তিন দেশের মাটিতে ইতিহাসের প্রথম বিশ্বকাপ, কেন এমন সিদ্ধান্ত নিল ফিফা?

৯৬ বছর ধরে চলছে ফুটবলের বিশ্বকাপ। বিশ্ব ফুটবলের এই সেরা আসরের ইতিহাসে এবারই প্রথম একসঙ্গে তিনটি দেশ আয়োজন করছে এই মহাযজ্ঞ— যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা এবং মেক্সিকো। আজ থেকে ১৯ জুলাই পর্যন্ত এই টুর্নামেন্ট শুধু যৌথ আয়োজক দেশের সংখ্যার কারণেই নয়, বরং আকার ও পরিসরের দিক থেকেও বিশ্বকাপ ইতিহাসের সবচেয়ে বড় আসর হিসেবে চিহ্নিত হতে চলেছে এই বিশ্বকাপ।
ফিফার এই সিদ্ধান্তের পিছনে রয়েছে বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ। ২০২৬ বিশ্বকাপে প্রথমবারের মতো অংশ নিচ্ছে ৪৮টি দল, যেখানে আগে অংশ নিত ৩২টি দেশ। ফলে ম্যাচের সংখ্যাও বেড়ে হয়েছে ১০৪, যা আগের ৬৪ ম্যাচের তুলনায় অনেক বেশি।

এত বড় প্রতিযোগিতা আয়োজনের জন্য প্রয়োজন বিশাল পরিকাঠামো, আধুনিক স্টেডিয়াম, উন্নত পরিবহণ ব্যবস্থা এবং সংশ্লিষ্ট ফুটবলার ও বিভিন্ন ব্যক্তিদের থাকার পর্যাপ্ত জায়গা। এই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় তিন দেশের মধ্যে দায়িত্ব ভাগ করে দেওয়ার পথই বেছে নেয় ফিফা। সে জন্যই তিন দেশের মোট ১৬টি শহরে বিশ্বকাপের ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে।

আয়োজক দেশগুলির মধ্যে সবচেয়ে বেশি ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে। উন্নত ক্রীড়া পরিকাঠামো, বড় বাণিজ্যিক বাজার এবং বিপুল দর্শকসংখ্যার সম্ভাবনার কারণে অধিকাংশ ম্যাচের দায়িত্ব পেয়েছে তারা। ১০৪টির মধ্যে ৭৮টি ম্যাচই হবে ডোনাল্ড ট্রাম্পের দেশে। অন্যদিকে, মেক্সিকো ও কানাডা ১৩টি করে ম্যাচ আয়োজন করবে। কোয়ার্টার ফাইনাল থেকে সব ম্যাচই হবে মার্কিন মুলুকে। দুটি সেমিফাইনাল হবে টেক্সাসের আর্লিংটনে এটিঅ্যান্ডটি স্টেডিয়ামে ও আটলান্টার মার্সিডিজ বেঞ্জ স্টেডিয়ামে। ফাইনাল হবে নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে।


২০১৭-য় মিলিত ভাবে এই তিন দেশ বিশ্বকাপ আয়োজনের জন্য বিড করে। পরের বছর মস্কোয় ফিফা কংগ্রেসে ফিফার সদস্য দেশগুলির মধ্যে ৬৭ শতাংশই এই বিডকে সমর্থন জানিয়ে ভোট দেয়। যেখানে এতগুলি স্টেডিয়াম রয়েছে, প্রতি স্টেডিয়ামে গড় আসনসংখ্যা ৬৮ হাজার, সেখানেই এতগুলি ম্যাচ আয়োজন করা সম্ভব বলেই মনে করেছিল বেশিরভাগ সদস্য দেশ। অর্থাৎ, এই বিশ্বকাপের প্রস্তুতির জন্য আট বছর সময় পেয়েছে এ বারের আয়োজকেরা।

ফিফার মতে, এই ত্রিদেশীয় আয়োজন শুধু খরচ ও পরিকাঠামোগত চাপ কমানোর জন্য নয়, বরং আন্তর্জাতিক সহযোগিতা ও ঐক্যের প্রতীক হিসেবেও গুরুত্বপূর্ণ। তিনটি দেশের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত এই বিশ্বকাপ বিশ্ব ফুটবলের ঐক্যবদ্ধ করার ক্ষমতাকে আরও জোরালোভাবে তুলে ধরবে বলেই মনে করছেন ফিফার কর্তারা।

বিশেষজ্ঞদের মতে, ২০২৬ বিশ্বকাপ অর্থনৈতিক দিক থেকেও ইতিহাস গড়তে পারে। সম্প্রসারিত ফরম্যাট, বাড়তি ম্যাচ, অধিক সংখ্যক দর্শক এবং বিশ্বব্যাপী সম্প্রচারের কারণে এটি ফিফার ইতিহাসে সবচেয়ে লাভজনক স্পোর্টিং ইভেন্টে পরিণত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। স্পনসরশিপ, টিকিট বিক্রি, সম্প্রচারস্বত্ব এবং পর্যটন থেকে রেকর্ড পরিমাণ আয় হওয়ার আশা করা হচ্ছে।

এর আগে মাত্র একবার যৌথভাবে বিশ্বকাপ আয়োজন হয়েছিল— ২০০২ সালে জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়া মিলিতভাবে সেই টুর্নামেন্ট আয়োজন করেছিল। তবে তিন দেশের মিলিত আয়োজনে বিশ্বকাপ এই প্রথম, যা ২০২৬-এর আসরকে ইতিহাসের পাতায় বিশেষ স্থান করে দিয়েছে।