সম্প্রতি কুয়েতের আল আরাবিকে অপ্রত্যাশিত ভাবে হারানোর পর এ বার এএফসি চ্যাম্পিয়ন্স লিগ-২-এর গ্রুপ পর্বে কঠিন লড়াই ইস্টবেঙ্গল এফসি (EBFC) -র। গ্রুপ পর্বে তারা খেলবে ‘ডি’ গ্রুপে, জানিয়ে দিল এএফসি।
মঙ্গলবার কুয়ালালামপুরে যে গ্রুপ বিন্যাস হল, তাতে লাল-হলুদ বাহিনীকে পশ্চিমাঞ্চলের এই গ্রুপেই রাখা হয়েছে। এই গ্রুপে যারা রয়েছে, তারা ইস্টবেঙ্গলের (EBFC) প্রতিপক্ষ হিসেবে কেউই সহজ নয়।
কারা আছে এই গ্রুপে? রয়েছে জর্ডনের ক্লাব আল হুসেইন, যারা জর্ডনের প্রো লিগে খেলে। ২০২৫-২৬-এ তারা এই লিগে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে। তার আগের দুই মরসুমেও তারাই এই খেতাব ধরে রেখেছিল। অর্থাৎ, এ বার তারা লিগজয়ের হ্যাটট্রিক করে খেলবে এসিএল-২-এ।
এ ছাড়াও এই গ্রুপে রয়েছে ইরাকের আল শোর্তা। ইরাকের অন্যতম সফল ফুটবল দল আল-শোর্তা। তারা আট বার ইরাক স্টারস লিগ জিতেছে। এ ছাড়া এক বার ইরাক এফএ কাপ জিতেছে এবং ২০২৩-২৪ মরসুমে ঘরোয়া ডাবল সম্পূর্ণ করেছে। দু’বার জিতেছে ইরাকি সুপার কাপ এবং টানা তিন বার বাগদাদ চ্যাম্পিয়নশিপ।ইরাক স্টারস লিগে ২০২২ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে তারা পরপর চার বার লিগ চ্যাম্পিয়ন হয়েছে। সেই সুবাদেই এসিএল-২-এ খেলার যোগ্যতা অর্জন করেছে তারা।
আল-শোর্তা তাদের চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী আল-কুওয়া আল-জাওইয়া, আল-জাওরা এবং আল-তালাবা-র বিরুদ্ধে বাগদাদ ডার্বিতে খেলে। ২০২১-২২ মরসুমে তারা ইতিহাস গড়ে এক লিগ মরসুমে ছ’টি ডার্বি ম্যাচের সব ক’টিতেই জয়ী হওয়া প্রথম দল হয়েছিল।
ওমানের ক্লাব আল সিব এই গ্রুপের তিন নম্বর দল। ২০১৯-২০ মরসুম থেকে গত (২৫-২৬) মরসুম পর্যন্ত তারা মোট পাঁচবার ওমানি লিগে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে তারা। সুলতান কাবুস কাপ জিতেছে চারবার। ওমান লিগ কাপও জিতেছে চারবার। ২০২২-এ তারা এএফসি কাপেও চ্যাম্পিয়ন হয়। সেই এএফসি কাপই এখন এসিএল-২ নামে খেলা হয়। অর্থাৎ, এই স্তরের টুর্নামেন্ট খেলার অনেক অভিজ্ঞতা তাদের আছে এবং সাফল্যও আছে।
আরও পড়ুন: ইংল্যান্ডের কাছে হারের পর রক্ষণ নিয়ে উদ্বেগ, পাকিস্তান ম্যাচে সংযমের বার্তা ফাল্টনের
গত বুধবার পিছিয়ে পড়েও এক্সট্রা টাইমে ৪-১ গোলে জিতে গ্রুপ পর্বে যোগ্যতা অর্জন করে ইস্টবেঙ্গল (EBFC) । ইওয়ালার পেনাল্টিতে কুয়েতের দল এগিয়ে যায়। ৯০ মিনিটের জয় গুপ্তার হেডারে সমতায় ফেরে ইস্টবেঙ্গল। অতিরিক্ত সময়ের দ্বিতীয়ার্ধে তিনটি গোল করে ইস্টবেঙ্গল।
কুয়েত লিগের রানার্স দল আল-আরবি (Al Arbi)। ফলে এসিএল ২ বাছাই পর্বে ঘরের মাঠে খেলা হলেও কাজটা যে ইস্টবেঙ্গলের জন্য সহজ ছিল না, তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না। দলের সব বিদেশিদের না পাওয়া এই ম্যাচের আগে সব থেকে বড় চিন্তা হয়ে দাঁড়িয়েছিল ইস্টবেঙ্গল কোচ কোচ আন্তেনিও লোপেজ হাবাসের জন্য।
তবে গ্রুপ পর্বে তাদের জন্য আরো কঠিন লড়াই অপেক্ষা করে আছে। গ্রুপ পর্বে তিনটি দলের বিরুদ্ধে হোম এবং অ্যাওয়ে পদ্ধতিতে মোট ছ’টি ম্যাচ খেলতে হবে ইস্টবেঙ্গলকে(EBFC) । গ্রুপ পর্বের প্রথম ম্যাচ সেপ্টম্বরের ১৫-১৬ তারিখে। পরের ম্যাচগুলি হবে যথাক্রমে ১৩-১৪ অক্টোবর, ২৭-২৮ অক্টোবর, ৩-৪ নভেম্বর, ২৪-২৫ নভেম্বর ও ৮-৯ ডিসেম্বর। আগামী বছর ফেব্রুয়ারিতে শুরু হবে নক আউট পর্ব। মোট আটটি গ্রুপ রয়েছে। প্রতি গ্রুপের সেরা দুটি করে দল ১৬ দলের রাউন্ডে উঠবে।