১০ বছরও লাগবে না, ধ্বংস হয়ে যাবে মানবজাতি: AI ডেকে আনছে ভয়ঙ্কর ভবিষ্যৎ, আতঙ্কে অ্যানথ্রপিক ছাড়লেন গবেষক

Jacob Coxon AI Threat (Image: X and Magnific)

চাকরি ছাড়ার সময় সাধারণত মানুষ ধন্যবাদ জানিয়ে বিদায় নেন। কিন্তু অ্যানথ্রপিকের (Anthropic) গবেষক জেকব কক্সন (Jacob Coxon) বিদায়বেলায় যা লিখলেন, তাতে হইচই পড়ে গিয়েছে গোটা তথ্য প্রযুক্তি ও কৃত্রিম মেধা (AI) শিল্পে। তাঁর দাবি, যে সব সংস্থা এআই তৈরি করছে, তারা নিজেরাই মনে করে, এই দশক শেষ হওয়ার আগেই মানবজাতির অস্তিত্ব সংকটে পড়বে। এমন সম্ভাবনা তীব্র।

মঙ্গলবার এক্স (X) হ্যান্ডলে দীর্ঘ পোস্টে কক্সন জানান, ওপেনএআই (OpenAI) এবং অ্যানথ্রপিক, দুই সংস্থাই দায়িত্বজ্ঞানহীন ভাবে কাজ করছে। তাঁর কথায়, দুই সংস্থাই সরাসরি এমন AI প্রযুক্তি তৈরি করছে, যা নিজে থেকেই পরিবেশ ও চাহিদা অনুযায়ী নিজেকে বদলে ফেলতে সক্ষম। সোজা কথায়, এরা সুপারইন্টেলিজেন্সের (superintelligence) দিকে ছুটছে, আর তাতে সরাসরি বাজি ধরা হচ্ছে আমাদের জীবন। সভ্যতা টিকবে কিনা এখন এই মীমাংসার উপরই দাঁড়িয়ে যে, AI কত দ্রুত প্রবল ক্ষমতাবান হয়ে উঠবে!<blockquote class=”twitter-tweet”><p lang=”en” dir=”ltr”>I resigned from Anthropic today. I spent the last three years doing pretraining research at both OpenAI and Anthropic. Neither company is acting responsibly. They are racing straight to self-improving superintelligence and gambling with our lives. More thoughts below.</p>&mdash; Jacob Coxon (@hilbertspaess) <a href=”https://x.com/hilbertspaess/status/2097476196791709843?ref_src=twsrc%5Etfw”>September 9, 2026</a></blockquote> <script async src=”https://platform.x.com/widgets.js” charset=”utf-8″></script>

কে এই জেকব কক্সন


২৭ বছর বয়সি কক্সন গত তিন বছর ধরে কাজ করেছেন এআই মডেলের প্রি-ট্রেনিং (pre-training) নিয়ে, অর্থাৎ বিপুল পরিমাণ তথ্য দিয়ে নতুন মডেলকে প্রশিক্ষণ দেওয়ার কাজ। ২০২৩ থেকে ২০২৬-এর জুলাই পর্যন্ত তিনি ছিলেন ওপেনএআই-তে, যেখানে জিপিটি-৪ (GPT-4.0) তৈরির কাজেও যুক্ত ছিলেন তিনি। এর পর যোগ দেন অ্যানথ্রপিকে। মঙ্গলবার সেই পদ থেকেই ইস্তফা দেন তিনি।

তাঁর বক্তব্য, ওপেনএআই-তে অনেকেই এই সভ্যতার সংকট নিয়ে গভীর ভাবে ভাবেনই না। আর অ্যানথ্রপিকে ঝুঁকিটা সকলে বোঝেন ঠিকই, কিন্তু তাঁরাও প্রতিযোগিতার দৌড়ে আটকে পড়েছেন। কারণ তাঁদের ধারণা, তাঁরা না করলে অন্য কেউ আরও বেপরোয়া ভাবে এই কাজটাই করবে করবে।<blockquote class=”twitter-tweet”><p lang=”en” dir=”ltr”>The people building AI earnestly believe that it could kill us all by the end of the decade. This is not a marketing stunt. If anything, many executives and senior researchers will couch their phrasing in the press to sound sensible – but I hear the same people express fear…</p>&mdash; Jacob Coxon (@hilbertspaess) <a href=”https://x.com/hilbertspaess/status/2097476203863224394?ref_src=twsrc%5Etfw”>September 9, 2026</a></blockquote> <script async src=”https://platform.x.com/widgets.js” charset=”utf-8″></script>

হাগিং ফেসের ঘটনা

কক্সনের পোস্টে উঠে এসেছে একটি নির্দিষ্ট ঘটনার কথাও। ওপেনএআইয়ের কিছু এআই এজেন্ট (AI agent) নিয়ন্ত্রণ এড়িয়ে ইন্টারনেটে ছড়িয়ে পড়ে হাগিং ফেসের (Hugging Face) সিস্টেমে ঢুকে পড়েছিল বলে অভিযোগ। এই ঘটনার জেরে হাগিং ফেসকে নাকি তাদের পরিকাঠামোর প্রায় এক-তৃতীয়াংশ নতুন করে তৈরি করতে হয়েছে। কক্সন এটিকে বলেছেন সতর্কতামূলক একটা ধাক্কা। যার ফলে আমেরিকার এআই সংস্থাগুলির মধ্যে নতুন কিছু বানাতেই হবে, এমন প্রতিযোগিতার গতি কমানোর অলিখিত সমঝোতা বা পেসিং এগ্রিমেন্ট (pacing agreement) এখন আগের চেয়ে বাস্তবসম্মত মনে হচ্ছে। তবে তিনি নিজে এতেও আশ্বস্ত নন। তাঁর মতে, বিশ্বজোড়া এই প্রতিযোগিতা রুখতে আরও কঠোর পদক্ষেপ দরকার, এমনকি সাময়িক ভাবে মডেলের ক্ষমতা বাড়ানো বন্ধ রাখার সিদ্ধান্তও নিতে হতে পারে।

অ্যানথ্রপিকের ভিতরেও দোলাচল

চমকপ্রদ বিষয় হল, কক্সনের এই পোস্টের পরেই তাঁকে সমর্থন জানিয়েছেন অ্যানথ্রপিকের বর্তমান কর্মী ইভান হুবিঙ্গার (Evan Hubinger), যিনি সংস্থার অ্যালাইনমেন্ট স্ট্রেস টেস্টিং (alignment stress testing) দলের প্রধান। তিনি জানিয়েছেন, কক্সন সত্যি কথাই বলেছেন, তাঁরাও মনে করেন এআই মানুষকে ধ্বংস করে দিতে পারে, আর আগামী দশকে সেই সম্ভাবনা ১০ শতাংশের বেশি বলেই তাঁর ব্যক্তিগত অনুমান। অ্যানথ্রপিক চেষ্টা করছে ঠিকই, কিন্তু সুপারইন্টেলিজেন্সের অ্যালাইনমেন্ট সমস্যা মেটানোর কোনও নিশ্চিত পরিকল্পনা এখনও তাদের হাতে নেই বলেও স্বীকার করেছেন তিনি।

একা নন কক্সন

গত কয়েক মাসে একের পর এক এআই গবেষক সতর্কবার্তা দিয়ে বড় সংস্থা ছেড়েছেন। অ্যানথ্রপিকেরই আর এক গবেষক মৃণাঙ্ক শর্মা (Mrinank Sharma) সরে দাঁড়ানোর সময় লিখেছিলেন, গোটা পৃথিবীই বিপদের মুখে দাঁড়িয়ে, শুধু এআই নয়, একের পর এক জড়িয়ে থাকা সংকট ঘিরে ধরেছে সভ্যতাকে। ওপেনএআইয়ের গবেষক জোয়ি হিটজিগ (Zoë Hitzig) আবার AI বিজ্ঞাপন-নীতি নিয়ে আপত্তি জানিয়ে ইস্তফা দিয়েছেন সম্প্রতি।

এআই-এর ঝুঁকি নিয়ে আশঙ্কা অবশ্য নতুন নয়। এআই-জগতের পথিকৃৎ বলে পরিচিত জিওফ্রি হিন্টনের (Geoffrey Hinton) হিসেবে আগামী কুড়ি বছরে মানবসভ্যতা ধ্বংস হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে এবং সেই সম্ভাবনা ১০ শতাংশের বেশি। আর এক পথিকৃৎ ইয়োশুয়া বেঞ্জিওর (Yoshua Bengio) মতে সেই আশঙ্কা ২০ শতাংশ। তুলনায় ঢের বেশি আশঙ্কার কথা শুনিয়েছেন এআই সুরক্ষা বিশেষজ্ঞ রোমান ইয়াম্পোলস্কি (Roman Yampolskiy), যাঁর দাবি, এআই মানবসভ্যতা মুছে দেবে, এমন সম্ভাবনা প্রায় নিশ্চিত বললেই চলে।

শেষের কথা

কক্সনের ইস্তফা নিয়ে অ্যানথ্রপিক বা ওপেনএআই কোনও সংস্থাই এখনও সরকারি ভাবে প্রতিক্রিয়া জানায়নি। তবে এআই শিল্পের ভিতর থেকেই এই ধরনের সতর্কবার্তা ক্রমশ বাড়তে থাকায় প্রশ্ন উঠছে, প্রযুক্তির দৌড়ে নিরাপত্তা সত্যিই কতটা গুরুত্ব পাচ্ছে, নাকি প্রতিযোগিতার চাপে আর আর্থিক মুনাফার দৌড়ে গিনিপিগ হচ্ছে গোটা মানবজাতিই।