আসিয়ানে ভারতের ‘বি’ টিম পাঠানোর শর্ত মানবে ফিফা? না মানলে নাম প্রত্যাহার, জানিয়ে দিল ফেডারেশন

AIFF Logo Photo-SNS

ব্রাজিলের বিরুদ্ধে প্রদর্শনী ফ্রেন্ডলি ম্যাচ এবং ফিফা আসিয়ান কাপ—দুই ক্ষেত্রেই দল নামানো হবে, সর্বভারতীয় ফুটবল ফেডারেশন (AIFF) এমন সিদ্ধান্ত নিলেও শেষ পর্যন্ত তারা আসিয়ান কাপে খেলতে পারবে কি না, তা নিয়ে সংশয় দেখা দিয়েছে। কারণ, আসিয়ান কাপে খেলার জন্য ভারত যে দল পাঠাতে চায়, তা ফিফার কাছে গ্রহণযোগ্য নাও হতে পারে। অথচ, দূরপাল্লার উপকারিতার দিক থেকে আসিয়ান কাপ ব্রাজিল ম্যাচের চেয়ে অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ।

৩ অক্টোবর কলকাতার যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনে ব্রাজিলের বিরুদ্ধে ভারতের আন্তর্জাতিক প্রীতি ম্যাচ হওয়ার কথা। যা নিয়ে রীতিমতো হইচই শুরু হয়েছে সারা দেশে। একই সময়ে ফিফার আন্তর্জাতিক উইন্ডোয় (২১ সেপ্টেম্বর থেকে ৩ অক্টোবর) হবে ফিফা আসিয়ান কাপও। সেক্ষেত্রে একই আন্তর্জাতিক উইন্ডোয় দুটি আলাদা দল নামাতে হবে ভারতকে, যা বেশ কঠিন চ্যালেঞ্জ।

ফিফা আসিয়ান কাপের প্রথম আসরে ভারত রয়েছে ডিভিশন ১-এ। ‘এ’ গ্রুপে তাদের সঙ্গে রয়েছে ইন্দোনেশিয়া, মালয়েশিয়া এবং সিঙ্গাপুর। টুর্নামেন্টটি ভারতের কাছে গুরুত্বপূর্ণ, কারণ শক্তিশালী এশীয় প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে খেলে ফিফা র‌্যাঙ্কিং উন্নত করার সুযোগ রয়েছে তাদের সামনে। কিন্তু ব্রাজিলের মতো পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন দলের বিরুদ্ধে খেলার সুযোগকেও কম গুরুত্ব দেওয়ার উপায় নেই ফেডারেশনের।


তাই ফেডারেশন চায় আসিয়ান কাপে দ্বিতীয় সারির দল পাঠাতে। এই বক্তব্য জানিয়ে ফিফার কাছে চিঠিও পাঠাচ্ছে ফেডারেশন। ভারতীয় ফুটবলের নিয়ামক সংস্থার সহ-সচিব এস সত্যনারায়ণ জানিয়েছেন, ‘আয়োজকদের আমরা অনুরোধ করব যাতে আমাদের ‘বি’ টিমকে ওরা খেলার অনুমতি দেয়। যদি আমাদের অনুরোধ তারা গ্রাহ্য না করে, তা হলে আমাদের ওই টুর্নামেন্ট থেকে নাম তুলে নেওয়া ছাড়া কোনো উপায় নেই। আমাদের সদস্যরা মনে করেন ব্রাজিলের বিরুদ্ধে খেলার সুযোগটা আমাদের দলের কাছে এক অনবদ্য সুযোগ, যা সচরাচর পাওয়া যায় না। দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলির বিরুদ্ধে খেলার সুযোগ আমরা পেয়েই থাকি। কিন্তু বিশ্বের অন্যতম সেরা ব্রাজিলের বিরুদ্ধে খেলার সুযোগ সারা জীবনে হয়তো একবারই পাওয়া গিয়েছে’।

ফেডারেশনের সহ-সচিবের এহেন মন্তব্যই বুঝিয়ে দেয় ফিফা আসিয়ান কাপকে তাঁরা কতটা গুরুত্ব দিচ্ছেন। ব্রাজিল ম্যাচে দল নামানোর জন্য এই গুরুত্বপূর্ণ টুর্নামেন্ট থেকে নাম প্রত্যাহারের প্রস্তাব পেশ করা হয় বৃহস্পতিবার ফেডারেশনের কার্যনির্বাহী কমিটির বৈঠকে। কিন্তু এর তীব্র বিরোধিতা করেন সভায় থাকা প্রাক্তন ভারত অধিনায়ক বাইচুং ভুটিয়া।

এই প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘সভায় আমি জোর দিয়ে বলি, ভারতের প্রথম দলকেই ফিফা আসিয়ান কাপে খেলতে পাঠানো উচিত। এই প্রতিযোগিতা সাফ চ্যাম্পিয়নশিপের তুলনায় অনেক উঁচু মানের। অংশগ্রহণের জন্য আর্থিক পুরস্কারও পাওয়া যায়। তা ছাড়া ভালো ফল করলে উল্লেখযোগ্য প্রাইজমানিও রয়েছে। তার থেকেও বড় কথা, দলের উন্নতির জন্য এই প্রতিযোগিতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তিন-চারটি প্রতিযোগিতামূলক আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলোয়াড়দের জন্য অনেক বেশি উপকারী। আমার মতে, এই টুর্নামেন্টকেই বেশি গুরুত্ব দেওয়া উচিত’।

ব্রাজিলের বিরুদ্ধে ম্যাচ নিয়ে তিনি বলেন, ‘ব্রাজিল তো ব্রাজিলই। ওদের বিরুদ্ধে খেলতে পারা অবশ্যই বড় বিষয়। কিন্তু সময়টা গোলমেলে। ব্রাজিলের বিরুদ্ধে তো মাত্র একটা ম্যাচ। জাতীয় দলের দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়নে একটা ম্যাচ থেকে অর্থ ছাড়া কীই লাভ হবে?’

আসিয়ান কাপে অংশ নেওয়া প্রতি দলকে এক লাখ ২৫ হাজার ডলার (প্রায় ১.২ কোটি টাকা) করে দেবে ফিফা। ম্যাচ জিতলেও পুরস্কার অর্থ পাওয়া যাবে, যার পরিমাণ দশ লক্ষ ডলার বা প্রায় সাড়ে ন’কোটি টাকা। অন্যদিকে, ব্রাজিল ম্যাচে খরচ ৬০-৭০ কোটি টাকা, যা ফেডারেশনকে তুলতে হবে স্পনসর, টিকিট বিক্রি, সম্প্রচার সত্ত্ব থেকে। প্রয়োজনে রাজ্য ও কেন্দ্রীয় সরকারও অর্থ সাহায্য করবে বলে জানিয়েছে।

যে সংস্থার মাধ্যমে ব্রাজিল দলকে ভারতে আনা হবে, সেই সংস্থাকে কয়েক কোটি টাকার অগ্রিম দিতে হবে এবং সেই অগ্রিম আপাতত ফেডারেশনের ভাঁড়ার থেকেই দিতে হবে। যা নিয়ে তারা চাপে রয়েছে বলে বিশেষ সূত্রে জানা গিয়েছে। জানা গিয়েছে, ইংল্যান্ডে ভারতের ইউনিটি কাপ সফরে নাকি ৫০ লক্ষ টাকারও বেশি খুইয়েছে ফেডারেশন। এই আর্থিক ক্ষতি পূরণ হওয়ার আগেই একটা বড় খরচ এসে গেল তাদের সামনে।

এখন আসিয়ান কাপে দল পাঠাতে যে খরচ হবে, তাও বোধহয় তারা এড়াতেই চাইছে। তাই জেনেশুনে এই পন্থাই নিলেন ফেডারেশনের কর্তারা, যাতে তাদের বি টিম পাঠানোর শর্ত নাকচ করে দেয় ফিফা এবং সেখানে দল পাঠাতে না হয়। এ ভাবেই এখন ভারতীয় ফুটবল চালাচ্ছে ফেডারেশন।