ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এ নিজেদের অভিযান শুরু করতে বুধবার ক্রোয়েশিয়ার মুখোমুখি হচ্ছে ইংল্যান্ড। ডালাসে গ্রুপ ‘এল’-এর এই ম্যাচকে গ্রুপের শীর্ষস্থান দখলের লড়াই হিসেবে দেখা হচ্ছে, কারণ দুই দলই নকআউট পর্বে ওঠার অন্যতম দাবিদার।
নতুন ৪৮ দলের বিশ্বকাপে গ্রুপের প্রথম দুই দলের পাশাপাশি সেরা কয়েকটি তৃতীয় স্থানাধিকারী দলও পরের পর্বে উঠবে। তবু শুরুতেই জয় তুলে নেওয়া পরবর্তী পথ অনেকটাই সহজ করে দিতে পারে।
ইংল্যান্ড কোচ থমাস টাচেলের অধীনে দুর্দান্ত ছন্দে বিশ্বকাপে এসেছে। বাছাইপর্বে তারা একশোভাগ সাফল্য পেয়েছে এবং কোনও গোলও হজম করেনি। তবে টাচেল জানেন, বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচেই তাদের কঠিন পরীক্ষার মুখোমুখি হতে হবে।
ম্যাচের আগে হ্যারি কেন-দের কোচ বলেন, “কোচিং জীবনের সবচেয়ে ভাল জায়গায় আছি আমি। বিশ্বকাপই ফুটবলের সবচেয়ে বড় এবং সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ প্রতিযোগিতা।”
ইংল্যান্ড শিবিরে কিছুটা স্বস্তির খবরও আছে। চোট সমস্যায় ভুগলেও বুকায়ো সাকা নিজেকে খেলার জন্য প্রস্তুত বলে জানিয়েছেন। সাকা বলেন, “আমি প্রস্তুত। বিশ্বকাপে খেলতে হলে কখনও কখনও ঝুঁকি নিতেই হয়।”
অন্যদিকে ক্রোয়েশিয়া এখনও নির্ভর করছে তাদের অভিজ্ঞ তারকাদের ওপর। ৪০ বছর বয়সী লুকা মদ্রিচ জাতীয় দলের হয়ে নিজের ১৯৯তম ম্যাচ খেলতে নামতে পারেন। কোচ স্লাতকো দালিচ মনে করেন, ইংল্যান্ডের সবচেয়ে বিপজ্জনক খেলোয়াড় হ্যারি কেন।
দালিচ বলেন, “কেন সম্ভবত বিশ্বের সেরা স্ট্রাইকার। তাকে থামাতে হলে আমাদের রক্ষণে নিখুঁত হতে হবে।” তবে শুধু রক্ষণাত্মক ফুটবল খেলতে চান না ক্রোয়েশিয়া কোচ। তিনি বলেন, “আমরা শুধু রক্ষণ সামলাতে মাঠে নামব না, আক্রমণও করব এবং ম্যাচ জেতার চেষ্টাও করব।”
২০১৮ বিশ্বকাপ সেমিফাইনালে ইংল্যান্ডকে হারিয়ে ফাইনালে উঠেছিল ক্রোয়েশিয়া। যদিও এরপর ইউরো ২০২০-তে ইংল্যান্ড জয় পেয়েছিল। ফলে দুই দলের এই লড়াইয়ে পুরনো প্রতিদ্বন্দ্বিতার রেশও থাকছে।
বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচেই জয় তুলে নিয়ে গ্রুপের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার লক্ষ্যে নামবে দুই দলই। তাই ডালাসের এই ম্যাচটি শুধু তিন পয়েন্টের লড়াই নয়, বরং গ্রুপ ‘এল’-এর ভবিষ্যৎ চিত্র নির্ধারণেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।