মহামেডান স্পোর্টিংয়ের মতো শতাব্দীপ্রাচীন ক্লাবের হাল ফেরানো যে চারটিখানি কথা নয়, তা খুব ভাল করেই জানেন তিনি। তবু ময়দানের তৃতীয় প্রধানের দায়িত্ব নিয়েছেন নওদার বিধায়ক হুমায়ুন কবীর। আম জনতা উন্নয়ন পার্টির প্রতিষ্ঠাতা হুমায়নের প্রথম কাজ ক্লাবকে আর্থিক দুরাবস্থা থেকে বের করে আনা। তা তিনি করবেন বলে প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।
এ পর্যন্ত প্রায় ১৪ কোটি টাকার কাছাকাছি দেনা হয়ে গিয়েছে মহামেডান স্পোর্টিং ক্লাবের। সেই দেনা থেকে ধীরে ধীরে ক্লাবকে মুক্ত করার পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন সদ্য ময়দানে পা রাখা হুমায়ুন। শনিবার ময়দানে ক্লাব তাঁবুতে তাঁকে স্বাগত জানান ক্লাবের বিদায়ী সভাপতি অমিরুদ্দিন ববি। তার আগে ক্লাবের ট্রাস্টি বোর্ড এগজিকিউটিভ কমিটির বৈঠকের পর সরকারি ভাবে হুমায়ুনকে নতুন সভাপতি করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
দায়িত্ব নিয়ে ক্লাবের আর্থিক সঙ্কটের কথা স্বীকার করে হুমায়ুন বলেন, ‘বর্তমানে ক্লাবের প্রায় ১৩ কোটি ৯৭ লক্ষ টাকার দেনা হয়ে গিয়েছে। এক মাসের মধ্যে এই দেনা মেটানো সম্ভব না। তবে দু-এক সপ্তাহের মধ্যে প্রায় অর্ধেক দেনা মিটিয়ে দেওয়ার চেষ্টা অবশ্যই করব’।
ঐতিহ্যবাহী মহামেডান স্পোর্টিং ক্লাব চালানোর জন্য রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী ও ক্রীড়ামন্ত্রী নিশিথ প্রামাণিকের কাছ থেকে পরামর্শ নেবেন বলেও জানিয়ে দিলেন সাদা কালো ব্রিগেডের নয়া সভাপতি। ময়দানে রাজনীতির প্রভাব নিয়ে তিনি বলেন, ‘ময়দানকে পুরোপুরি রাজনীতিমুক্ত করা সম্ভব না। তবে কোনও একটি রাজনৈতিক দলের অতিরিক্ত প্রভাব যাতে ময়দানে না পড়ে, সে দিকে তো খেয়াল রাখতেই হবে।’
শুধু মুখ্যমন্ত্রী ও ক্রীড়ামন্ত্রীই নন, ক্লাবের উন্নতির জন্য প্রয়োজন হলে আইএসএফ বিধায়ক নৌশাদ সিদ্দিকির সঙ্গে একসঙ্গে কাজ করতে রাজি হুমায়ুন।
বিদায়ী ক্লাব সভাপতি আমিরুদ্দিন ববি বলেন, ‘১৩৫ বছরের ঐতিহ্যবাহী ক্লাবের নানা চড়াই-উতরাইয়ের মধ্যেও আমাদের কমিটির আমলে তিনবার কলকাতা লিগ ও আই-লিগ জয়ের সাফল্য এসেছে। তবে বিনিয়োগকারী সংস্থা বাঙ্কারহিল ও শ্রাচী প্রতিশ্রুতি রক্ষা করতে না পারায় ক্লাব আর্থিক সঙ্কটে পড়ে’।
তিনি অভিযোগ করেন, বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে চুক্তি অনুযায়ী শেয়ার হস্তান্তরের উদ্যোগ নেওয়া হলেও তারা তা গ্রহণ করেনি। ফলে আইএসএলে কঠিন প্রতিযোগিতায় টিকে থাকা সম্ভব হয়নি। ফলে ক্লাবকে অবনমনের মুখে পড়তে হয়।
হুমায়ুন কবীরের নতুন সভাপতি পদে আসা প্রসঙ্গে ববি বলেন, ”হুমায়ুন ভাই ক্লাবের সঙ্গে যুক্ত হওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেছিলেন। তাঁর নেতৃত্বে নিশ্চয়ই ক্লাবের উন্নতি হবে। তাই তাঁকেই সভাপতির দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।” তবে নির্বাচিত সদস্য এবং লাইফ মেম্বার হিসেবে ক্লাবের সঙ্গে তিনি যুক্ত থাকবেন বলে জানান আমিরুদ্দিন ববি।