গ্লাসগো কমনওয়েলথ গেমসে ভারতের প্রথম পদক জিতেছেন প্যারা পাওয়ারলিফটার ঝান্ডু কুমার। পুরুষদের হেভিওয়েট বিভাগে ব্রোঞ্জ জিতে দেশের পদক তালিকার সূচনা করেন বিহারের এই ক্রীড়াবিদ। তবে তাঁর কোচের দাবি, সামান্য ভুল বোঝাবুঝি না হলে ঝান্ডুর গলায় ঝুলতে পারত সোনার পদকও।
প্রতিযোগিতা শেষে ঝান্ডুর কোচ জানান, শেষ প্রচেষ্টার আগে ওজন নির্বাচন নিয়ে বিভ্রান্তিই সর্বনাশ ডেকে আনে। তাঁদের পরিকল্পনা ছিল আরও বেশি ওজন তুলে স্বর্ণপদকের লড়াইয়ে নামা। কিন্তু কোচিং স্টাফ ও গেমসের কর্মকর্তাদের মধ্যে যোগাযোগের সমস্যার কারণে নির্ধারিত ওজনের পরিবর্তে অন্য ওজন নথিভুক্ত হয়ে যায়। সেই ভুল আর শুধরে নেওয়ার সুযোগ মেলেনি।
কোচের কথায়, ‘এটা শক্তির অভাব ছিল না, পুরো ঘটনাটা ভুল বোঝাবুঝির ফল। আমরা যে ওজন চাইছিলাম, সেটাই শেষ পর্যন্ত তোলা হয়নি। যোগাযোগ ঠিক থাকলে ঝান্ডুর সামনে সোনা জেতার সুযোগ ছিল’।
তবুও শিষ্যের পারফরম্যান্সে গর্বিত কোচ। তাঁর মতে, কঠিন পরিস্থিতির মধ্যেও ঝান্ডু অসাধারণ মানসিক দৃঢ়তা দেখিয়েছেন এবং দেশের হয়ে পদক জেতাই সবচেয়ে বড় সাফল্য।
ঝান্ডুর জীবনের গল্পও কম অনুপ্রেরণার নয়। বিহারের এই প্যারা পাওয়ারলিফটার একসময় সংসার চালাতে সবজি বিক্রি করেছেন, পরে ই-রিকশাও চালিয়েছেন। আর্থিক প্রতিকূলতার মধ্যেও অনুশীলন ছাড়েননি। সেই সংগ্রামের ফলই গ্লাসগোয় ভারতের প্রথম পদক।
যদিও ব্রোঞ্জ পদক নিয়েই সন্তুষ্ট থাকতে হয়েছে, তবু কোচের বিশ্বাস, এই অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে ঝান্ডু ভবিষ্যতে আরও বড় মঞ্চে স্বর্ণপদক জয়ের লক্ষ্য পূরণ করবেন। তাঁর মতে, এই ভুল যদি আর না হয়, তবে ঝান্ডুর বিশ্বের সেরাদের সঙ্গে টক্কর দেওয়ার ক্ষমতা আছে। ঝান্ডুর সাফল্যের জন্য তাকে অভিনন্দন জানিয়েছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী।