একই দিনে জোড়া খেতাব। জার্মানির সারব্রুকেনে হায়লো ওপেন ব্যাডমিন্টন প্রতিযোগিতায় স্বপ্নের দিন কাটাল ভারত। মহিলাদের সিঙ্গলসে চ্যাম্পিয়ন হলেন পিভি সিন্ধু। পুরুষদের সিঙ্গলসে খেতাব জিতলেন লক্ষ্য সেন। দু’জনেই ফাইনালে প্রতিপক্ষকে হারালেন সরাসরি গেমে। ফলে সুপার ৫০০ পর্যায়ের এই প্রতিযোগিতা থেকে জোড়া খেতাব নিয়ে দেশে ফিরছেন ভারতীয় শাটলাররা।
মহিলাদের ফাইনালে ডেনমার্কের অষ্টম বাছাই এবং বিশ্বের ২৫ নম্বর লাইন হোজমার্ক কেয়ার্সফেল্টকে ২১-১২, ২১-১৪ গেমে হারান দ্বিতীয় বাছাই সিন্ধু। মাত্র ৩৯ মিনিটে ম্যাচ জিতে নেন ভারতীয় কিংবদন্তি। চলতি মরসুমে এটি তাঁর দ্বিতীয় খেতাব। এর আগে জুলাই মাসে জাপান ওপেন জিতেছিলেন তিনি। গত সপ্তাহে ফরাসি ওপেনে রানার্স হওয়ার পরে এ বার জার্মানিতে চ্যাম্পিয়ন হলেন দু’বারের অলিম্পিক পদকজয়ী।
ফাইনালে শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক মেজাজে ছিলেন সিন্ধু। প্রতিপক্ষকে ম্যাচে ফেরার সুযোগ দেননি। প্রথম গেমে শুরু থেকেই এগিয়ে ছিলেন তিনি। দ্বিতীয় গেমেও একই ভাবে নিয়ন্ত্রণ বজায় রেখে খেতাব নিশ্চিত করেন।
ম্যাচের পরে সিন্ধু বলেন, ‘প্রতিপক্ষ কে, সেটা না ভেবে নিজের সেরাটা দেওয়াই আমার কাছে গুরুত্বপূর্ণ ছিল। ওর সঙ্গে আগেও অনেক বার খেলেছি। তাই প্রতিটি পয়েন্টে মনোযোগ দেওয়া দরকার ছিল। শুধু পুরো ম্যাচ জেতা নয়, আমার কাছে প্রতিটি পয়েন্ট গুরুত্বপূর্ণ ছিল। শুরু থেকেই এগিয়ে গিয়েছিলাম। ওকে কোনও সুযোগ দিইনি।’’
<blockquote class=”twitter-tweet”><p lang=”en” dir=”ltr”>INDIA RULES THE HYLO OPEN! 🇮🇳🔥
PV Sindhu in women’s singles. Lakshya Sen in men’s singles. Two trophies coming home! 🏆
#PVSindhu #LakshyaSen https://t.co/hlhCx874Et</p>— FanCode (@FanCode) <a href=”https://x.com/FanCode/status/2117111963217952849?ref_src=twsrc%5Etfw”>November 2, 2026</a></blockquote>
<script async src=”https://platform.x.com/widgets.js” charset=”utf-8″></script>
‘অনেক দিন পরে খেতাব পেয়ে দারুণ লাগছে’
সিন্ধুর জয়ের পরে পুরুষদের সিঙ্গলস ফাইনালেও বাজিমাত করেন লক্ষ্য। ইন্দোনেশিয়ার চতুর্থ বাছাই জোনাতান ক্রিস্তিকে ২১-১৭, ২১-১০ গেমে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন হন তিনি। মাত্র ৩৯ মিনিটে ম্যাচ শেষ করেন ২০২২ কমনওয়েলথ গেমসের সোনাজয়ী ভারতীয় শাটলার।
প্রথম গেমে এক সময় ৮-৪ পয়েন্টে এগিয়ে ছিলেন লক্ষ্য। কিন্তু লড়াইয়ে ফিরে এসে ৯-৮ ব্যবধানে এগিয়ে যান ক্রিস্তি। সেখান থেকে দুরন্ত ভাবে ঘুরে দাঁড়ান ভারতীয় শাটলার। তাঁর শক্তিশালী স্ম্যাশ এবং বুদ্ধিদীপ্ত শটের সামনে দাঁড়াতে পারেননি ইন্দোনেশিয়ার প্রতিপক্ষ। দ্বিতীয় গেমে শুরু থেকেই দাপট দেখিয়ে সহজেই ম্যাচ জিতে নেন লক্ষ্য।
খেতাব জিতে লক্ষ্য বলেন, ‘অনেক দিন পরে কোনও প্রতিযোগিতায় চ্যাম্পিয়ন হলাম। তাই খুব ভাল লাগছে। পরপর কয়েকটি প্রতিযোগিতায় প্রথম রাউন্ডে হেরে যাওয়ায় আত্মবিশ্বাসে ধাক্কা লেগেছিল। কিন্তু এই প্রতিযোগিতায় প্রথম ম্যাচ থেকেই যে ভাবে খেলেছি, তাতে আত্মবিশ্বাস অনেকটাই বেড়েছে।’
এখানেই শেষ নয়। সামনে দীপাবলি। পরিবারের সঙ্গে উৎসব কাটানোর জন্য দেশে ফিরতে মুখিয়ে রয়েছেন লক্ষ্য। তিনি বলেন, ‘পাঁচ দিনের জন্য বাড়ি ফিরছি। দীপাবলিতে পরিবারের সবাই থাকবেন। তার উপর নতুন বাড়িতেও উঠছি। ফলে গৃহপ্রবেশের অনুষ্ঠানও রয়েছে। এ বার তাই উদ্যাপনের আনন্দ দ্বিগুণ।’
ওয়ার্ল্ড ট্যুর ফাইনালসের দৌড়ে এগোলেন সিন্ধু
এই জয়ের ফলে ওয়ার্ল্ড ট্যুর ফাইনালসে জায়গা করে নেওয়ার দৌড়েও অনেকটা এগিয়ে গেলেন সিন্ধু। হায়লো ওপেন জিতে ৯২০০ র্যাঙ্কিং পয়েন্ট পেয়েছেন বিশ্বের আট নম্বর ভারতীয় তারকা।
নিজের পারফরম্যান্স নিয়ে যথেষ্ট খুশি সিন্ধু। তাঁর কথায়, ‘এই জয় আমাকে অনেক আত্মবিশ্বাস দেবে। সব কিছু পরিকল্পনা অনুযায়ী এগোচ্ছে দেখে ভাল লাগছে। আমার গোটা দলের কাছে আমি কৃতজ্ঞ। প্রত্যেকে প্রচুর পরিশ্রম করেছে। এমন দিনও এসেছে, যখন মানসিক ভাবে খুব ভেঙে পড়েছি। কিন্তু সেই সময়েও দলের সদস্যেরা আমাকে উৎসাহ জুগিয়েছে।’
নিজের সেরা ছন্দে ফিরেছেন কি না, এই প্রশ্নের উত্তরে সিন্ধুর স্পষ্ট জবাব, ‘নিশ্চয়ই। আমার গোটা দলকে কৃতিত্ব দিতে হবে। আমরা পরিকল্পনা মেনেই এগিয়েছি। বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে কোন বিষয়গুলিকে বেছে নিতে হবে, সেই ব্যাপারে আরও বুদ্ধিমান হওয়া জরুরি। একই সঙ্গে শান্ত থাকাও গুরুত্বপূর্ণ। উন্নতির জায়গা এখনও রয়েছে। তবে পরিস্থিতির যে উন্নতি হচ্ছে, তাতে আমি খুশি।’
চার বছর পরে আবার কোনও সুপার ৫০০ বা তার চেয়ে উচ্চ পর্যায়ের প্রতিযোগিতায় একই দিনে দু’টি খেতাব জিতল ভারত। এর আগে ২০২২-এ ইন্ডিয়া ওপেনে লক্ষ্য সেন পুরুষদের সিঙ্গলস এবং সাত্ত্বিকসাইরাজ রঙ্কিরেড্ডি-চিরাগ শেট্টি জুটি পুরুষদের ডাবলস খেতাব জিতেছিলেন।
এ বার জার্মানিতে সিন্ধু ও লক্ষ্যের জোড়া সাফল্য ভারতীয় ব্যাডমিন্টনকে নতুন করে উজ্জ্বল করে তুলল।