কেন তিউনিসিয়ার বিরুদ্ধে জোড়া গোল করেও উল্লাস করেননি ইয়াসিন আয়ারি? জানুন আসল কারণ

মেক্সিকোর মন্তেরেতে গ্রুপ ‘এফ’-এ তিউনিসিয়াকে ৫-১ গোলে উড়িয়ে দিয়ে দুর্দান্ত সূচনা করেছে সুইডেন। ম্যাচের অন্যতম নায়ক ছিলেন ২২ বছর বয়সি সুইডিশ মিডফিল্ডার ইয়াসিন আয়ারি, যিনি জোড়া গোল করে নজর কেড়েছেন। তবে তার পারফরম্যান্সের চেয়েও বেশি আলোচনায় এসেছে প্রথম গোলের পর তাঁর সংযত প্রতিক্রিয়া। ম্যাচের সাত মিনিটের মাথায় দুর্দান্ত এক দূরপাল্লার শটে সুইডেনকে এগিয়ে দেন আয়ারি। কিন্তু গোল করার পর অন্যদের মতো উচ্ছ্বাসে ভেসে না গিয়ে তিনি হাত তুলে ক্ষমা প্রার্থনার ভঙ্গি করেন এবং শান্তভাবে নিজের আবেগ নিয়ন্ত্রণে রাখেন।

কিন্তু কেন এমন করলেন তিনি? গোল করেও কেন উচ্ছ্বাসে ভেসে যেতে পারেননি। এর পেছনে রয়েছে গভীর পারিবারিক সম্পর্ক। সুইডেনে জন্ম হলেও আয়ারির বাবা তিউনিসিয়ার এবং মা মরক্কোর নাগরিক। ফলে তিউনিসিয়ার বিপক্ষে গোল করা তার জন্য ছিল বিশেষ আবেগের বিষয়। বাবার জন্মভূমির বিপক্ষে গোল করে তিনি সেলিব্রেশন না করার সিদ্ধান্তই নেন, যাকে অনেকেই ক্রীড়াসুলভ সম্মান ও সংবেদনশীলতার অনন্য দৃষ্টান্ত বলে মন্তব্য করেছেন।

আয়ারি একসময় তিউনিসিয়ার হয়ে আন্তর্জাতিক ফুটবল খেলার প্রস্তাবও পেয়েছিলেন। তবে শেষ পর্যন্ত তিনি সুইডেনের প্রতিনিধিত্ব করার সিদ্ধান্ত নেন। তাঁর বাবা নিজেও এই সিদ্ধান্তকে সমর্থন করেছিলেন এবং মনে করেছিলেন যে সুইডেনই তাঁর ছেলেকে ফুটবলে উন্নতি করার সুযোগ দিয়েছে। বর্তমানে ইংল্যান্ডের ক্লাব ব্রাইটনের হয়ে খেলেন আয়ারি। সোলনায় জন্মানো এই মিডফিল্ডার ছোটবেলা থেকেই সুইডেনের বিভিন্ন বয়সভিত্তিক দলে খেলেছেন এবং ২০২৩ সালে সিনিয়র জাতীয় দলে অভিষেক হয় তাঁর।


বিশ্বকাপে নিজের প্রথম ম্যাচেই দুটি গোল করে তিনি যেন স্বপ্নের সূচনা করলেন। তবে গোলের চেয়েও বেশি প্রশংসা কুড়িয়েছে তাঁর পিতৃভূমির প্রতি শ্রদ্ধাজ্ঞপনের মতো মানবিকতা। তিউনিসিয়ার বিপক্ষে প্রথম গোলের পর উদযাপন না করে আয়ারি দেখিয়ে দিয়েছেন, আন্তর্জাতিক ফুটবলে প্রতিদ্বন্দ্বিতা যতই বড় হোক, পারিবারিক শিকড় ও আবেগের প্রতি সম্মান কখনও হারিয়ে যায় না।