ডার্বি ড়্র হওয়ায় খেতাব জয়ের আশা জিইয়ে রাখল দুই প্রধান

টানটান উত্তেজনায় ডার্বি ম্যাচ ১-১ গোলে শেষ হল। ইস্টবেঙ্গল ও মোহনবাগান সুপার জায়ান্টকে ভারত সেরা হতে আগামী ম্যাচের দিকে তাকিয়ে থাকতে হবে।

হাইভোল্টেজ ডার্বির প্রথমার্ধে দাপট মোহনবাগানের। সুবর্ণ সুযোগ খেলার শুরু থেকেই বলের দখল নিজেদের নিয়ন্ত্রণে রেখে মাঝমাঠে আধিপত্য বিস্তার করতে শুরু করে মোহনবাগান সুপার জায়ান্টস। একের পর এক আক্রমণ সাজিয়ে তারা ইস্টবেঙ্গল রক্ষণভাগকে ব্যতিব্যস্ত করে তোলে। সবুজ-মেরুন ব্রিগেড প্রথমার্ধেই ছয়-ছয়টি কর্নার আদায় করে নিয়ে প্রতিপক্ষের ওপর চাপ বজায় রাখলেও, কাঙ্ক্ষিত গোলের দরজা কিন্তু তারা খুলতে পারেনি। আশ্চর্যের বিষয় হলো, খেলায় এতটা আধিপত্য থাকা সত্ত্বেও মোহনবাগান প্রথমার্ধে এমন কোনো সহজ সুযোগ তৈরি করতে পারেনি যা নিশ্চিত গোল হতে পারত।

ঠিক এই জায়গাতেই সম্পূর্ণ বিপরীত চিত্র ধরা পড়ল ইস্টবেঙ্গল এফসির শিবিরে। মোহনবাগানের আক্রমণের ঝড়ের বিপরীতে কাউন্টার অ্যাটাকে গিয়ে প্রথমার্ধে গোল করার অন্তত দুটি সুবর্ণ সুযোগ পেয়ে যায় লাল-হলুদ ব্রিগেড। কিন্তু চরম ফিনিশিংয়ের অভাবে সেই সুযোগ কাজে লাগানো যায়নি। বিপিন এবং অ্যান্টনি—উভয়েই বিপক্ষের রক্ষণভাগকে ফাঁকি দিয়ে ওয়ান-অন-ওয়ান অর্থাৎ গোলকিপারকে একা পেয়েও বল জালে জড়াতে ব্যর্থ হন। ইস্টবেঙ্গলের দুর্ভাগ্য আরও স্পষ্ট হয় যখন বক্সের ঠিক উপর থেকে অ্যান্টনির নেওয়া একটি জোরালো এবং বুলেট গতির শট গোলরক্ষককে পরাস্ত করলেও সরাসরি পোস্টে লেগে প্রতিহত হয়। নিশ্চিত গোলের এই সুযোগগুলো হাতছাড়া হওয়ায় ডাগআউটে লাল-হলুদ কোচের চোখে-মুখে হতাশা স্পষ্ট ধরা পড়ে। ফলে একদিকে মোহনবাগানের আক্রমণাত্মক ফুটবল আর অন্যদিকে ইস্টবেঙ্গলের সুযোগ নষ্টের মহড়ার মধ্য দিয়েই ডার্বির প্রথমার্ধের খেলা শেষ পর্যন্ত গোলশূন্য অবস্থায় শেষ হয়।


দ্বিতীয়ার্ধের শুরু থেকে গোল করার লক্ষ্যে আক্রমণের চাপ বাড়াতে থাকে মোহনবাগান। খেলার এই অর্ধে বেশ কয়েকবার গোলের কাছাকাছি পৌঁছে গিয়েছিল বাগান ফুটবলাররা। কিন্তু, কাঙ্ক্ষিত গোল কিছুতেই আসছিল না। উল্টে, ম্যাচের গতির বিপক্ষে একাধিক গোলের সুযোগ পেয়েছিল ইস্টবেঙ্গল ও। অবশেষে খেলার ৮৫ মিনিট নাগাদ গোল করে ইস্টবেঙ্গলকে এগিয়ে দেন পরিবর্ত হিসেবে নামা এডমুন্ড লালরেনডিকা।

তবে, তাঁদের এই লিড বেশিক্ষণ স্থায়ী হয়নি। ৯০ মিনিট নাগাদ মোহনবাগানের হয়ে গোলটি পরিশোধ করে দেন পরিবর্ত হিসেবে নামা জেসন কামিন্স। খেলার একেবারে শেষদিকে লালকার্ড দেখে মাঠ ছাড়েন ইস্টবেঙ্গলের এডমুন্ড লালরেনডিকা।