কোচ কার্লো আনসেলোত্তির উপর চাপ বাড়িয়ে সাংবাদিকদের কী বললেন এন্ড্রিক?

চলতি বিশ্বকাপে এখনও পর্যন্ত বেশিক্ষণ মাঠে থাকার সুযোগ পাননি এন্ড্রিক। হাইতির বিরুদ্ধে ম্যাচে বদলি হিসেবে নেমে নজর কাড়ার পর তিনি এমন কিছু মন্তব্য করলেন, যা ব্রাজিল কোচ কার্লো আনসেলোত্তির কতটা ভালো ভাবে নেবেন, সেটাই প্রশ্ন।

মরক্কোর বিরুদ্ধে প্রথম ম্যাচে মাঠে নামার সুযোগ পাননি এন্ড্রিক। তবে হাইতির বিরুদ্ধে দ্বিতীয় ম্যাচে পরিবর্ত হিসেবে নেমে নিজের খিদে ও লড়াইয়ের মানসিকতার পরিচয় দেন। ম্যাচের পর সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলতে এসে তিনি বলেন, “ব্রাজিল দলে সেই খেলোয়াড়দেরই থাকা উচিত, যারা লড়াই করতে প্রস্তুত, যারা খেলতে চায়, মাঠে নামতে চায় এবং দলকে সাহায্য করতে চায়।”

সুযোগ পাওয়ার অপেক্ষা প্রসঙ্গে এন্ড্রিকের মন্তব্য, “আমি সবসময় প্রস্তুত থাকার চেষ্টা করি। কোচ যখনই সুযোগ দেবেন, আমি দলের জন্য নিজের সেরাটা দিতে চাই।” মাত্র ১৯ বছর বয়সী এই ফরোয়ার্ড আরও বলেন, “ব্রাজিলের জার্সি গায়ে চাপানোই অনেক বড় ব্যাপার। এখানে প্রতিটি মিনিটের মূল্য আছে। তাই যখন সুযোগ আসে, তখন তা কাজে লাগাতেই হবে।”


হাইতির বিরুদ্ধ ম্যাচে ৬৪ মিনিটের মাথায় কুনহাকে তুলে এন্ড্রিককে নামান ব্রাজিলের কোচ। মাত্র ৩০ মিনিট মাঠে থাকলেও সমর্থকদের মন জয় করে নেন তিনি। একবার বল জালে জড়িয়েও দেন। কিন্তু অফসাইডের জন্য তাঁর সেই গোল বাতিল হয়ে যায়।
ম্যাচের পরে ব্রাজিলের সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় তিনি বলেন, “আমি খুবই খুশি। ঈশ্বর আমাকে বলেছিলেন যে, আমার জীবনে আমি অসাধারণ কিছু কাজ করব। মাঠে নেমে একটি গোল করেছিলাম, যদিও পরে সেটি বাতিল করা হয়েছে… কিন্তু আমার হৃদয়ের গভীরে, সেটি এমন একটি গোল যা আমার কাছে ভীষণ গুরুত্বপূর্ণ এবং বিশেষ অর্থ বহন করে।”

আনসেলোত্তি বরাবরই বলে আসছেন এন্ড্রিকের ব্যাপারে তিনি তাড়াহুড়ো করতে চান না। মরক্কো ম্যাচের পর এন্ড্রিককে নিয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেছিলেন, “এন্ড্রিককে নিয়ে কথা বলছি না, আমি দলকে নিয়ে কথা বলছি।” তরুণ ফুটবলারের উপর অতিরিক্ত চাপ না দিয়ে ধীরে ধীরে তাঁকে খেলাতে চান বলে জানিয়েছিলেন ব্রাজিলের কোচ।

এন্ড্রিকের বক্তব্যকে অনেকেই আনসেলোত্তির উদ্দেশে এক বার্তা হিসেবেই দেখছেন। বিশ্বকাপের আগে ফরাসি ক্লাব লিয়ঁতে লিয়েনে খেলতে গিয়ে দুর্দান্ত পারফরম্যান্স দেখান তিনি। সেই ফর্মের সুবাদেই ব্রাজিল দলে জায়গা ফিরে পান এন্ড্রিক। কিন্তু ভিনিসিয়াস জুনিয়র, মাতেউস কুনহা এবং অন্যান্য ফরোয়ার্ডদের উপস্থিতিতে এখনও প্রথম একাদশে জায়গা নিশ্চিত করতে পারেননি।

এন্ড্রিক বলেন, “আমি ব্রাজিলের সমর্থকদেরও ধন্যবাদ জানাতে চাই, বিশেষ করে যারা ব্রাজিল থেকে যুক্তরাষ্ট্রে এসেছেন জাতীয় দলকে সমর্থন করার জন্য।” হাইতির বিরুদ্ধে ৩-০ গোলের জয়ের পর ব্রাজিল এখন নকআউট পর্বের দোরগোড়ায়। সামনে স্কটল্যান্ডের বিরুদ্ধে গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচ। সেই ম্যাচে এন্ড্রিক আরও বেশি সময় পান কি না, সেদিকেই নজর থাকবে সমর্থকদের। তবে তাঁর এই মন্তব্য থেকে একটি বিষয় পরিষ্কার—ব্রাজিলের এই তরুণ তারকা বেঞ্চে বসে সন্তুষ্ট নন।