I have never seen Rohit Sharma celebrate his century like this 🔥
Ajit Agarkar, you are done, bro 😭 https://t.co/2ormDuWeB3
— Indian Cricket Ministry (@Tejashyyyyyy) September 30, 2026
এ দিন আরও একটি নজির গড়েছেন রোহিত। ভারতের মাটিতে ওয়ানডে-তে ২০০ ছক্কার মাইলফলকও ছুঁয়েছেন তিনি। ওয়ানডেতে তাঁর সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত রান ২৬৪—শ্রীলঙ্কার বিরুদ্ধে কলকাতায় ২০১৪ সালে করা সেই ইনিংস এখনও এক দিনের ক্রিকেটে সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত স্কোর। তিনিই একমাত্র ব্যাটার, যাঁর ঝুলিতে রয়েছে তিনটি ডাবল সেঞ্চুরি।
অন্যদিকে, শুভমান গিলও এদিন সেঞ্চুরি হাঁকিয়ে দলকে জয়ের দিকে এগিয়ে নিয়ে যান। তিরুবনন্তপুরমে প্রথম ওয়ানডে-তেও সেঞ্চুরি করেছিলেন তিনি। অর্থাৎ, টানা দ্বিতীয় সেঞ্চুরি তাঁর। এ দিন ৬৫ বলে সেঞ্চুরি পূর্ণ করেন তিনি। ৫০ থেকে ১০০-য় পৌঁছতে ২৪ বল নেন তিনি।
রোহিত ফিরে যাওয়ার পর ক্রিজে নেমে আগুন ঝরাতে শুরু করেন বিরাট কোহলিও। ১৪ বলে ২৬ রান তোলেন তিনি। তিনটি চার ও একটি ছয় হাঁকিয়ে। উল্টোদিকে তখন শুভমান ১০০ বলে ১৭৩ করে অপরাজিত।
কিন্তু ভারতীয় বোলারদের পারফরম্যান্স বেশ উদ্বেগজনক। জসপ্রীত বুমরাহ এশিয়ান গেমসে খেলছেন। মহম্মদ সিরাজও এই সিরিজে নেই। ফলে তরুণ পেসারদের উপরেই ভরসা করতে হচ্ছে ভারতকে। কিন্তু গুয়াহাটিতে সেই আক্রমণই সবচেয়ে বড় সমস্যায় ফেলে দেয় দলকে।
অভিষেক ম্যাচে অকিব নবি ৮.৫ ওভারে ৮৪ রান দিয়ে একটি উইকেটও পাননি। গুরনুর ব্রার ১০ ওভারে ৯৬ রান দিয়ে ২ উইকেট নিয়েছেন। প্রসিদ্ধ কৃষ্ণ ৫ ওভারে ৪৫ রান দিয়ে পেয়েছেন একটি উইকেট। অর্থাৎ, পেস আক্রমণ থেকে এসেছে ৪০ ওভারে ২২৫ রান।
তুলনায় স্পিনারদের পারফরম্যান্স মন্দের ভাল। কুলদীপ যাদব ২ উইকেট নিয়ে এক দিনের ক্রিকেটে ২০০ উইকেটের ক্লাবে ঢুকে পড়েন। রবীন্দ্র জাদেজাও পেয়েছেন ২ উইকেট। তবে তাঁদের রানও কম যায়নি—কুলদীপ ৬৫ এবং জাডেজা ৭৫ রান খরচ করেছেন।
এর মধ্যেই চোটের ধাক্কাও এসেছে। ৬.১ ওভার বল করার পর গোড়ালিতে চোট পেয়ে মাঠ ছাড়েন নমন ধীর।
প্রথম ওয়ানডেতে ৮ উইকেটে হেরে সিরিজে পিছিয়ে থাকা ওয়েস্ট ইন্ডিজকে এ দিন ব্যাট হাতে যেন সম্পূর্ণ অন্য দল মনে হয়।