মঙ্গলবার যুবভারতীতে পেনাল্টি থেকে উরুগুয়ে প্রথম গোল পাওয়ার পর মিনিট দশেকও হয়নি, সেই গোল শোধ করে দেয় ভারত। রায়ান উইলিয়ামসের জোরালো শট গোলকিপার কার্দোসোর হাত ছিটকে আসতেই সেই সুযোগ পুরোপুরি কাজে লাগিয়ে জালে বল জড়িয়ে দেন মোহনবাগানের মিডফিল্ডার অনিরুদ্ধ থাপা।
উরুগুয়ের বিরুদ্ধে ভারতের একমাত্র গোলটি করে বিশেষ সকলের নজর কেড়ে নেন তিনি। ফলাফল ভারতের পক্ষে না গেলেও এই একটি গোলই দিনটাকে থাপার কাছে স্মরণীয় করে তুলেছে। ম্যাচের পর থাপা জানান, ‘আমার স্ত্রী সন্তানসম্ভবা, এই খবর সম্প্রতিই পেয়েছি আমি। এ রকম সময়ে জাতীয় দেশের হয়ে গোল করার আবেগ আমার কাছে অনেক বেশি। এই মুহূর্তটা সারা জীবন মনে থাকবে আমার’।
শুধু নিজের গোল নয়, পুরো দলের মানসিকতাকেও ইতিবাচক ভাবে দেখছেন অনিরুদ্ধ। তাঁর মতে, ‘তিনটে ম্যাচেই আমরা আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলেছি। শুধু রক্ষণ সামলে থাকার পথে যাইনি। বার বার গোলের চেষ্টা করেছি। হারলেও শেষ পর্যন্ত লড়াই ছাড়িনি। এটা আমাদের একটা ইতিবাচক দিক’।
ব্রাজিল ও উরুগুয়ের বিরুদ্ধে দুটি ম্যাচ শুধুই আর পাঁচটা ম্যাচের মতো নয়। এই দুই ম্যাচে দলের কোথায় ঘাটতি, আর কোথায় এগোনোর জায়গা, সেই ছবিটাও পরিষ্কার হয়েছে ভারতীয় শিবিরে। আর উরুগুয়ের মতো দলের কোচের মুখে ভারতের প্রশংসা সেই লড়াইয়েরই বড় স্বীকৃতি।
ভারতের পারফরম্যান্স নিয়ে ইতিবাচক মন্তব্যই করেছেন দিয়েগো ফোরলান। একসময় এই দেশের ক্লাব ফুটবলে খেলেছেন তিনি। সেই অভিজ্ঞতার জায়গা থেকেই ভারতীয় ফুটবলের বদল চোখে পড়েছে তাঁর।
মঙ্গলবার ভারতকে ৬-১-এ হারানোর পরে উরুগুয়ের নয়া কোচ ফোরলান বলেন, ‘গত কয়েক বছরে ভারতীয় ফুটবলে অনেক পরিবর্তন এসেছে। দল অনেক বেশি সাহসী হয়েছে। আক্রমণে উঠতে ভয় পাচ্ছে না। এই ম্যাচেও ভারতের খেলায় সেই মানসিকতাই দেখা গিয়েছে। বেশ কয়েক বার সুযোগ তৈরি করেছিল ওরা। গোলের জায়গাতেও পৌঁছেছিল। কিন্তু ফাইনাল পাস বা শটে সাফল্য আসেনি’।
এই ম্যাচ থেকে ভারতের অনেক কিছু শেখার রয়েছে বলেই মনে করছেন ফোরলান। তাঁর মতে, ‘আমাদের দলের বিরুদ্ধে খেলা ভবিষ্যতে ভারতীয় ফুটবলারদের আরও তৈরি করবে’।
ম্যাচের মোড় ঘোরার নেপথ্যে আরও একটি কারণের কথাও উল্লেখ করেন উরুগুয়ের কোচ। তাঁর মতে, ‘প্রথমার্ধে বজ্রপাতের কারণে খেলা কিছু সময়ের জন্য বন্ধ হয়ে যাওয়ায় আমরা সুবিধা পাই। আমাদের ছেলেরা সেই সুবিধাই কাজে লাগিয়েছে’।
ম্যাচের শুরু থেকেই ভারতকে বেশ আত্মবিশ্বাসী দেখাচ্ছিল। একের পর এক আক্রমণে উঠছিল দল। উরুগুয়ের রক্ষণেও চাপ তৈরি হচ্ছিল। কয়েক বার গোলের কাছাকাছি পৌঁছে গিয়েছিল ভারত। ফলে প্রথমার্ধের সেই বিরতিই উরুগুয়ের ছন্দে ফেরার জন্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে।
ফোরলান বলেন, ‘ভারতের আক্রমণের গতি তখন আমাদের সমস্যায় ফেলছিল। ভারত সুযোগও তৈরি করছিল। আমাদের খেলোয়াড়েরা কয়েকটি ভুলও করে। ফলে চাপ বাড়ছিল। আচমকা খেলা বন্ধ হওয়ায় ড্রেসিংরুমে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করার সুযোগ পাই আমরা। কোথায় ভুল হচ্ছে, তা নিয়ে কথা হয়। বদলানো হয় ছক। পরে সেই পরিকল্পনাই কাজে দেয়’। ভারতকে যে হালকা ভাবে নেয়নি উরুগুয়ে, তাঁর কথাতেই স্পষ্ট। বরং প্রথম দিকের লড়াই নিয়ে যথেষ্ট সতর্ক ছিল তারা। স্কোরলাইন অন্য ছবি দেখালেও শুরুটা মোটেই সহজ ছিল না উরুগুয়ের।