জাতীয় দলের জার্সিতে আর দেখা যাবে না তাঁকে। ২১ বছরের আন্তর্জাতিক ফুটবল অভিযানে এ বার ইতি টানার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন লিওনেল মেসি। কিন্তু আর্জেন্টিনার হয়ে খেলা থামানো মানেই কি ফুটবল থেকে ক্রমশ দূরে সরে যাবেন ৩৯ বছরের মহাতারকা?
একেবারেই না, বরং এর পরেও ফুটবলের সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক আরও গভীর হতে চলেছে। দেশের হয়ে না খেললেও ইন্টার মায়ামির হয়ে নিয়মিত মাঠে নামবেন তিনি। বয়স ৩৯ পেরোলেও পারফরম্যান্সে তার ছাপ পড়েনি। মেজর লিগ সকারের (এমএলএস) ম্যাচে একাই চার গোল করেছেন মেসি। এমএলএসে তাঁর গোলসংখ্যা ১৮— এখনও তিনি এই লিগের সর্বোচ্চ গোলদাতা। অর্থাৎ তাঁর পায়ের জাদু এখনও ফুরোয়নি। তবে মেসি আর কত দিন খেলবেন, সেই সিদ্ধান্ত এখন বয়স বা চুক্তির অঙ্কে আটকে নেই। শেষ কথা বলবেন মেসি নিজেই।
ইন্টার মায়ামির সঙ্গে মেসির বর্তমান চুক্তি ২০২৮-এর শেষ পর্যন্ত। ফলে চুক্তি অনুযায়ী ২০২৭-২৮ এমএলএস মরসুমেও তাঁকে মাঠে দেখার সম্ভাবনা রয়েছে। মায়ামি যদি পরের কনকাকাফ চ্যাম্পিয়নস লিগে জায়গা করে নেয়, সেই প্রতিযোগিতাতেও দলের হয়ে খেলতে পারেন তিনি। তবে চুক্তির মেয়াদ থাকলেই যে শেষ দিন পর্যন্ত তাঁকে খেলতেই হবে, এমন কোনও নিয়ম নেই। নিজের শরীর, ইচ্ছা এবং পারফরম্যান্স বিচার করে তার আগেই বুটজোড়া তুলে রাখতে পারেন মেসি।
আর সেখানেই খুলছে নতুন সম্ভাবনার দরজা। মাঠে খেলোয়াড় হিসেবে মেসির অধ্যায় শেষ হলেও ইন্টার মায়ামির সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক বজায় থাকতে পারে। ক্লাবের সঙ্গে যুক্ত অন্য কোনও দায়িত্বে তাঁকে রাখার পরিকল্পনাও রয়েছে। অর্থাৎ, মাঠে মেসিকে আর না দেখা গেলেও মায়ামির প্রকল্পে তাঁর উপস্থিতি থেকে যেতে পারে।
মেসির ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা শুধু ইন্টার মায়ামিকে ঘিরে নয়। ফুটবলের সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদি সম্পর্ক বজায় রাখতে ইতিমধ্যেই একাধিক প্রকল্পে জড়িয়েছেন তিনি। চলতি বছরে স্পেনের তৃতীয় ডিভিশনের ক্লাব ইউনিয়ন এস্পোর্তিভো কর্নেলার মালিকানাও কিনেছেন মেসি। পাশাপাশি রয়েছে তাঁর পারিবারিক প্রকল্প লিওনেস এফসি। উরুগুয়ের এলএসএম-এও লুই সুয়ারেজের সঙ্গে তিনি একটি প্রকল্পে যুক্ত হতে পারেন বলে ইঙ্গিত পাওয়া গিয়েছে। অর্থাৎ, খেলোয়াড় মেসির বয়স যতই বাড়ুক, ফুটবল-দুনিয়ায় তাঁর প্রভাব যে আরও ছড়াবে, তার ইঙ্গিত ইতিমধ্যেই স্পষ্ট।
আর্জেন্টিনার হয়ে মেসির সবচেয়ে বড় স্বপ্ন পূরণ হয়েছে ২০২২-এ। কাতারে বিশ্বকাপ জয়ের পর জাতীয় দলের জার্সিতে তাঁর আর কোনও অপূর্ণতা নেই। ২০২৬ বিশ্বকাপেও ৩৯ বছর বয়সে নিজের উপস্থিতির ছাপ রেখেছেন তিনি। এ বার তাই জাতীয় দলের অধ্যায় শেষ করে ধীরে ধীরে অন্য ভূমিকায় যাওয়ার প্রস্তুতি।
মেসির সামনে এখন মূল প্রশ্ন একটাই— আর কত দিন খেলবেন? ২০২৮ পর্যন্ত চুক্তি থাকলেও তার আগেই থামতে পারেন। আবার যদি শরীর ও মন সায় দেয়, আরও কিছু দিন মাঠে দেখা যেতে পারে তাঁকে।
তবে একটা বিষয় প্রায় নিশ্চিত—মেসি জাতীয় দলের জার্সি তুলে রাখলেও ফুটবলকে বিদায় জানাচ্ছেন না। খেলোয়াড় মেসির পরেও তিনি ফুটবলের সেবায় থেকেই যাবেন।