কেরিয়ারের সবচেয়ে কঠিন সময় এসেছিল কখন? মুখ খুললেন রোহিত শর্মা, বললেন ‘ব্যর্থতা সাফল্যের চেয়ে বেশি শেখায়’

Photo: X

টানা ১০ ম্যাচ জিতে বিশ্বকাপের ফাইনালে উঠেও অস্ট্রেলিয়ার কাছে হার। ঘরের মাঠে সেই যন্ত্রণা এখনও ভোলেননি রোহিত শর্মা। তবে প্রাক্তন ভারত অধিনায়কের মতে, সেই ব্যর্থতাই ২০২৪ সালের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ জয়ের জন্য দলের মধ্যে বাড়িয়ে দিয়েছিল খিদে ও জেদ।

২০২৩ সালের ১৯ নভেম্বর। আমদাবাদের নরেন্দ্র মোদী স্টেডিয়ামে বিশ্বকাপের ফাইনালে অস্ট্রেলিয়ার কাছে হার। এক দিনের বিশ্বকাপে টানা ১০টি ম্যাচ জিতে ফাইনালে উঠেও শেষ ধাপে স্বপ্নভঙ্গ হয়েছিল ভারতের। সেই হারের যন্ত্রণা যে কতটা গভীর ছিল, এ বার তা জানালেন রোহিত শর্মা। তাঁর ১৯ বছরের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটজীবনে ওই সময়টাকেই সবচেয়ে কঠিন অধ্যায় বলে বর্ণনা করেছেন প্রাক্তন ভারত অধিনায়ক।

রোহিতের মতে, বিশ্বকাপ ফাইনালে হার শুধু একটা ট্রফি হাতছাড়া হওয়ার ঘটনা ছিল না। গোটা দেশের স্বপ্ন ভেঙে যাওয়ার যন্ত্রণা ছিল তার সঙ্গে। তবে সেই ব্যর্থতা থেকেই পরের বছর টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ জয়ের জন্য নতুন করে তাগিদ পেয়েছিল ভারতীয় দল। ২০২৪ সালে বার্বাডোজে দক্ষিণ আফ্রিকাকে হারিয়ে ১১ বছরের আইসিসি ট্রফির খরা কাটিয়েছিল ভারত।


নিজের অনুষ্ঠান ‘ফ্যামিলি ফুল হাউস উইথ রোহিত শর্মা’-তে ২০২৩ সালের বিশ্বকাপ ফাইনালের স্মৃতি ফিরে দেখেছেন রোহিত। বলেছেন, ‘ওটা ছিল আমার কেরিয়ারের সবচেয়ে কঠিন সময়। ২০০৭ সাল থেকে এখনও পর্যন্ত এমন সময়ের মধ্যে দিয়ে কখনও যেতে হয়নি আমাকে।’

এর আগে ২০১২ সালে শ্রীলঙ্কা সফরে নিজের খারাপ পারফরম্যান্সের জন্য হতাশায় ভুগেছিলেন রোহিত। কিন্তু তাঁর মতে, সেই হতাশার সঙ্গে ২০২৩ সালের বিশ্বকাপ ফাইনালে হারের তুলনা চলে না। কারণ, শ্রীলঙ্কা সফরে ব্যর্থতা ছিল তাঁর ব্যক্তিগত লড়াই। আর আহমেদাবাদে বিশ্বকাপ জয়ের স্বপ্ন ছিল গোটা দেশের।

ভারতীয় দল সে বার বিশ্বকাপে দুরন্ত ছন্দে ছিল। প্রথম ১০টি ম্যাচেই জয়। ব্যাটিং থেকে বোলিং—সব বিভাগেই আধিপত্য দেখিয়েছিল রোহিতের দল। তাই ফাইনালে হারটা মেনে নেওয়া আরও কঠিন হয়েছিল।

রোহিতের কথায়, ‘খুব খারাপ লেগেছিল। কারণ, আমরা এত ভাল খেলছিলাম যে হারতে পারি, সেটা কখনও মনে হয়নি। কিন্তু খেলাধুলায় এমনটাই হয়। যখন মনে হয় সব কিছু ঠিকঠাক চলছে, তখনই এমন কিছু ঘটে যায়, যা আপনাকে নীচে নামিয়ে দেয়। খেলাধুলা থেকেই এই শিক্ষাটা পাওয়া যায়।’

২০২৩ সালের বিশ্বকাপ ফাইনালে হারের পর ভারতীয় ক্রিকেটে দীর্ঘ দিন ধরেই প্রশ্ন উঠেছিল, বড় প্রতিযোগিতার গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে কেন বার বার আটকে যাচ্ছে দল। রোহিতের মতে, সেই হতাশাই পরের বছরের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ভারতকে আরও মরিয়া করে তুলেছিল।

তিনি বলেছেন, ‘হয়তো ২০২৪ সালের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে আমাদের মধ্যে এই তাগিদ আর জয়ের খিদে থাকত না, যদি আমরা সেই হারটার মধ্যে দিয়ে না যেতাম। আমার মনে হয়, সাফল্যের চেয়ে ব্যর্থতা মানুষকে বেশি শেখায়।’

২০২৪ সালের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ খেলতে ওয়েস্ট ইন্ডিজ ও আমেরিকায় পৌঁছে দলের মধ্যে আলাদা একটা তাগিদ অনুভব করেছিলেন রোহিত। আগের বারের হতাশা ভুলে নতুন করে সাফল্য পাওয়ার জন্য প্রত্যেকে মরিয়া ছিলেন। সেই মানসিকতাই শেষ পর্যন্ত কাজে দিয়েছিল বলে মনে করেন তিনি।

২৯ জুন, ২০২৪। বার্বাডোজে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ফাইনালে দক্ষিণ আফ্রিকাকে হারিয়ে দীর্ঘ ১১ বছরের আইসিসি ট্রফির খরা কাটায় ভারত। সেই জয় যেন ২০২৩ সালের ১৯ নভেম্বরের যন্ত্রণার জবাব দিয়েছিল।

দুই দিনের মধ্যে নয়, দু’টি তারিখের মধ্যে ব্যবধান ছিল সাত মাসেরও বেশি। কিন্তু ভারতীয় ক্রিকেটের কাছে ১৯ নভেম্বর এবং ২৯ জুন—দু’টি তারিখই আবেগের সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে।

সেই হার থেকে এই জয়ে পৌঁছনোর যাত্রাকে একটি বাক্যেই ব্যাখ্যা করেছেন রোহিত। বলেছেন, ‘প্রতিটি ১৯ নভেম্বরের পরেই আসে একটি ২৯ জুন।’

অর্থাৎ, জীবনে বা খেলাধুলায় কোনও একটি ব্যর্থতাই শেষ কথা নয়। হতাশা থেকে শিক্ষা নিয়ে ঘুরে দাঁড়ানোর সুযোগ থাকে। ২০২৩ সালের বিশ্বকাপ ফাইনালের হার রোহিতদের কাছে ছিল সেই কঠিন শিক্ষা। আর ২০২৪ সালের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ জয় ছিল তারই পুরস্কার।