শেষ পর্যন্ত সব জল্পনার ইতি টানল। ফ্রেঞ্চ ফুটবলে এখন নতুন অধ্যায়ের শুরু, কারণ জাতীয় দলের হেড কোচ হলেন জিনেদিন জিদান। বিশ্বকাপে স্পেনের কাছে হেরে সেমিফাইনাল থেকেই ছিটকে গিয়েছিল ফ্রান্স। তারপরেই দিদিয়ের দেঁশ কোচের আসন ছেড়ে দেন। সবচেয়ে দীর্ঘসময় জাতীয় দলের কোচ ছিলেন তিনিই। তাঁর বিদায়ের পর সবাই অপেক্ষা করছিল—কে আসবেন? অনেক নাম উঠলেও, শেষমেশ প্রত্যাশাই সত্যি হলো—দায়িত্ব পেলেন জিদান।
এখন ২০৩০ সালের বিশ্বকাপ কোয়ালিফায়ার পর্যন্ত দলের সুদৃঢ় চাবিকাঠি থাকবে তাঁর হাতে। ১৯৯৮ সালের বিশ্বকাপজয়ী দলের প্রাণ, দেশসেরা তারকাদের একজন এই জিদান। ২০২১ সালে রিয়াল মাদ্রিদের কোচ ছেড়ে দেওয়ার পর থেকে তাঁকে মাঠের বাইরেই দেখা যাচ্ছিল। অথচ রিয়ালের ম্যানেজার হিসেবে টানা তিনবার চ্যাম্পিয়নস লিগ জেতার রেকর্ডটা তাঁরই। এবার বহুদিন পর আবার ফেরত আসছেন বড় মঞ্চে। তো, আন্তর্জাতিক ফুটবলে এবার নিজের জাত দেখাতে মরিয়াই হয়ে আছেন তিনি।
দল সামলানোর দায়িত্ব নবনিয়মিত কোচ পেয়েই ভেতরের অনুভূতি স্পষ্ট জানিয়ে দিলেন। বললেন, ‘আমি বারবার বলেছি—ফ্রান্সের জাতীয় দলের থেকে বড় কিছু নেই। এই দলের কোচ হওয়া বিশাল সম্মান, অন্যরকম গর্ব।’
চলতি বিশ্বকাপে চতুর্থ স্থানে থাকা দলটাই সামলাতে হচ্ছে তাঁকে, সামনে অনেক চ্যালেঞ্জ। তাই তো কৃতজ্ঞতা জানাতে ভুললেন না ফরাসি ফুটবল ফেডারেশন ও প্রেসিডেন্ট ফিলিপ ডিয়ালোকে।
জিদানের প্রথম পরীক্ষা দরজায় কড়া নাড়ছে—আগামী ২৫ সেপ্টেম্বর, নেশনস লিগে তুরস্কের মাঠে ফ্রান্সের ডাগআউটে থাকবেন তিনি। ওই ম্যাচের অপেক্ষায় আছে ফুটবলদুনিয়া। এদিন আরও বললেন, ‘আমার সব কোচদের কথা আজ বিশেষভাবে মনে পড়ছে। আর হ্যাঁ, ফরাসি জাতীয় দলকে ঘিরে আমার স্বপ্ন অনেক বড়।’
দেশঁ-র কোচিংয়ে তিনটি বড় টুর্নামেন্টের ফাইনালে খেলেছিল ফ্রান্স, ২০১৮ সালে তাঁর হাত ধরে দ্বিতীয়বার বিশ্বকাপও এসেছিল ঘরে। এবার জিদান কি পারেন নতুন ট্রফি এনে দিতে? উত্তরটা জানার জন্য আশা থাকল চোখে।