মাত্র পাঁচ ওভারের একটা স্পেল। খরচ- শূন্য রান । এই পাঁচ ওভারে উইকেট-সংখ্যা- ৫! ক্রিকেটের ১৪৯ বছরের টেস্ট ইতিহাসে কোনো বোলারের এমন পরিসংখ্যান আগে কখনো দেখা গিয়েছে কি? উত্তরটা হল, না।
ওয়েস্ট ইন্ডিজের অলরাউন্ডার জাস্টিন গ্রিভসের নামের পাশে অবশ্য এমনই পরিসংখ্যান দেখা গেল। ত্রিনিদাদের তারৌবায় পাকিস্তানের বিরুদ্ধে প্রথম টেস্টে এমনই অবিশ্বাস্য বোলিং করলেন তিনি। নাম লিখিয়ে ফেললেন ইতিহাসের পাতায়।
টেস্টের তৃতীয় দিনের খেলা চলাকালীন মধ্যাহ্নভোজের বিরতির আগে ও পরে টানা মেডেন ওভারে পাঁচটি উইকেট নেন গ্রিভস। অর্থাৎ, পরপর পাঁচ ওভারে কোনো রান না দিয়ে প্রতিটি ওভারে একটি করে উইকেট তুলে নেন তিনি। টেস্ট ক্রিকেটের ইতিহাসে এমন কীর্তি এই প্রথম। এর আগে সর্বোচ্চ ছিল ইংল্যান্ডের স্টুয়ার্ট ব্রডের টানা চারটি উইকেট মেডেন ওভার, যা তিনি ২০১৬-য় দক্ষিণ আফ্রিকার বিরুদ্ধে করেছিলেন। কিন্তু আরও এক ধাপ এগিয়ে গেলেন গ্রিভস।
তাঁর শিকার হন পাকিস্তানের অধিনায়ক শান মাসুদ, মহম্মদ রিজওয়ান, আমির জামাল, আলি উসমান এবং মহম্মদ আব্বাস। ১১ ওভারে ৬টি মেডেন-সহ ২৭ রানে ৫ উইকেট নেন তিনি। এটিই তাঁর টেস্ট কেরিয়ারের প্রথম পাঁচ উইকেট নেওয়ার সাফল্য।
একসময় পাকিস্তানের স্কোর ছিল ৩ উইকেটে ২৪৪। শান মাসুদ শতরান করে বড় ইনিংসের ভিত গড়ে দিয়েছিলেন। কিন্তু গ্রিভসের আগুনঝরা স্পেলের সামনে মুহূর্তে ভেঙে পড়ে পাকিস্তানের ব্যাটিং। চোখের পলকে ম্যাচের রাশ চলে যায় ওয়েস্ট ইন্ডিজের হাতে।
ম্যাচের শেষে গ্রিভস বলেন, ‘অধিনায়ক রস্টন চেজ আমাকে শুধু একটা কথাই বলেছিল— ‘যা করছ, সেটাই শৃঙ্খলা বজায় রেখে করে যাও। সঠিক জায়গায় বল ফেলো, উইকেট আসবেই’। সেই পরামর্শ মেনেই ধারাবাহিকভাবে একই জায়গায় বল করে গিয়েছি। প্রথমবার টেস্টে পাঁচ উইকেট পেলাম। অবশ্যই খুব খুশি। তবে ম্যাচে এখনও অনেক কাজ বাকি’।
তবে দিনের শেষে পাকিস্তানও লড়াইয়ে ফেরার ইঙ্গিত দেয়। ওয়েস্ট ইন্ডিজের দ্বিতীয় ইনিংসে ১২৬ রানে ৭ উইকেট তুলে নিয়ে তারা ক্যারিবিয়ানদের লিড ১৫৫ রানে আটকে রাখে। তবু দিনের শেষে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু একটাই— জাস্টিন গ্রিভসের সেই ঐতিহাসিক স্পেল, যা টেস্ট ক্রিকেটের রেকর্ডবইয়ে নতুন অধ্যায় লিখে দিল।