মানুষের ভাষাতেই ভারতের কৃত্রিম মেধার পরবর্তী অধ্যায়: অরুন্ধতী ভট্টাচার্য

নিজস্ব গ্রাফিক্স চিত্র

ভারতের কৃত্রিম মেধাভিত্তিক প্রযুক্তির ভবিষ্যৎ শুধুমাত্র যন্ত্রের ভাষায় নয়, দেশের মানুষের নিজস্ব ভাষাতেই গড়ে উঠবে। এমনই বার্তা দিলেন সেলসফোর্স দক্ষিণ এশিয়ার সভাপতি এবং মুখ্য কার্যনির্বাহী আধিকারিক অরুন্ধতী ভট্টাচার্য। মঙ্গলবার মুম্বাইয়ে আয়োজিত ‘এজেন্টফোর্স ওয়ার্ল্ড ট্যুর ২০২৬’ অনুষ্ঠানে সংস্থার তরফে হিন্দি ভাষাভিত্তিক নতুন কণ্ঠস্বর প্রযুক্তির ঘোষণা করা হয়।

সেলসফোর্স জানিয়েছে, তাদের নতুন ‘এজেন্টফোর্স ভয়েস’ ব্যবস্থায় হিন্দি এবং হিংলিশ ভাষায় স্বাভাবিক কথোপকথনের সুবিধা থাকবে। এর ফলে বিভিন্ন সংস্থা গ্রাহকদের সঙ্গে আরও সহজ, স্বাভাবিক এবং স্থানীয় ভাষাভিত্তিক যোগাযোগ গড়ে তুলতে পারবে। বিশেষ করে দ্বিতীয় এবং তৃতীয় সারির শহর ও ছোট বাজারগুলিতে কৃত্রিম মেধার ব্যবহার আরও দ্রুত বাড়বে বলেই মনে করছে সংস্থা।

অরুন্ধতী ভট্টাচার্যের মতে, ভারতের মতো বিশাল দেশে কৃত্রিম মেধার প্রকৃত প্রভাব ফেলতে গেলে প্রযুক্তিকে হতে হবে কথোপকথন ভিত্তিক, অন্তর্ভুক্তিমূলক এবং স্থানীয় বাস্তবতার সঙ্গে সম্পৃক্ত। তাঁর মতে, দেশের বহু মানুষ এখন সরাসরি মোবাইল এবং কণ্ঠস্বরনির্ভর প্রযুক্তির দিকে ঝুঁকছেন। ফলে কণ্ঠস্বরই আগামী দিনের সবচেয়ে স্বাভাবিক ডিজিটাল মাধ্যম হয়ে উঠছে।


তিনি বলেন, ‘ভারতের পরবর্তী কৃত্রিম মেধার অধ্যায় শুধুমাত্র যন্ত্রের কোডে লেখা হবে না। তা মানুষের ভাষায় শোনা যাবে।’ সংস্থার দাবি, নতুন এই প্রযুক্তি শুধু ভাষা বুঝবে না, বরং ব্যবহারকারীর বক্তব্যের ভঙ্গি, স্থানীয় সংস্কৃতি, উদ্দেশ্য এবং আস্থার বিষয়টিও বোঝার চেষ্টা করবে। এর ফলে গ্রাহক পরিষেবা আরও কার্যকর এবং স্বাভাবিক হবে।

নতুন এই প্রযুক্তি তৈরি হয়েছে সংস্থার ‘এজেন্টফোর্স’ মঞ্চের উপর ভিত্তি করে। সেখানে কথোপকথনভিত্তিক কৃত্রিম মেধা, তথ্যভান্ডার এবং স্বয়ংক্রিয় কাজের ব্যবস্থা একসঙ্গে যুক্ত করা হয়েছে। পাশাপাশি নিরাপত্তা এবং নির্দিষ্ট নীতিমালা মেনে পরিষেবা দেওয়ার জন্য বিশেষ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে। অনুষ্ঠানে সেলসফোর্স আরও জানিয়েছে, খুব শীঘ্রই ভারতে স্থানীয় তথ্যভান্ডার ব্যবস্থার উপর ‘মিউলসফট অন হাইপারফোর্স’ পরিষেবাও চালু করা হবে। এর মাধ্যমে বিভিন্ন সংস্থা স্থানীয় তথ্য সংরক্ষণ ব্যবস্থার মধ্যেই তথ্য আদানপ্রদান, সংযোগ এবং কৃত্রিম মেধাভিত্তিক কাজ পরিচালনা করতে পারবে।

অরুন্ধতী ভট্টাচার্যের মতে, দীর্ঘদিন ধরে পুরনো প্রযুক্তিগত কাঠামোকে ব্যবসার উন্নতির পথে বাধা হিসেবে দেখা হত। কিন্তু আধুনিক মেধা ভিত্তিক প্রযুক্তি সেই সমীকরণ বদলে দিয়েছে। এখন সংস্থাগুলি আরও নিরাপদ, নমনীয় এবং দ্রুতগতির প্রযুক্তি ব্যবস্থার মাধ্যমে তথ্য ও পরিষেবাকে একত্রিত করতে পারছে।

বিশেষ করে ব্যাঙ্ক, আর্থিক পরিষেবা এবং অন্যান্য নিয়ন্ত্রিত ক্ষেত্রের সংস্থাগুলির জন্য এই নতুন ব্যবস্থা বড় সুবিধা এনে দেবে বলেই মনে করছে প্রযুক্তি মহল। কারণ স্থানীয় তথ্য সংরক্ষণ ব্যবস্থার মাধ্যমে তারা আরও নিরাপদভাবে কৃত্রিম মেধাভিত্তিক পরিষেবা চালাতে পারবে। বিশেষজ্ঞদের মতে, ভারতের বিভিন্ন ভাষাভিত্তিক ডিজিটাল পরিষেবার চাহিদা দ্রুত বাড়ছে। সেই কারণে আগামী দিনে স্থানীয় ভাষাভিত্তিক কৃত্রিম মেধা প্রযুক্তির বাজার আরও বড় আকার নিতে পারে।