ওয়েস্ট ইন্ডিজের খেলোয়াড়রা ঘরে ফিরতে ছটফট করছেন

প্রতিনিধিত্বমূলক চিত্র

গত রবিবার ইডেন উদ্যানে ভারত এবং ওয়েস্ট ইন্ডিজ মরণ-বাঁচন লড়াইয়ে মুখোমুখি হয়েছিল। সেই লড়াইয়ে ভারত বাজিমাত করে। স্বাভাবিকভাবে টি-টোয়েন্টি ক্রিকেট থেকে ছিটকে যাওয়া ওয়েস্ট ইন্ডিজ দলের দেশে ফিরে যাওয়ার কথা ছিল। কিন্তু তাদের দেশে ফেরা হল না। ইরান ও ইজরায়েলের মধ্যে যুদ্ধের দামামায় ওয়েস্ট ইন্ডিজের খেলোয়াড়রা সেদিন থেকেই কলকাতায় রয়ে গেছেন। তাঁদের মন ছটফট করছে কবে তাঁরা পরিবারের সঙ্গে মিলিত হবেন। উদ্বেগের সঙ্গে পরিবারের পরিজনরা একের পর একটা দিন কাটিয়ে চলেছেন। দেখতে দেখতে পাঁচটা দিন অতিবাহিত হয়ে গেছে।

ওয়েস্ট ইন্ডিজের খেলোয়াড়দের মধ্যে এখন অনেকটাই বন্দিদশা। এই অবস্থা থেকে কবে যে মুক্তি পাবেন, তার কোনও দিশা খুঁজে পাচ্ছেন না। দিশেহারা ওয়েস্ট ইন্ডিজের খেলোয়াড়রা দেশের রাষ্ট্রদূতের কাছে করুণ আর্জি করছেন, তাঁদেরকে যেন দেশে ফিরিয়ে নেওয়া যায়। খেলোয়াড়রা ফোনে যোগোযোগ করছেন পরিবারের সঙ্গে। কিন্তু তারা কতদিন এইভাবে ভারতে থাকবেন, তার কোনও হদিশ খুঁজে পাচ্ছেন না।

দলের ও অন্য দলের খেলোয়াড়রাও বর্তমান পরিস্থিতিতে এক বেদনাদায়ক বলে অভিভূত করছেন। আসলে মাঠের লড়াইয়ের সঙ্গে বাইরে মানসিক যুদ্ধকে কোনওভাবেই একই জায়গায় রাখা সম্ভব হয় না। হয়তো সেই কারণেই খেলোয়াড়রা বার বার সংবাদমাধ্যমে তাঁদের অনুভূতির কথা তুলে ধরছেন। এমন কঠিন পরিস্থিতির মধ্যে যেভাবে সময় অতিবাহিত করতে হচ্ছে, তাতে মন কখনওই সায় দিচ্ছে না। একটাই চিন্তা, কবে বাড়ি ফিরবেন এবং পরিজন ও সন্তানদের সঙ্গে কথা বলতে পারবেন।


এদিকে ভারতের বিরুদ্ধে যদি ওয়েস্ট ইন্ডিজ জিতত, তাহলে কয়েকটা দিন ভারতে থাকতে হত খেলোয়াড়দের। কিন্তু হেরে যাওয়ার পর যে মানসিক কষ্ট এবং দেশে ফিরে না যাওয়ার যে যন্ত্রণা, তা কখনওই একই জায়গায় রাখা সম্ভব হচ্ছে না। প্রাথমিকভাবে কথা ছিল সোমবার ওয়েস্ট ইন্ডিজ দল দেশে উড়ে যাবে। কিন্তু তা যুদ্ধের পরিস্থিতিতে কোনওভাবেই সম্ভব হচ্ছে না। বর্তমানে তারা কলকাতায় হোটেলে বন্দি রয়েছেন। বুধবার দক্ষিণ আফ্রিকা ও নিউজিল্যান্ডের মধ্যে ম্যাচ দেখতে গিয়েছিলেন ওয়েস্ট ইন্ডিজের খেলোয়াড়রা। কিন্তু তাতে তাঁদের মন ভেজেনি। তাঁরা ছটফট করছেন কবে দেশে ফিরে পরিবারের সঙ্গে মিলিত হতে পারবেন।