সঞ্জু, ইশানের জায়গায় বৈভবকে খেলানো হবে না কেন? প্রশ্ন সানি, শ্রীকান্ত, শাস্ত্রীদের

Image: BCCI X

ইংল্যান্ডে প্রথম টি-২০ বৃষ্টিতে ভেসে গেলেও ভারতীয় দলের টপ অর্ডার ব্যাটসম্যানদের বেহাল অবস্থা ভারতীয় টিম ম্যানেজমেন্টকে বেশ চিন্তায় রেখেছে। যদিও অভিষেক শর্মা ও শ্রেয়স আইয়ার ফর্মে ফিরে এসেছেন, কিন্তু সঞ্জু স্যামসন ও ইশান কিষাণ এখনও রানে ফিরতে না পারায় উদ্বেগ রয়েই গিয়েছে। এই অবস্থায় বৈভব সূর্যবংশীকে শনিবার সিরিজের দ্বিতীয় ম্যাচে অবশ্যই নামানো উচিত বলে মনে করছেন একাধিক বিশেষজ্ঞ। ভারতের প্রাক্তন ক্রিকেটারদের অনেকেই এই দাবি তুলেছেন। এমনকী বিদেশের প্রাক্তন ক্রিকেট তারকারাও অনেকে এই একই মত দিয়েছেন। তাঁদের মতে, এটাই বৈভবকে নামানোর সবচেয়ে উপযুক্ত সময়।

বুধবার ডারহামের চেস্টার লি স্ট্রিটে ওপেনার সঞ্জু স্যামসন মাত্র এক রান করে ক্যাচ দিয়ে ফিরে যান। ইশান কিষাণও কোনও রান না করেই ফিরে যান। অভিষেক শর্মার ২৪ বলে ৫৯ ও শ্রেয়স আইয়ারের ৪৭ বলে ৬৮ রানের ইনিংস এবং শেষ দিকে শিবম দুবের ২১ বলে ৪২ রানের ওপর ভর করে ভারত ১৮৯ রানের ইনিংস গড়ে। এরপর বৃষ্টির জন্য ম্যাচ পরিত্যক্ত ঘোষণা করা না হলে ভারত এই রান নিয়ে জিততে পারত কি না, সন্দেহ। মাত্র ছ’রানের মধ্যে দুই উইকেট পড়ে যাওয়ায় ভারতের ব্যাটিং নিয়ে যে চিন্তা রয়েই গেল, তা নিয়ে কোনও সন্দেহ নেই বিশেষজ্ঞদের।

অতীতের তিন ক্রিকেট তারকা সুনীল গাভাসকর, কৃষ্ণামাচারি শ্রীকান্ত ও রবি শাস্ত্রী বলেছেন অবশ্যই এই সিরিজে বৈভবকে খেলার সুযোগ দেওয়া উচিত। গাভাসকর বলেন, ‘চাপ নিতে পারবে না বলে ওকে না নামানোর কোনও মানে হয় না। ও যখনই খেলতে নামবে, তখনই ওর উপর প্রবল চাপ থাকবে। তবে ১৫ বছর বয়সে চাপ নিয়ে এতটা ভাবার কথা নয়। ও জানে, দ্বিতীয় বা তৃতীয় ম্যাচে সুযোগ পেলে শুরু থেকেই নিজেকে প্রমাণ করতে হবে।‘ তবে দলের সতীর্থদের সঙ্গে থেকে বৈভব অনেক কিছু শিখতে পারবেন বলে মনে করছেন সানি। তাঁর কথায়, ‘এই ভারতীয় দলে ভালো ভালো ক্রিকেটার রয়েছে। তাদের সঙ্গে থেকে শেখার সুযোগ পাওয়াটাই বৈভবের বিরাট প্রাপ্তি। আমি নিশ্চিত, এই সময়টা ও খুব ভালোভাবে কাজে লাগাচ্ছে এবং অনেক কিছু শিখছে।‘


গাভাসকরের অতীতের সঙ্গী ওপেনার কৃষ্ণামাচারি শ্রীকান্তও ভারতীয় ব্যাটসম্যানদের পারফরম্যান্সে একেবারেই খুশি নন। বলেন, ‘ভারতের ব্যাটাররা অত্যন্ত দায়িত্বজ্ঞানহীন ক্রিকেট খেলছে। পিচ থেকে বোলাররা সামান্য সাহায্য পেলেই ব্যাটিং ভেঙে পড়ছে। আইপিএলের ধারাবাহিক ফ্ল্যাট উইকেটে খেলার অভ্যাস তাদের বাউন্স, সুইং ও টার্ন থাকা উইকেটের জন্য ওরা আয়ারল্যান্ডে মানিয়ে নিতে পারেনি। ইংল্যান্ডেও অসুবিধা হচ্ছে। তাই চ্যালেঞ্জিং পিচে গেলেই ভারতের ব্যাটিং পুরোপুরি মুখ থুবড়ে পড়ছে। ভারতের সাম্প্রতিক ব্যাটিং পারফরম্যান্স হতাশাজনক এবং ভারতীয় দলের মানের সঙ্গে একেবারেই সঙ্গতিপূর্ণ নয়। বৈভবের মতো ব্যাটসম্যানকে আয়ারল্যান্ডে অবশ্যই নামানো উচিত ছিল বলে আমি মনে করি। ইংল্যান্ডে আসার আগে আইরিশদের উইকেটেই ও তৈরি হয়ে যেতে পারত। ভারতীয় টিম ম্যানেজমেন্ট ঠিক কী ভাবছে, সেটাই বুঝতে পারছি না’।

ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে প্রথম টি-২০-র আগে শ্রেয়স আইয়ার যা বলেছিলেন, তাতে স্পষ্ট ইঙ্গিত ছিল বৈভবকে দলের সঙ্গে নিয়ে যাওয়া হলেও এখনই যে তাঁকে মাঠে নামাতে হবেই, তার কোনো মানে নেই। সম্ভবত কোচ গৌতম গম্ভীরের মতও সে রকমই, যা প্রতিফলিত হয় শ্রেয়সের কথায়। টিম ম্যানেজমেন্ট যে বৈভবকে শুধুমাত্র ভারতীয় দলের সঙ্গে বিদেশ সফরের অভিজ্ঞতা অর্জনের জন্য নিয়ে গিয়েছে, শ্রেয়সের কথায় এমনই ইঙ্গিত পাওয়া গিয়েছে। কিন্তু সঞ্জু স্যামসন ও ইশান কিষাণের পারফরম্যান্স টানা খারাপ হওয়ায় দ্বিতীয় বা তৃতীয় ম্যাচে বৈভবকে নামানোর দাবি তুলেছেন প্রাক্তনরা।

ভারতীয় দলের প্রাক্তন ক্রিকেটার ও কোচ রবি শাস্ত্রী বলছেন, ‘বৈভবকে তো আয়ারল্যান্ডের বিরুদ্ধেই খেলানো উচিত ছিল। ওখানে উইকেট ছিল খুবই স্লো। মাঠও এত ছোট ছিল যে, পিটিয়ে ওদের বেহাল করে ছাড়ত বৈভব। আমার মতে, ওকে আয়ারল্যান্ডের সিরিজেই খেলানো উচিত ছিল। এখন ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে সিরিজে সুযোগ পাবে কি না, জানি না। তবে যত তাড়াতাড়ি সম্ভব ওকে সুযোগ দেওয়া উচিত। আইপিএলে ও সব ধরনের বোলাররের বিরুদ্ধে দাপটের সঙ্গে খেলেছে। এমন কোনও ফাস্ট বোলার নেই, যাকে ও মারেনি। অথচ ভারতীয় টিম ম্যানেজমেন্ট ওকে শুধু বেঞ্চে বসিয়ে রেখেছে। এ কেমন সিদ্ধান্ত, বুঝতে পারছি না’।

ভারতীয় দলের কোচ গৌতম গম্ভীর অবশ্য এর আগে নিজের জেদ বজায় রাখতে এমন অনেক সিদ্ধান্তই নিয়েছেন এবং তাঁকে প্রবল সমালোচনার মুখেও পড়তে হয়েছে। তা সত্ত্বেও মাথা নোয়াননি তিনি। তাই প্রাক্তন এই দাবিও তিনি মানবেন কি না, সেটাই দেখার।