বিজেপি সরকারের প্রথম বাজেটে বাংলার মাঠ-ময়দান কী কী পেল, জেনে নিন

সোমবার বহুচর্চিত রাজ্য বাজেটে বিভিন্ন মহল খুশি। কিন্তু প্রতিবার রাজ্যের অর্থমন্ত্রী বাজেট পেশ করার পর রাজ্যের মাঠ ময়দানের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিরা যে ভাবে হতাশ হয়ে পড়েন, এ বার বোধহয় তা হবে না। কারণ, খেলাধুলার জন্য এ বার যে পরিমাণ অর্থ বরাদ্দ করা হয়েছে, তা সাম্প্রতিককালে হয়নি।

সোমবার অর্থমন্ত্রী ডা. স্বপন দাশগুপ্ত যে বাজেট পেশ করেন, তাতে যুবকল্যাণ ও ক্রীড়া বিভাগের জন্য মোট ৪৯০. ৫৪ কোটি টাকা ব্যয়-বরাদ্দের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। ক্রীড়া বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন, জাতীয় স্তরে অংশগ্রহনকারী ক্লাবগুলিকে আর্থিক সাহায্য, ক্রীড়া পরিকাঠামো গড়ে তোলা ও সংস্কারের কাজ, ক্রীড়াবিদদের সাহায্য ও সফল ক্রীড়াবিদদের বড় অঙ্কের আর্থিক পুরস্কার দেওয়ার জন্য এই অঙ্কের অনেকটা অর্থই বরাদ্দ করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।

ভারতীয় জনতা পার্টির সংকল্পপত্রে প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল, রাজ্যে একটি ক্রীড়া বিশ্ববিদ্যালয় গড়ে তোলা হবে। সেই প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী এ জন্য ১৫০ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব দিয়েছেন অর্থমন্ত্রী। বাজেট প্রস্তাবে বলা হয়েছে, ‘যুবদের মধ্যে অ্যাথলেটিক্স, পেশাদার স্পোর্টস ট্রেনিং ও কোচিং এবং স্পোর্টস সায়েন্সের কোর্স ই্ত্যাদি প্রসারের জন্য রাজ্যে একটি নতুন স্পোর্টস ইউনিভার্সিটি স্থাপন করা হবে। এই ইউনিভার্সিটি ক্রীড়া-সাফল্যের উন্নতিতে একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। এর জন্য আমি ১৫০ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব রাখছি।’


এ ছাড়াও জাতীয় স্তরে অংশগ্রহনকারী ক্লাবগুলিকে আর্থিক সাহায্য করা হবে বলেও জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী। তাঁর বাজেট ভাষণে তিনি বলেন, ‘যে সকল ক্লাব জাতীয় স্তরের টুর্নামেন্টে অংশগ্রহণ করবে, তাদের এক কোটি টাকা আর্থিক সাহায্য দেওয়া হবে।’ অর্থাৎ, কলকাতার দুই প্রধান মোহনবাগান ও ইস্টবেঙ্গল এই সাহায্য পাবে। কলকাতার অন্যান্য যে ক্লাবগুলি, যারা সর্বভারতীয় ফুটবল ফেডারেশনের দ্বিতীয় সারির লিগে খেলে, এই প্রস্তাব অনুযায়ী তারাও সম্ভবত এই সাহায্য পাবে। এই আর্থিক সাহায্যের প্রস্তাবের জন্য মোহনবাগান ক্লাবের পক্ষ থেকে সোশ্যাল মিডিয়ায় মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীকে ধন্যবাদও দেওয়া হয়।

এ ছাড়াও শিলিগুড়িতে আন্তর্জাতিক মানের স্টেডিয়াম ও ইন্ডোর স্টেডিয়াম গড়ার জন্য ২০ কোটি টাকা, সবকটি বিধানসভা এলাকায় মিনি ইন্ডোর স্টেডিয়াম (১০০টি) গড়ার জন্য ৫ কোটি টাকা করে, রবীন্দ্র সরোবার স্টেডিয়ামের আমূল সংস্কারের জন্য ১০০ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাবও দেওয়া হয়েছে।

এ রাজ্যের ক্রীড়াবিদদের আন্তর্জাতিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণে উৎসাহিত করার জন্য প্রতিযোগিতার প্রকৃতি অনুযায়ী সফল ক্রীড়াবিদদের ইন্সপেক্টর পদমর্যাদা থেকে শুরু করে ডিএসপি পদ পর্যন্ত গ্রহণের প্রস্তাব দেওয়া হবে। এই বিষয়ে একটি নীতিও তৈরি করা হবে বলে জানানো হয়েছে। জাতীয় ও আন্তর্জাতিক স্তরের প্রতিযোগিতায় সফলদের আর্থিক পুরস্কার দেওয়ার জন্য ৫০ কোটি টাকার একটি তহবিলও তৈরি করা হবে।

ক্রীড়াখাতে এই সুপরিকল্পিত ও বেনজির অঙ্কের অর্থ বরাদ্দের জন্য মুখ্যমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন রাজ্যের যুবকল্যাণ ও ক্রীড়ামন্ত্রী ডা. ইন্দ্রনীল খাঁ। রবিবার ইডেনে বেঙ্গল টি-২০ লিগের ফাইনালে পুরস্কার দিতে গিয়ে বাংলার খেলাধুলাকে দুর্নীতিনুক্ত করার প্রতিশ্রুতি দেন।
বেনজির অঙ্কের অর্থবরাদ্দের প্রস্তাব দেওয়া হলেও আগামী কয়েক মাসে কতটা বাস্তবায়িত হয় এই পরিকল্পনা ও প্রকল্পগুলি, সেটাই আপাতত দেখার। সত্যিই যদি বরাদ্দ অনুযায়ী ক্রীড়াখাতে ব্যয় করা হয়, তা হলে বাংলার খেলাধুলার হাল যে ফিরবে, এই নিয়ে কোনও সন্দেহ নেই।