পৃথিবীজুড়ে প্রযুক্তির দ্রুত প্রসারের সঙ্গে তাল মিলিয়ে এগোনোর প্রয়োজনীয়তা ক্রমশ বাড়ছে। বিশেষ করে ভারতের তথ্যপ্রযুক্তি শিল্পকে আরও শক্তিশালী ও ভবিষ্যতমুখী করে তুলতেই ২০০৮ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় সিআইও অ্যাসোসিয়েশন। দেশের তথ্যপ্রযুক্তি শিল্পের শীর্ষ আধিকারিকদের নিয়ে গড়ে ওঠা এই অ-লাভজনক সংস্থা দীর্ঘদিন ধরেই জাতীয় ও আন্তর্জাতিক স্তরে প্রযুক্তি জ্ঞানের আদানপ্রদান এবং সহযোগিতার কাজ করে চলেছে।
এই ধারাবাহিকতারই অঙ্গ হিসেবে সম্প্রতি কলকাতার নিউটাউনের সিটি সেন্টারে অনুষ্ঠিত হল ‘সিআইও ফিউচারস্কেপ ২০২৬’-এর কলকাতা চ্যাপ্টারের সপ্তম বার্ষিকী উদযাপন। এই অনুষ্ঠানে ভারতের ১৮০ জনেরও বেশি সিআইও এবং সিনিয়র ডিজিটাল নেতারা অংশ গ্রহণ করেন।
গত ৯ জানুয়ারি শুক্রবার কলকাতা প্রেস ক্লাবে আয়োজিত এক সাংবাদিক সম্মেলনে অনুষ্ঠানের বিস্তারিত তুলে ধরা হয়। সিআইও অ্যাসোসিয়েশন কলকাতা চ্যাপ্টারের সভাপতি ডঃ সন্দীপ প্রধান বলেন, ‘সিআইও ফিউচারস্কেপ ২০২৬ ভারতের উন্নততর প্রযুক্তিগত রূপান্তরের সঙ্গে তাল মিলিয়ে এগোনোর পথ দেখাবে। এআই এখন আর পরীক্ষামূলক প্রযুক্তি নয়, বরং বর্তমান ও ভবিষ্যতের চালিকাশক্তি। আগামী দিনে তথ্যপ্রযুক্তিতে এআই নেতৃত্ব দেবে।’
তিনি আরও জানান, এই প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে সিআইওরা আরও দায়িত্বশীল, নিরাপদ এবং উন্নত প্রযুক্তির পথে একত্রে এগিয়ে যাবেন, যা আগামী দিনের তথ্যপ্রযুক্তি শিল্পের রূপরেখা নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেবে। ‘আমাদের লক্ষ্য যন্ত্র নয়, বরং যন্ত্রের মাধ্যমে মানবজীবনে ইতিবাচক প্রভাব ফেলা প্রযুক্তির বিকাশ’।
সিআইও অ্যাসোসিয়েশন দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তির উন্নয়নে জাতীয় স্তরে কাজ করে চলেছে। প্রযুক্তির বিশাল জ্ঞানভাণ্ডারকে সহযোগিতার মাধ্যমে সবার কাছে পৌঁছে দেওয়াই এই সংগঠনের মূল উদ্দেশ্য। আগামী দিনে নতুন চিন্তাধারা, উদ্ভাবন এবং উন্নত প্রযুক্তিকে সামনে রেখে জাতীয় প্ল্যাটফর্ম হিসেবে আরও সক্রিয় ভূমিকা নেওয়ার লক্ষ্য রয়েছে সংস্থার।
বর্তমানে সিআইও অ্যাসোসিয়েশন ভারত ও আন্তর্জাতিক স্তরে মোট ১৯টি অধ্যায় পরিচালনা করছে। এর মধ্যে রয়েছে বেঙ্গালুরু, চেন্নাই, কোয়েম্বাটোর, দিল্লি এনসিআর, গোয়া, গুজরাত, হায়দ্রাবাদ, কেরালা, কলকাতা, মধ্যপ্রদেশ, মুম্বই, নাগপুর, পাঞ্জাব, পুণে, রাজস্থান এবং আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে বাংলাদেশ, দুবাই (ইউএই), ইন্দোনেশিয়া ও ফিলিপিন্স।
সিআইও অ্যাসোসিয়েশনের কলকাতা চ্যাপ্টার প্রযুক্তি নেতৃত্বের পাশাপাশি সামাজিক ও আঞ্চলিক উন্নয়নেও বিশেষ ভূমিকা পালন করছে। পূর্ব ভারতের বিস্তীর্ণ অঞ্চলকে সামনে রেখে এই চ্যাপ্টারের প্রধান লক্ষ্যগুলির মধ্যে রয়েছে— শিল্প ও শিক্ষার সহযোগিতায় এআই এবং ডিজিটাল দক্ষতা উন্নয়ন, সাইবার নিরাপত্তা বিষয়ে সচেতনতা ও স্থিতিশীলতা বৃদ্ধি, স্টার্টআপ ও উদ্ভাবনী বাস্তুতন্ত্রকে শক্তিশালী করা এবং জনস্বার্থের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে সম্পূর্ণ দায়িত্বশীল প্রযুক্তি গ্রহণ।
এই উদ্যোগগুলির মাধ্যমে কলকাতা চ্যাপ্টারকে এন্টারপ্রাইজ এআই নেতৃত্ব এবং ডিজিটাল রূপান্তরের একটি বিশ্বাসযোগ্য কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার পাশাপাশি ‘ডিজিটাল ইন্ডিয়া’, ‘মেক ইন ইন্ডিয়া’ এবং ‘আত্মনির্ভর ভারত’-এর মতো জাতীয় অগ্রাধিকারের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে কাজ করছে সংগঠনটি।
গত ১০ জানুয়ারি সিআইও ফিউচারস্কেপ ২০২৬-এর উদ্বোধন করেন এসএপি ইন্ডিয়ার প্রেসিডেন্ট ও ম্যানেজিং ডিরেক্টর শ্রী মনীশ প্রসাদ এবং সাইফি টেকনোলজিস-এর সিএমডি শ্রী রাজু ভেটেসনা। তাঁদের সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন সিআইও অ্যাসোসিয়েশন কলকাতা চ্যাপ্টারের সভাপতি ডঃ সন্দীপ প্রধানসহ দেশের তথ্যপ্রযুক্তি শিল্পের একাধিক শীর্ষ কর্তা ও বিশেষজ্ঞরা।