আম্মানে জোড়া গোলে এগিয়ে থেকেও ড্র কেন লাল-হলুদের? কী বললেন দানি রামিরেজ?

Dani Ramirez Photo-SNS

জর্ডনের মাটিতে ২-০ এগিয়েও জয় হাতছাড়া হয়েছে। দ্বিতীয়ার্ধে দু’টি গোল হজম করে আল হুসেইনের সঙ্গে ২-২ ড্র করেছে ইস্টবেঙ্গল। তবু এই এক পয়েন্টকেই কম গুরুত্ব দিচ্ছেন না লাল-হলুদের স্প্যানিশ মিডফিল্ডার দানি রামিরেজ। তাঁর মতে, আম্মানে পাওয়া এই পয়েন্টই কলকাতায় পরের ম্যাচের আগে দলের আত্মবিশ্বাস অনেকটা বাড়িয়ে দেবে।

বুধবার আম্মান ইন্টারন্যাশনাল স্টেডিয়ামে এএফসি চ্যাম্পিয়ন্স লিগ ২-এর গ্রুপ ডি-র প্রথম ম্যাচে দুর্দান্ত শুরু করেছিল ইস্টবেঙ্গল। মাত্র ৯ মিনিটে গোল করে দলকে এগিয়ে দেন রামিরেজ। প্রথমার্ধের শেষ দিকে তাঁর নেওয়া কর্নার থেকেই অনোয়ার আলি গোল করে ব্যবধান ২-০ করেন। কিন্তু বিরতির পরে ছবিটা বদলে যায়। আল হুসেইন পর পর দু’টি গোল করে ম্যাচে সমতা ফেরায়।

তবু এই ড্র-কে গুরুত্বপূর্ণ বলছেন রামিরেজ। ম্যাচের পরে ইস্টবেঙ্গল মিডিয়া টিমকে তিনি বলেন, ‘সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল, আমরা দলকে একটি পয়েন্ট এনে দিতে পেরেছি। অবশ্যই আমরা তিন পয়েন্ট পেতে চেয়েছিলাম। কিন্তু এই ফলকে আমাদের সম্মান করতেই হবে। জর্ডনের মাটিতে কোনও সফরকারী দলের পক্ষে এক পয়েন্ট পাওয়াও সহজ নয়।’


নিজের গোল এবং অনোয়ারের গোলের নেপথ্যে অবদান নিয়েও খুশি রামিরেজ। তাঁর কথায়, ‘ইস্টবেঙ্গলের হয়ে দ্বিতীয় গোল করতে পেরে আমি খুশি। আর এএফসি চ্যাম্পিয়ন্স লিগ ২-এর মতো বড় মঞ্চে গোলটা আসায় ভাল লাগাটা আরও বেশি। অনোয়ারও আমার কর্নার থেকে দুর্দান্ত ভাবে গোল করেছে।’

প্রথমার্ধে ২-০ এগিয়ে যাওয়ার পরেও জয় কেন এল না, সেই প্রশ্ন উঠছেই। রামিরেজও মানছেন, এখনও বেশ কিছু জায়গায় উন্নতির প্রয়োজন রয়েছে। তবে সেই ভুলগুলি নিয়ে দলের অন্দরে ইতিমধ্যেই আলোচনা শুরু হয়ে গিয়েছে বলে জানিয়েছেন তিনি।

রামিরেজ বলেন, ‘আমাদের এখনও কয়েকটি জায়গায় উন্নতি করতে হবে। ম্যাচ শেষ হওয়ার পরেই সাজঘরে আমরা সেই বিষয়গুলি নিয়ে আলোচনা শুরু করেছি। কোথায় আরও ভাল করা যায়, তা নিয়ে নিজেদের মধ্যে কথা হয়েছে।’

এ বার নজর কলকাতার ম্যাচে। আগামী ১৩ অক্টোবর যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনে ইরাকের আল-শর্তার বিরুদ্ধে খেলবে ইস্টবেঙ্গল। আম্মান থেকে পয়েন্ট নিয়ে ফেরার পরে সেই ম্যাচে ঘরের মাঠের সমর্থকদের সামনে জয়ের লক্ষ্যই রাখছেন রামিরেজ।

তিনি বলেন, ‘আশা করি, ১৩ অক্টোবর কলকাতায় ইরাকের আল-শর্তার বিরুদ্ধে আমাদের দ্বিতীয় ম্যাচে জিততে পারব এবং সমর্থকদের গর্বিত করতে পারব। এই ম্যাচ থেকে আমরা অনেক কিছু শিখেছি। পরের ম্যাচে সেই শিক্ষাগুলিই কাজে লাগাব।’

শেষ পর্যন্ত তাঁর বার্তা একটাই—আম্মানের ড্র-কে আত্মবিশ্বাসের জ্বালানি করে এগোতে চান তাঁরা। রামিরেজের কথায়, ‘এই পারফরম্যান্স আমাদের আত্মবিশ্বাস অনেক বাড়াবে। আমরা একটি দল হিসাবে ভাল খেলেছি। ১৩ অক্টোবর ঘরের মাঠে সমর্থকেরা আমাদের পাশে থাকবেন। তাঁদের সমর্থন নিয়ে আমরা ইতিবাচক ফল করতে পারব বলে আমি আত্মবিশ্বাসী।’

ইস্টবেঙ্গলের জন্য তাই আম্মানে দুই পয়েন্ট হাতছাড়া হওয়ার আক্ষেপ যেমন রয়েছে, তেমনই রয়েছে এশিয়ার মঞ্চে প্রথম অ্যাওয়ে পয়েন্ট পাওয়ার তৃপ্তিও। এখন সেই আত্মবিশ্বাস নিয়েই কলকাতায় আল-শর্তার অপেক্ষা রামিরেজদের।