২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের খেতাব কার হাতে উঠবে? এই প্রশ্নের উত্তর নিয়ে এখন উত্তাল সারা ফুটবল দুনিয়া। বিশেষজ্ঞরা অনেকে মত দিলেও বেশিরভাগই বলছেন এখনই বলার সময় আসেনি, কার হাতে উঠবে বিশ্বকাপ। মুষ্টিমেয় কয়েকজন অবশ্য রয়েছেন, যাঁরা এখন থেকেই দিয়ে দিতে প্রস্তুত এই প্রশ্নের উত্তর। এঁদের দলেই রয়েছেন কিংবদন্তি কোচ হোসে মোরিনহো।
চেলসি, ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড, ইন্টার মিলান, রিয়েল মাদ্রিদের মতো দলের কোচ ছিলেন তিনি। বর্তমানে ফেনেরবাখের দায়িত্বে রয়েছেন। এমন একজন অভিজ্ঞ কোচকে ইউরোপের ফুটবল মহল অবশ্যই বড় ফুটবলবোদ্ধা মনে করে অনেকেই। পর্তুগালের এই জনপ্রিয় ক্লাব কোচ মনে করেন এবারের বিশ্বকাপ জয়ের দৌড়ে সবচেয়ে এগিয়ে রয়েছে ইংল্যান্ড এবং পর্তুগাল। বিশেষ করে ইংল্যান্ডকে নিয়ে বেশি আশাবাদী তিনি।বিশ্বকাপ নিয়ে এক পডকাস্টে তিনি বলেছেন, ‘আমার মতে, ইংল্যান্ড ও পর্তুগালই খেতাবের প্রধান দাবিদার। যদি ইংল্যান্ড তাদের সম্ভাবনাকে বাস্তবে রূপ দিতে পারে, তাহলে ওদের শেষ পর্যন্ত যাওয়াই উচিত।’
এই প্রসঙ্গে তিনি আরও বলেন, ‘আমি সব সময়ই বলি, ইংল্যান্ড ফাইনালে ওঠার অন্যতম দাবিদার। আমি তাদের খেলোয়াড়দের দিকে তাকাই। আমরা তো সেই প্রজন্ম দেখেছি—ফ্র্যাঙ্ক ল্যাম্পার্ড, স্টিভেন জেরার্ড, জন টেরি, রিও ফার্দিনান্দ, ডেভিড বেকহ্যাম। তারপর থেকে প্রতিবারই আমি বলি, ইংল্যান্ডের ভালো সম্ভাবনা আছে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত সেটা আর বাস্তবে হয় না। তবুও আমি প্রতিবারই ইংল্যান্ডের পক্ষেই কথা বলি।’ আর নিজের দেশ পর্তুগাল সম্পর্কে মোরিনহোর মন্তব্য, ‘অবশ্যই আমি চাই পর্তুগাল বিশ্বকাপ জিতুক। আমাদের দলেও দারুণ প্রতিভা রয়েছে। তবে যদি নিরপেক্ষভাবে বিচার করি, তাহলে ইংল্যান্ডেরও দারুণ সুযোগ আছে।’
মোরিনহো মনে করেন, শুধুমাত্র ভালো দল থাকলেই বিশ্বকাপ জেতা যায় না। নকআউট পর্বে ভাগ্য, মানসিক দৃঢ়তা এবং ছোট ছোট মুহূর্তের সদ্ব্যবহারই বড় পার্থক্য গড়ে দেয়। তিনি বলেন, ‘বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে সবকিছু নির্ভর করে ছোট ছোট মুহূর্তের ওপর। কখনও একটি গোল, কখনও একটি সেভ, কখনও আবার একটি সিদ্ধান্ত ম্যাচের ভাগ্য বদলে দেয়। তাই সেরা দল হলেই যে বিশ্বকাপ জিতবে, তার কোনও নিশ্চয়তা নেই।’
ফ্রান্সের দলের গভীরতারও ভূয়সী প্রশংসা করে মোরিনহো বলেন, ‘ফ্রান্সের দিকে তাকান। ওরা চাইলে তিনটে আলাদা দল নামাতে পারে, আর সেই তিনটে দলই খেতাবের দাবিদার হতে পারে। এরপর আছে স্পেন, আর্জেন্টিনা, ব্রাজিল। অনেকে বলতে পারেন, অতীতে যখন তারা ট্রফি জিতেছিল তখনকার তুলনায় এখন হয়তো দলগুলো অতটা প্রতিভাবান নয়। কিন্তু আমি সবসময়ই বলি, কার্লো (আনসেলোত্তি)-র মতো একজন কোচ বড় পার্থক্য গড়ে দিতে পারেন।’
এই নিয়ে তিনি আরও বলেন, ‘মরক্কোর বিপক্ষে একটা খারাপ ম্যাচ বা ড্রয়ের পর মনে হতে পারে যেন সুনামি বয়ে গেছে… কিন্তু কার্লোর ক্ষেত্রে তা নয়। আমি সবসময় বিশ্বাস করি, কার্লো পার্থক্য গড়ে দিতে পারে। আর পর্তুগালও অসাধারণ একটি দল, তাদের স্কোয়াডও অবিশ্বাস্য শক্তিশালী।’
চলতি বিশ্বকাপে ইংল্যান্ড ও পর্তুগাল—দুই দলই ছন্দে রয়েছে। সেই কারণেই মোরিনহো বিশ্বাস করেন, এই দুই ইউরোপীয় শক্তিশালী দলই ট্রফি জয়ের লড়াইয়ে শেষ পর্যন্ত টিকে থাকবে। তাঁর মতে, সামর্থ্য, স্কোয়াডের গভীরতা এবং বড় মঞ্চে খেলার অভিজ্ঞতা—সব মিলিয়ে ইংল্যান্ড ও পর্তুগালই এবারের বিশ্বকাপের সবচেয়ে শক্তিশালী দাবিদার।