ক্রাইস্টচার্চ: শুরুতে বল থমকে আসছিল। ব্যাটে আসছিল না ঠিকঠাক। কিন্তু খেলা যত এগিয়েছে, ততই বদলেছে পিচের চরিত্র। শিশির পড়তে শুরু করার পরে ব্যাটিং হয়েছে সহজ। নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে প্রথম টি-টোয়েন্টিতে ২২৬ রান তাড়া করে জয়ের পরে এমনই বিশ্লেষণ ভারত অধিনায়ক শ্রেয়স আইয়ারের। তাঁর মতে, পরিস্থিতির সঙ্গে দ্রুত মানিয়ে নেওয়াই এই জয়ের অন্যতম চাবিকাঠি। ঘরের মাঠে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিরুদ্ধে সিরিজ খেলে নিউজিল্যান্ডে পৌঁছনোর পরে প্রস্তুতির জন্য মাত্র একটি অনুশীলন সেশন পেয়েছিল ভারত। তবু সেই ঘাটতি বুঝতে দেননি ক্রিকেটাররা।
বৃহস্পতিবার নিউজিল্যান্ডকে চার উইকেটে হারিয়ে পাঁচ ম্যাচের সিরিজে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে গেল ভারত। ২২৬ রান তাড়া করে টি-টোয়েন্টি আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে নিজেদের সর্বোচ্চ সফল রান তাড়া করার নজির গড়েছে তারা। আর সেই জয়ের পরে পিচের চরিত্র, সঞ্জু স্যামসনের বিধ্বংসী ব্যাটিং এবং নমন ধীরের ঠান্ডা মাথার ইনিংসের প্রশংসা করেন শ্রেয়স।
ম্যাচের পরে সম্প্রচারকারী চ্যানেলকে শ্রেয়স বলেন, ‘আমরা যখন বোলিং শুরু করেছিলাম, তখন আমার মনে হয়েছিল পিচ একটু মন্থর। বল থমকে আসছিল। আমরা যে হার্ড লেংথে বল করা উচিত ছিল, তার তুলনায় একটু বেশি ফুল লেংথে বল করছিলাম। কিন্তু খেলা যত এগিয়েছে, ততই শিশির পড়তে শুরু করে। পিচও ব্যাটিংয়ের জন্য আরও ভাল হয়ে যায়। বল স্কিড করে ব্যাটে আসছিল। সেই কারণেই ওরা (নিউজিল্যান্ড) ম্যাচের উপর নিয়ন্ত্রণ তৈরি করে ২২০ রানের গণ্ডি পেরিয়ে যায়।’
নিউজিল্যান্ডের ব্যাটিংয়ের প্রশংসাও করেছেন ভারত অধিনায়ক। তবে তাঁর মতে, এত বড় রান তাড়া করতে গেলে শুরুটা ভাল হওয়া অত্যন্ত জরুরি। শ্রেয়সের কথায়, ‘ওদের কৃতিত্ব দিতেই হবে। ওরা দারুণ ব্যাট করেছে। তবে ২২০ রান তাড়া করতে গেলে আমাদেরও এমন একটা শুরু দরকার ছিল। পাওয়ার প্লের ছয় ওভারে ৮০-৮৫ রানের কাছাকাছি (ভারত করেছিল ৯৪) পৌঁছে যাওয়া অসাধারণ।’
ভারতের রান তাড়ার শুরুটা করে দিয়েছিলেন সঞ্জু স্যামসন। পাওয়ার প্লেতে ভারতের করা ৯৪ রানের মধ্যে একাই ৫০ রান করেছিলেন তিনি। শেষ পর্যন্ত ৩৩ বলে ৬৭ রান করে আউট হন সঞ্জু। উইকেটকিপিং করার অভিজ্ঞতা ব্যাটিংয়ের পরিকল্পনা তৈরিতে তাঁকে সাহায্য করেছে বলে জানিয়েছেন ভারতীয় ওপেনার।
সঞ্জু বলেন, ‘উইকেটকিপিং করার সময়েও ব্যাটিং নিয়ে ভাবনা মাথায় আসে। আজ কিপিং করতে করতেই ঠিক করেছিলাম, কী ভাবে নিজের স্বাভাবিক খেলাটা খেলব। কিন্তু ব্যাট করতে নামার পরে পরিস্থিতি একেবারেই আলাদা ছিল। ইনিংসের প্রথম দিকে লেংথ থেকে বল একটু থমকে আসছিল। দ্বিতীয়ার্ধে শিশির পড়ার পরে বল অনেক ভাল ব্যাটে আসছিল।’
সঞ্জুর ইনিংসের পরে দলের হাল ধরেছিলেন শ্রেয়স। তিনি ২৮ বলে ৪২ রান করেন। শেষ দিকে নমন ধীরের বিধ্বংসী ব্যাটিং ভারতকে জয়ের দরজায় পৌঁছে দেয়।
ভারতের হয়ে নিজের প্রথম বিদেশের মাটিতে টি-টোয়েন্টি আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলতে নেমেছিলেন নমন। কেরিয়ারের ষষ্ঠ টি-টোয়েন্টি আন্তর্জাতিকেই চাপের মুখে অসাধারণ পরিণত মস্তিষ্কের পরিচয় দিলেন তিনি। ১৫ বলে ৪২ রানে অপরাজিত থেকে দলকে জিতিয়ে মাঠ ছাড়েন নমন। শ্রেয়স আউট হওয়ার পরেও বিচলিত হননি তিনি।
নমনের বোলিংয়ের দক্ষতাও ভারতীয় দলের কাছে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করেন অধিনায়ক। ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিরুদ্ধে ঘরের মাঠে পাঁচ ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজে ১০ ওভার বল করে পাঁচটি উইকেট নিয়েছিলেন নমন। যদিও নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে প্রথম ম্যাচে তাঁকে বোলিং করাননি শ্রেয়স।
নমন সম্পর্কে শ্রেয়স বলেন, ‘হ্যাঁ, ও আমাদের অনেক বিকল্প তৈরি করে দেয়। এই মাঠে বাঁহাতি বা ডানহাতি—যে কোনও ব্যাটার খেলুক না কেন, ওর দু-তিনটে গুরুত্বপূর্ণ ওভার ম্যাচের গতি বদলে দিতে পারে। তবে আজ ব্যাট হাতে ও যে ভাবে শান্ত ও সংযত থেকেছে, তা দেখে সত্যিই মুগ্ধ হয়েছি।’
প্রথম ম্যাচে জয়ের আত্মবিশ্বাস সঙ্গে নিয়েই এ বার দ্বিতীয় টি-টোয়েন্টিতে নামবে ভারত। শনিবার একই মাঠে আবার মুখোমুখি হবে দুই দল। সিরিজে ব্যবধান বাড়ানোর লক্ষ্য থাকবে শ্রেয়সদের। অন্য দিকে, সমতা আনার লক্ষ্য নিয়েই মাঠে নামবেন কিউইরা।