শরণার্থী হোক বা জেলবন্দি, বিশ্বকাপে রূপকথার নায়ক তরুণ ফুটবলাররা

বিশ্বকাপ বরাবরই তারকার জন্ম দেয়। এবারেও তাঁর অন্যথা হয়নি। বিশ্বকাপ শুরুর চারদিনের মধ্যে আলোচনায় উঠে এসেছেন দুই তরুণ ফুটবলার। অস্ট্রেলিয়ার নেস্টোরি ইরানকুন্ডা এবং মরক্কোর ইসমাইল সাইবারি। দুটি ভিন্ন মহাদেশ, দুই ভিন্ন জীবনসংগ্রাম, কিন্তু বিশ্বমঞ্চে নিজেদের ছাপ রাখার ক্ষেত্রে দু’জনের গল্পেই রয়েছে অনুপ্রেরণার সুর।

তুরস্কের বিরুদ্ধে অস্ট্রেলিয়ার প্রথম ম্যাচে গোল করে ইতিহাস গড়েছেন ২০ বছরের নেস্টোরি ইরানকুন্ডা। প্রায় মাঝমাঠ থেকে বল নিয়ে একক দক্ষতায় গোল করে তিনি বিশ্বকাপে অস্ট্রেলিয়ার সর্বকনিষ্ঠ গোলদাতা হিসেবে নজির স্থাপন করেছেন। অস্ট্রেলিয়া সেই ম্যাচে তুরস্কের বিরুদ্ধে সহজ জয়ও পেয়েছে। কিন্তু, সবকিছুকে ছাপিয়ে আলোচনায় উঠে এসেছে ইরানকুন্ডার জীবন সংগ্রামের গল্প। বুরুন্ডির গৃহযুদ্ধের সময় তাঁর বাবা-মা তানজানিয়ায় আশ্রয় নিয়েছিলেন। সেখানকার কিগোমা শরণার্থী শিবিরে ২০০৬ সালে জন্ম ইরানকুন্ডার। পরে পরিবার অস্ট্রেলিয়ায় চলে এলে অ্যাডিলেডে বেড়ে ওঠেন তিনি। সেখানেই ফুটবলের হাতেখড়ি।

অ্যাডিলেড ইউনাইটেডের হয়ে এ লিগে পেশাদার ফুটবলে অভিষেকের পর দ্রুতই ইউরোপীয় ক্লাবগুলির নজর কাড়েন ইরানকুন্ডা। ২০২৪ সালে বায়ার্ন মিউনিখে যোগ দিলেও প্রথম দলে সুযোগ পাননি তিনি। পরে গ্রাসহপার্সে লোনে যান। বর্তমানে ওয়াটফোর্ডে খেলছেন তিনি। তাঁর গতি, ড্রিবলিং এবং শক্তিশালী ডান পা ইতিমধ্যেই বিশেষজ্ঞদের প্রশংসা কুড়িয়েছে।  মূলত উইঙ্গার হলেও স্ট্রাইকার হিসেবেও বেশ দক্ষ আদতে বুরুন্ডির এই ফুটবলারটি।


অন্যদিকে, ব্রাজিলের বিরুদ্ধে ১-১ ড্র হওয়া ম্যাচে মরক্কোর হয়ে গোল করে নজর কেড়ে নিয়েছেন ইসমাইল সাইবারিও। ম্যাচের ২১ মিনিটে তাঁর দুর্দান্ত গোলে এগিয়ে যায় মরক্কো। তবে এই সাফল্যের পথটা মোটেও সহজ ছিল না সাইবারি’র জন্য। এর নেপথ্যে রয়েছে দীর্ঘ সংগ্রামের কাহিনি। মাত্র ১৪ বছর বয়সে ওজন বেড়ে যাওয়ার জন্য বেলজিয়ামের ক্লাব আন্দারলেখট তাঁকে বাতিল করে দেয়। সেই ধাক্কা সামলে পরে পিএসভি আইন্ডহোভেনে যোগ দেন মরক্কোর এই খেলোয়াড়। সেখানে  নেদারল্যান্ডসের প্রাক্তন ফুটবলার রুড ভ্যান নিস্তেলরয়ের তত্ত্বাবধানে নিজেকে গড়ে তোলেন।

স্পেনে জন্ম হলেও শৈশব কেটেছে বেলজিয়ামে। ২০২২ বিশ্বকাপের আগে সাইবারিকে বেলজিয়ামের হয়ে খেলার প্রস্তাব দিয়েছিলেন তৎকালীন কোচ  রোবের্তো মার্টিনেজ। তাছাড়াও স্পেনের জাতীয় দলের হয়েও খেলার সুযোগ পেয়েছিলেন তিনি। তবে, সেইসব প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে তিনি বেছে নেন মরক্কোকে। তাঁর কথায়, জাতীয় দল নির্বাচন হৃদয়ের সিদ্ধান্ত। মরক্কোর যুব দলের হয়ে খেলার অভিজ্ঞতাই তাঁকে এই সিদ্ধান্ত নিতে সাহায্য করেছে বলে জানিয়েছিলেন তিনি। শুধু তাই নয়, গত আফ্রিকান কাপ অফ নেশনসের সময় সাইবারি’র বিরুদ্ধে চুরির অভিযোগ ওঠে। তবে, সেইসব বিতর্ককে সরিয়ে রেখে বিশ্বকাপের প্রথম নজর কেড়েছেন তিনি।

বিশ্বকাপের মঞ্চ হয়তো আগামীতে আরও নতুন তারকার জন্ম দেবে। কিন্তু প্রথম পর্বেই ইরানকুন্ডা ও সাইবারি লড়াই কিন্তু প্রমাণ করে দিয়েছে, বড় মঞ্চে নিজেদের প্রতিষ্ঠা করার জন্য শুধু প্রতিভা নয়, প্রয়োজন অদম্য মানসিক শক্তিও। আর মানসিক শক্তি’ই বর্তমানে ভরসা জোগাচ্ছে অস্ট্রেলিয়া এবং মরক্কো’কে।