এই বিশ্বকাপের ডার্ক হর্স আর কেউ নয় ওয়েস্ট ইন্ডিজ

ওয়েস্ট ইন্ডিজ দলের অধিনায়ক জেসন হােল্ডার (Photo: AFP)

কেউ যেটা এতােদিন বলেননি সেটা এবার প্রকাশ্যে এল। ২০১৯ বিশ্বকাপ ক্রিকেটে ডার্কহর্স হচ্ছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ।

১৯৮৩ সালে কপিলদেবের ভারতীয় দলের বিশ্বকাপ চ্যাম্পিয়ন হওয়ার প্রশ্নে বুকিরা দর দিয়েছিল ৬৬ তে ১। এবার ওয়েস্ট ইন্ডিজের ক্ষেত্রেও তাই। কিন্তু, ১৪ জুলাই জেসন হােল্ডারের ওয়েস্ট ইন্ডিজ যদি ফাইনাল খেলে তবে সেটা আদৌ কোনও আশ্চর্যের ব্যাপার হবে না।

১৯৮৩-তে অস্ট্রেলিয়া, ইংল্যান্ড এবং ওয়েস্ট ইন্ডিজের মতন শক্তিশালী দলগুলাে ভারতকে আন্ডার এসটিমেট করেছিল। ২০১৯ এ ভারত, ইংল্যান্ড, অস্ট্রেলিয়া ও পাকিস্তান সেই কাজটাই করছে আবার। এরা প্রত্যেকেই ভাবছে তারা ফাইনালে যাবে। কিন্তু ক্যারিবিয়ান দ্বীপকুঞ্জ থেকে যে দলটি ইংল্যান্ডে আসছে আগামি মঙ্গলবার সেই দলটিকেই বিশ্বকাপের ‘ডার্কহর্স’ হিসাবে ধরে নিয়েছে বুকিরা।


স্যার ফ্র্যাঙ্ক ওরেল ১৯৬০-র দশকের শুরুতে যে শক্তিশালী ওয়েস্ট ইন্ডিজ দল গড়া শুরু করেছিলেন তা হাত বদল হয়ে স্যার গ্যারি সােবার্সের হাতে যাওয়ার পর ১৯৭০ এবং আশির দশকে ক্লাইভ লয়েড ওয়েস্ট ইন্ডিজকে যে নতুন উচ্চতায় তুলে নিয়ে গিয়েছিলেন তারপর ক্যারিবিয়ান দ্বীপকুঞ্জের দলটি আস্তে আস্তে হারিয়ে গেলেও, এবার জেসন হােল্ডারের দলে আন্দ্রে রাসেল, ক্রিস গেইল, ড্যারেন ব্র্যাভাে, শ্যানন গ্যাব্রিয়েল, কেমার রােচ, সিমরন হেটমার বা কার্লোস ব্রেথওয়েটরা থাকায় কোনওভাবেই ওয়েস্ট ইন্ডিজকে প্রাথমিক গ্রুপ লিগে ছেটে ফেলা যাচ্ছে না।

প্রথম তিনটি বিশ্বকাপের ফাইনালে খেলা ওয়েস্ট ইন্ডিজ একটা বিষয় পরিস্কার উপলব্ধি করেছে যে প্লে-অফ পর্যায়ে যাওয়াটা যদি লক্ষ্য হয় মাত্র তবে সেই দলের কাছে চ্যাম্পিয়ন হওয়া আশা করা যায় না। তাই জেসন হােল্ডার চ্যাম্পিয়ন হবেন এটা ধরে নিয়েই এখানে খেলতে আসছেন। শেষ দুটি বিশ্বকাপে ওয়েস্ট ইন্ডিজ প্লে-অফ পর্যায়ে গিয়েছিল। তার পর হয়তাে তাদের পারফরমেন্সে ঘাটতি বিশ্ব র‍্যাঙ্কিংয়ে তাদের অনেক নীচুতে নামিয়ে এনেছে।

কিন্তু ক্রিকেট ওয়েস্ট ইন্ডিজের সাংগাঠনিক ভরে যে পরিবর্তন হয়েছে তারপর অন্তত কাগজে কলমে তারাই এখন বিশ্বের অন্যতম সেরা দল। ক্রিস গেইল এবং আন্দ্রে রাসেল এমন দু’জন ক্রিকেটার যাঁরা নিজেদের ক্ষমতায় ম্যাচ জিতিয়ে পারেন। এলভিন লুইস, সাই হােপ, ড্যারেন ব্র্যাভাে, নিকোলাস পুরান এবং সিমরন হেটমার সেই সঙ্গে জেসন হােল্ডার, অ্যাসলে নার্স এবং কার্লোস ব্রেথওয়েট এঁরাও ব্যাটে এবং বলে যথেষ্ট দাগ কাটতে সক্ষম। তাই ক্যারিবিয়ান দ্বীপকুঞ্জের দলটি দীর্ঘদিন পর তাদের অতি পরিচিত পেস বােলিংয়ে ভীষণরকম ধারালাে হয়ে উঠছে।

গ্যাব্রিয়েল, ওসনে টমাস, কেমার ব্রোচ, ব্রেথওয়েল অথবা শেল্ডন কর্টরেল এই পাঁচ পেস বােলার যেকোনো দলকে যেকোনাে জায়গায় বিপদে ফেলতে পারে। ওয়েস্ট ইন্ডিজের নির্বাচকরা অত্যন্ত ভেবেচিন্তে যে দল বাছাই করেছেন এখন ক্রিকেটারদেরই প্রমাণ করতে হবে যে নির্বাচকরা ভুল করেননি।

সর্বশেষ একদিনের ম্যাচের র্যাঙ্কিং অনুযায়ী ওয়েস্ট ইন্ডিজ নবম স্থানে থাকায় তাদের কোয়ালিফিকেশন রাউন্ড খেলে মূলপর্বে আসতে হয়েছে। কিন্তু, ক্যারিবিয়ান দ্বীপকুঞ্জের ক্রিকেটাররা বিশ্বে বেশ কয়েকটি আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টি লিগে খেলে যে অভিজ্ঞতা সঞ্চয় করেছে সেটা কাজে লাগবে অবশ্যই। ওয়েস্ট ইন্ডিজের প্রাক্তন তারকা ব্রায়ান লারা মনে করছেন, ভারত, ইংল্যান্ড অনায়াসে সেমিফাইনালে উঠবে। তিনি ওয়েস্ট ইন্ডিজকে এই তালিকায় রাখেননি। কিন্তু জেসন হােল্ডাররা তাদের প্রাক্তন তারকাকে ভুল ভেঙে দেওয়ার জন্যই এই বিশ্বকাপকে বাজি ধরেছেন।