‘আমাদের হারানোর কিছু নেই’, জেমি-হীন মোহনবাগানের বিরুদ্ধে নামার আগে হুঙ্কার নর্থইস্ট কোচ বেনালির

Photo: X

প্রতিপক্ষ মোহনবাগান সুপার জায়ান্ট। আইএসএলের অন্যতম শক্তিশালী দলকে হারানো সহজ হবে না, তা জানেন নর্থইস্ট ইউনাইটেডের কোচ হুয়ান পেদ্রো বেনালি। কিন্তু প্রতিপক্ষের শক্তি দেখে পিছিয়ে যেতেও নারাজ তিনি। বরং স্পষ্ট বার্তা দিয়েছেন তিনি, ‘আমাদের হারানোর কিছু নেই। মাঠে নিজেদের সবটুকু উজাড় করে দেব’।

আজ, সোমবার, গুয়াহাটির ইন্দিরা গান্ধী অ্যাথলেটিক স্টেডিয়ামে মোহনবাগানের বিরুদ্ধে ম্যাচ দিয়ে আইএসএলের ২০২৬-২৭ মরসুম শুরু করতে চলেছে নর্থইস্ট ইউনাইটেড। ঘরের মাঠে সমর্থকদের সামনে ভাল শুরু করাই লক্ষ্য বেনালির দলের। মরসুমের প্রথম ম্যাচের আগে সাংবাদিক বৈঠকে দলের প্রস্তুতি, ভারসাম্য এবং মোহনবাগানের শক্তি নিয়ে বলেন বেনালি।

মোহনবাগানকে আটকাতে তিন রকম পরিকল্পনা


প্রতিপক্ষের শক্তি সম্পর্কে যথেষ্ট ওয়াকিবহাল বেনালি। মোহনবাগানের দলে অভিজ্ঞতা ও দক্ষতার অভাব নেই। তাই তাদের বিরুদ্ধে নির্দিষ্ট একটি পরিকল্পনা নিয়ে মাঠে নামতে চান না নর্থইস্ট কোচ। পরিস্থিতি অনুযায়ী কৌশল বদলানোর প্রস্তুতি রাখছেন তিনি।

বেনালি বলেন, ‘মোহনবাগান দুর্দান্ত একটা দল। ওদের দলে প্রচুর দক্ষতা ও অভিজ্ঞতা রয়েছে। ওরা কী ভাবে খেলবে এবং আমরা কী ভাবে আক্রমণ ও রক্ষণ করব, তার উপর নির্ভর করবে ফল। আমাদের প্রথম, দ্বিতীয়, এমনকি তৃতীয় পরিকল্পনাও তৈরি রাখতে হবে’।

অর্থাৎ, মোহনবাগানকে আটকানোর জন্য শুধু রক্ষণ সামলানো নয়, আক্রমণের ক্ষেত্রেও সঠিক কৌশল বেছে নিতে চায় নর্থইস্ট। প্রতিপক্ষের খেলার ধরন বুঝে দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়াই হতে পারে ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারণের অন্যতম চাবিকাঠি।

দলের ভারসাম্যেই ভরসা

নতুন মরসুমে নিজেদের দলের শক্তি নিয়েও আশাবাদী বেনালি। তাঁর মতে, এ বারের নর্থইস্ট দলে ভারসাম্য রয়েছে। একাধিক জায়গায় খেলতে পারেন এমন ফুটবলার থাকায় প্রতিপক্ষ অনুযায়ী দল সাজানোর সুযোগও বেশি।

নর্থইস্ট কোচের কথায়, ‘এ বছর আমাদের দল যথেষ্ট ভারসাম্যপূর্ণ। প্রতিপক্ষ এবং আমরা কী ধরনের ফুটবল খেলতে চাই, তার উপর নির্ভর করে এমন অনেক ফুটবলার রয়েছে, যাঁরা বিভিন্ন পজিশনে খেলতে পারেন। আমাদের ধারাবাহিক হতে হবে। দলে জায়গা পাওয়ার জন্য নিজেদের মধ্যে প্রতিযোগিতা থাকাটাও গুরুত্বপূর্ণ। তাতে প্রত্যেকে তৈরি থাকবেন’।

মরসুমের শুরু থেকেই সেই ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে চান বেনালি। শুধু প্রথম একাদশের ফুটবলারদের উপর নির্ভর না করে গোটা দলকে তৈরি রাখার উপর জোর দিচ্ছেন তিনি।

মোহনবাগান দলে নেই জেমি

এদিকে মোহনবাগান দলের সঙ্গে গুয়াহাটিতে যেতে পারলেন না তাদের অস্ট্রেলীয় স্ট্রাইকার জেমি ম্যাকলারেন। তিনি এখনও পুরোপুরি চোট সারিয়ে খেলার মতো অবস্থায় আসেননি। দলের সঙ্গে নেই তরুণ ফরোয়ার্ড কিয়ান নাসিরিও। তাঁরা হয়তো দিল্লিতে পরের ম্যাচের আগে যোগ দেবেন। রবিবার সকালে অনুশীলন করে দুপুরের বিমানে গুয়াহাটিতে এসে পৌঁছেছে কলকাতার দল।

এ মরসুমে দুবার নর্থইস্টের বিরুদ্ধে খেলেছে মোহনবাগান। দু’বারই ম্যাচ অমীমাংসিত থেকে যায়। আলাদিন আজারেই, জিথিন এমএস-দের মতো ছটফটে, আগ্রাসী আক্রমণ ভাগের খেলোয়াড় থাকা সত্ত্বেও তাদের এই হার কিছুটা অপ্রত্যাশিতই বলা যায়। তবে গত দুবারের ম্যাচের ফলের প্রভাব এই ম্যাচে পড়বে না বলেই জানিয়ে দিলেন মোহনবাগানের গ্রিক কোচ প্যানায়োতিস দিমপেরিস। কারণ, ওই দুই ম্যাচে পরিবেশ, পরিস্থিতি, দলের অবস্থা একেবারে অন্যরকম ছিল বলে মনে করেন তিনি।

জানা গিয়েছে, তাঁর দলে ফিটনেস সমস্যা রয়েছে। আলবার্তো রদ্রিগেজ, মিগেল ফিগেরা, সামির জেলকোভিচ, লি আরউইন—এই চার বিদেশিই নাকি এখনও ৯০ মিনিট খেলার অবস্থায় আসতে পারেননি। তবু সোমবার সন্ধ্যায় এই চার বিদেশিকে খেলানো হতে পারে। কারণ, এ ছাড়া তাদের আর কোনো উপায় নেই। গত ম্যাচে চোট পাওয়া দেজান দ্রাজিচের মাথায় এখনও ব্যান্ডেজ বাঁধা। এই ম্যাচে তাঁকে খেলানো হবে কি না, এটা বড় প্রশ্ন। লিস্টন কোলাসো ও আপুইয়া এই ম্যাচে ফিরে আসতে পারেন বলে খবর রয়েছে।

সমর্থকদের মুখে হাসি ফোটাতে চান বেনালি

মোহনবাগানের বিরুদ্ধে ম্যাচে ফল কী হবে, তা নিয়ে আগাম কোনও প্রতিশ্রুতি দিতে চাননি নর্থইস্ট কোচ। বরং তাঁর কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ, ফুটবলারেরা যেন মাঠে নিজেদের সেরাটা দেন এবং সমর্থকেরা যেন দলকে নিয়ে গর্ব করতে পারেন।

বেনালি বলেন, ‘আমি শুধু চাই, আমার ফুটবলারেরা সুস্থ থাকুক এবং সমর্থকদের মুখে হাসি ফুটুক। চাই, মানুষ মাঠে আসুন, গ্যালারি ভর্তি হোক এবং নিজেদের দলকে নিয়ে গর্ব অনুভব করুন। আমাদের হারানোর কিছু নেই। মাঠে আমরা সবটুকু উজাড় করে দেব। তার পরে এই ম্যাচ ভুলে পরের ম্যাচের প্রস্তুতি শুরু করব’।

মোহনবাগানের কাছে এই ম্যাচ মরসুমের প্রথম পরীক্ষা। অন্য দিকে, ঘরের মাঠে বেনালির নর্থইস্টের সামনে সুযোগ শক্তিশালী প্রতিপক্ষকে হারিয়ে নিজেদের ক্ষমতা প্রমাণ করার। সবুজ-মেরুনের অভিজ্ঞতা বনাম নর্থইস্টের লড়াকু মানসিকতা—মরসুমের প্রথম ম্যাচে এই দ্বৈরথই নজর কাড়তে পারে।

ম্যাচ শুরু সন্ধ্যা ৭.৩০-এ। সরাসরি সম্প্রচার দেখা যাবে ইউটিউবে আইএসএলের চ্যানেলে, সোনি স্পোর্টস নেটওয়ার্কে ও সোনি লিভ অ্যাপে।